নারী দিবস: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাহসী নারী নিশাতের গল্প

৮ মার্চ, ২০২০ : ১:৪৪ অপরাহ্ণ ১৮৯৭

আসাদুজ্জামান আসাদ: ওনি একজন পূর্ণ নারীত্বের অধিকারে হয়েছেন স্ত্রী, সন্তানের মা, পরিবারের সামাজিক দায়িত্ব পালন করা এক একজন গৃহিণী। আপাতদৃষ্টিতে এ সব কিছুই একজন নারীর গতানুগতিক উপাধি। কিন্তু সব ছাড়িয়ে হাজার মানুষের অভিভাবক,অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠা অনেক নারীর পক্ষেই সম্ভব হয়ে উঠে না।

সংসার সামলিয়ে পরিবারের অনুপ্রেরণায়, সেটাই তিনি পেরেছেন। নিজের মেধা, মননশীলতা, কর্মনিষ্ঠা এবং একাগ্র প্রচেষ্টার কারণে ওনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোকিত মুখ। একজন আইনজীবী,সমাজকর্মী,জন প্রতিনিধি,রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব ও হাজারো নারীর অনুপ্রেরণা। বলছি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডঃ তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত এর কথা। ৮ মার্চ নারী দিবস উপলক্ষে এই নারীর এতকিছু হয়ে ওঠার গল্পই থাকছে আজকের লিখায়।

১৯৭৫ সালের ২ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুনিয়াউট স্বনামধন্য খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নিশাত।
১৯৮৯ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন । সেসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা এবং পরবর্তীতে জেলা ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নির্বাচিত হয়ে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘ এ সময়ে দলের আন্দোলন-সংগ্রামের সক্রিয় অংশগ্রহণের জেরে একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামিও হয়েছেন তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিশাত ছিলেন গতবারের সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান।

এর আগে প্রতিবন্ধীদের সেবায় দীর্ঘ সময় নিয়োজিত এই নারী নেত্রী ১৫ বছর সুইড বাংলাদেশ পরিচালিত আসমাতুন্নেছা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সুইড বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক।

বর্তমান সময়ে জেলার নারী রাজনীতিকদের এক উজ্জল মুখ তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত। তিনি নবম সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হওয়ার জন্যে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। যেখানেই বিপদে কোনো নারী, সেখানেই নিশাত। কখনো হাসপাতালের বারান্দায় অসহায় অন্তঃসত্তার পাশে, কখনো বা অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন ছায়া হয়ে। পারিবারিক কলহে অসহায় নারীদের আইনী সহায়তা প্রদান,বাল্য বিয়ে রোধ, ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে বরাবর সোচ্চার তার কন্ঠ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি হিসেবে কয়েক বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এই নারী নেত্রী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মহিলাদের ক্রীড়া উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রয়েছে তার।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ মাহবুবুল বারী মন্টু বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য দীর্ঘদিন যাবত সদর উপজেলায় নারীদের রাজনীতিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য দারুণভাবে কাজ করছে নিশাত।
নিশাতকে কখনোই দেখিনি নিজের স্বার্থে কোনো কিছু করতে।তার রাজনিতির শুরু থেকেই দেখছি শুধু নারীদের কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় সে চেষ্টা করতে। সবসময় গরীব-দুঃখিদের পাশে থাকে সে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিবন্ধীদের সংগঠন ড্রিম ফর ডিসঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশনের সভাপতি হেদায়তুল আজিজ বলেন, ওন একজন সমাজ ও মানব সেবী মানুষ।ওনি দীর্ঘদিন প্রতিবন্ধিদের নিয়ে কাজ করেছেন।তা ছাড়াও ওনি নারীনেত্রী হিসেবে সব সময় অসহায় নারীদের পক্ষে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে।

ওনার সহকর্মী এডঃসাইফুল ইসলাম বলেন,নিশাত আপা সমাজসেবী,রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের বাইরে একটা বড় পরিচয় ওনি একজন আইনজীবী। ওনি নিয়মিত ভাবেই ওনার পেশায় নিয়োজিত আছেন এবং সর্বদা গরীব দুঃখীদের পাশে থাকেন।বিষেশ করে নারী সংক্রান্ত যে কোন মামলা-মোক্কাদ্দমায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে থাকেন।

আজ নারী দিবসে তাসলিমা নিশাত এর সাথে আলাপচারিতায় উনি জানান,আমাদের সাধারন মধ্যভিত্ত পরিবারে জন্ম।বাবা ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ মানুষ।আমাদের পরিবারে আমরা ৬ বোন কোন ভাই নেই আমাদের।
একটা ছেলের জন্য বাবা অনেক আক্ষেপ করতেন।
এক সময় এই বিষয়টি আমার জেদ হয় এবং আমি বাবার ছেলে হয়ে দেখাব মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয়।তারপর থেকেই ব্রাহ্মণনাড়িয়া সরকারি কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে পথচলা শুরু।আর তখন থেকেই আমি নারী অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছি।
আমি নারী দিবসে সকল নারীদের সাহসী হওয়ার আহবান জানায়।কারন নারী শব্দটা ব্যবহার করে আমাদের আলাদা করার কিছু নেই।সবাই মানুষ অন্যরা যা পারে আমরাও পারব করতে এই সাহস নিয়ে এগিয়ে গেলেই নারী অধিকার আদায় সম্ভব বলে মনে করি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।