ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলষ্টেশনে নিরাপত্তাহীনতা,বিশ্রামাগার ও টিকেট সংকটে ভুগছে যাত্রীরা

৪ মার্চ, ২০২০ : ৪:৪৫ অপরাহ্ণ ৭৫৩

আসাদুজ্জামান আসাদ: বাংলাদেশ পূর্বাঞ্চল রেল পথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ষ্টেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে ষ্টেশন।
কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ ষ্টেশনে সবচেয়ে অবহেলিত যাত্রীরা। যাত্রীদের জন্য নেই কোন সুযোগ সুবিধা।
বিশ্রামাগার সংকট,টিকেট কালোবাজারি আর রাতের ট্রেনের যাত্রীরা ভোগেন নিরাপত্তাহীনতা ও অন্ধকারাচ্ছন্নতায়।

১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে ষ্টেশন। ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালীগামী সকল ট্রেনকেই যেতে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলষ্টেশন হয়ে।

প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০টি অন্তনগর ট্রেন যাতায়াত করে এই পথে।গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিনহাজার টিকেট বিক্রি হয় এই ষ্টেশনে।
যা হতে এই ষ্টেশনে মাসে কোটি টাকার উপরে রাজস্ব আয় হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের।

এই ষ্টেশনে যাত্রীদের টিকেটের বেশি চাহিদা থাকলেও নেই যথেষ্ট আসন সংখ্যা। এক সাপ্তাহ আগে গেলেও কাউন্টারে মিলছে না ট্রেনের টিকেট। এর সুযোগ নিয়ে সবার সামনেই প্রতিনিয়ত চলছে টিকেট কালোবাজারি হচ্ছে।চড়া দামে টিকিট বিক্রি করছে তারা ।

বিশ্রামাগার এর নামে আছে অপরিষ্কার ভাংগাচোরা চেয়ারের একটি রুম।যার বাথরুমের দুর্গন্ধে রুমে বসা দায়।আর প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার থাকলেও তা সর্বদা তালা দেয়া থাকে।ষ্টেশন মাষ্টার ও তার লোকজনরা ব্যবহার করছে সেই রুম।

সিসিটিভি ক্যামেরা যথেষ্ট পরিমান না থাকায় ষ্টেশনে প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরি,পকেটে মার,ছিনতাই এর ঘটনা। ষ্টেশন এবং ষ্টেশনের বাইরে পুনিয়াওট রেলগেইট এর এখানে চলন্ত ট্রেন থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে প্রতিনিয়ত।ষ্টেশনের আশেপাশে পর্যাপ্ত পরিমান আলোর ব্যবস্থা না থাকার সুযোগ নিচ্ছে ছিতাইকারী এবং মাদকসেবীরা।

রেল ষ্টেশনের আসন সংখ্যা বাড়াতে এবং অন্তনগর সকল ট্রেনের যাত্রা বিরতির জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাগরিক ফোরাম সহ অনেকগুলা সামাজিক সংগঠন।

জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি পিযুষ কান্তি আচার্য তেপান্তরকে জানান,ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী যাত্রাপথ হিসেবে রেলপথকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে।এখানে এত যাত্রী থাকা সত্তেও অন্তঃনগর অনেক ট্রেনেরই যাত্রা বিরতি নেই এবং যেই ট্রেন গুলা আছে তার আসন সংখ্যা সীমিত। এই সমস্যাগুলা সমাধানের জন্য আমরা ৪ দফা দাবী নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ আন্দোলন করছি। এই ৪দফা দাবী ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর প্রাণের দাবী।

সাংবাদিক জাবের রহিম বিজন বলেন,ষ্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নাজুক।
জি আর পি পুলিশ ফাড়িতে কর্মরত ৯ জনের মধ্যে ২ জন থাকে আশুগঞ্জ ষ্টেশনে।তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া ষ্টেশন ও তার আশেপাশে চুরি,ছিনতাই,টিকেট কালোবাজারি বেড়েই চলেছে।

এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জি আর পি ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃমোজাম্মেল খান জানান,এই ষ্টেশনের যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় আমাদের সবাইকে নিরাপত্তা দিতে হিমসিম খেতে হয়।এই ফাঁড়িতে আরো লোকসংখ্যা প্রয়োজন।

ষ্টেশন মাষ্টার মোঃ শোয়েব জানান,টিকেট কালোবাজারি রুখতে আইনশৃংখলা বাহিনী অভিজান চালাচ্ছে তবু প্রতিকার মিলছেনা।বিশ্রামাগারগুলা সংস্কারের আবেদন করা হয়েছে।আর লাইট সল্পতা আছে সত্যি।খুঁটির অভাবে লাইট সব জায়গায় লাগানো যাচ্ছে না। আমরা খুঁটির জন্য আবেদন করেছি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।