ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় প্রবাসী মৃত্যুর অভিযোগ

১ মার্চ, ২০২০ : ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ ৫৭৫০

আসাদুজ্জামান আসাদ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মনির এর ভুল চিকিৎসায় ও ইমারজেন্সি রুমের ডিউটিরত কর্মচারিদের অবহেলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের মোহাম্মদপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আবদুর রহমান এর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন মৃত ব্যাক্তির স্বজনেরা।

২৯ ফেব্রুয়ারী রাত ১১টায় ডিউটি ডাঃ মামুন এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু হয় প্রবাসী আবদুর রহমানের।

মৃত আবদুর রহমানের বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন তেপান্তর কে বলেন,আমার বাবা জানুয়ারী মাসে কুয়েত থেকে দেশে ফিরেন।গত ১০ দিন আগে গ্যাস্টিক থেকে বমি হওয়ায় এবং অসুস্থ বোধ করায় উনাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাস্পাতালের ১১২ নম্বর রুমে ডাঃমনির স্যারকে দেখায়।
ডাঃমনির জানান আমার বাবার হার্টের সমস্যা আছে।এবং ওনি বিভিন্ন পরীক্ষা দেন কিন্তু পরীক্ষা করানোর আগেই বাবার নাভিতে ওনি ৯টা ইঞ্জেকশন দেন তারপর ওনি বলেছেন এখন বাবা সুস্থ আছেন।

কিন্তু গত কিছুদিন আগে বাবা আবার অসুস্থ হলে ডাঃমাসুম কে দেখালে তিনি বলেন আমার বাবার হার্টের কোন প্রব্লেম নাই।ওনার লাঞ্চ এবং কিডনিতে পানি আছে।
আজ বাবার শ্বাস কষ্ট হচ্ছিল তখন তাড়াতাড়ি সদর হাস্পাতালে নিয়ে আসি কিন্তু ইমারজেন্সি রুমের ডিউটি ডাক্তার বা ষ্টাফ কাউকেই ডেকে আনতে পারিনি। প্রায় ৩০ মিনিট পর ওনারা আসেন এবং বাবাকে অক্সিজেন দেন। ডিউটি ডাক্তার কিছু ইঞ্জেকশন লিখে দেন। সেই গুলো এনে দিলে ওনি ইঞ্জেকশন গুলা পুশ করার পরই মারা গেছেন আমার বাবা।

ডিউটি ডাক্তার মামুনের কাছে এই ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি তেপান্তরকে জানান, আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে গত ১০ফেব্রুয়ারিতে জয়েন করেছি।আজকে উল্লেখিত রুগি শ্বাস কষ্ট জনিত কারণে নীল বর্ন হয়ে গিয়েছিল। আমি দেখার পরে সাথে সাথে অক্সিজেন দিয়েছি।তারপর কটসন,স্যানোফি ও গ্যাসের ইঞ্জেকশন পুশ করার মাঝেই ওনি মারা যান।ওনারা রুগিকে হাসপাতালে আনতে অনেক দেরি করেছেন।

ডা. একরামুর রেজা টিপু

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ একরামুজ রেজা টিপু বলেন, আমি একজন কারর্ডিওলজিষ্ট।আমি ওনার রিপোর্টগুলো দেখেছি।
ওনার গত১৩ তারিখ হার্ট এটাক হয়েছিল।তাই ওনার নাভিতে ৯টা ইনজেকশন দেয়া হয়েছিল।ওনার অবস্থা আশংকাজনক ছিল তাই ওনাকে পিটিসি এডভাইস করা হয়েছিল।
আজকে রুগির চিকিৎসায় যে ইনজেকশন গুলা দেয়া হয়েছে এইগুলোও সঠিক।ওনি এখানে মারা যাওয়ায় দায়ভার আমাদের উপর আসছে।ওনারা আরেকটু দেরি করলে বাসায় মারা যেতে পারত।
তিনি আরো বলেন যে, আগের চিকিৎসাও সঠিক ছিল। ডাঃ মাসুমা যদি রুগি ও রুগির আত্নীয়দের এই কথা বলে থাকেন তবে ওনার কথা ভুল। ওনাদের কেন এই কথা বলেছে আমি সেই বিষয়ে ডাঃমাসুমাকে জিজ্ঞাসা করব।

এ সময় ওনি রুগির স্বজনদের বলেন, আমাদের এখানে দায়িত্বরতরা কেন অক্সিজেন দিতে দেরী করেছে এ নিয়ে আপনার লিখিত অভিযোগ দেন।আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মানুষ মারা যাবেই। তা নিয়ে যদি সিনক্রেট হয় তবে আমাদের হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে হবে।

হাসপাতালে উপস্থিত জেলাছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভন তেপান্তরকে বলেন,মারা যাওয়া ব্যাক্তি আমার গ্রামের মানুষ।ঘটনা জানতে পেরে আমি এখানে এসেছি।আমার সিভিল সার্জেন এর সাথে কথা হয়েছে। উক্ত ঘটনার সাথে যেই সব ডাক্তার জরিত ছিল আমরা তাদের নামে আগামীকাল লিখিত স্বারক জমা দিব।

উপস্থিত শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মিকাইল হোসেন হিমেল বলেন,আমি সদর হাসপাতালের সামনের ফার্মেসিতে এসেছিলাম ব্যাক্তিগত কাজে।মানুষের চিৎকার-আহাজারি শুনে ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারলান এখানের ষ্টাফরা রোগিকে সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেয়নি।অক্সিজেন দিতেও প্রায় আধা ঘণ্টা দেরি করেছ। ডিউটিরত চিকিৎসক ও কর্মচারিদের অবহেলায় রুগি মারা গেছেন। সদর হাসপাতালে আসলে প্রায় সময় শুনা যায় এখানের ডিউটিরত ডাক্তার ও স্টাফরা চিকিৎসা নিতে আসা রুগি ও রুগির সাথে আসা লোকজনের সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং দায়িত্বে অবহেলা করেন। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার এ এস আই শহিদুল ইসলাম জানান,আমরা থানা থেকে ফোন পেয়ে এখানে এসেছি।
এসে দেখি মানুষের ভীড় এবং অনেক চিৎকার চেচামেচি। তখন আমরা হাসপাতালের সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা চালায়।তবে এখানে এই ঘটনা নিয়ে কোন প্রকার ভাংচুর বা অশৃংখল ঘটনা ঘটেনি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।