বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মূর্হুতেই বেড়ে গেলো মাস্কের দাম

৮ মার্চ, ২০২০ : ৭:৫০ অপরাহ্ণ ৮৩৬৫

আসাদুজ্জামান আসাদ: করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মুখে লাগানোর  মাস্কের সঙ্কট তৈরি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তবে কিছু জায়গায় মাস্ক মিললেও কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। বর্তমানে ৫ টাকার মাস্ক কিনতে হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা দামে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩ জন শনাক্ত হয়েছে জানার সাথে সাথেই কয়েকগুন দাম বেড়ে গেছে সার্জিকাল ফেস মাস্ক এর। করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে ফেস মাস্কের বাজারে আরো আগেই। তবে আজ হঠাৎ কয়েকগুণ দাম বেড়েছে সার্জিকাল ফেস মাস্ক ও ফিল্টার ফেস মাস্কের। দাম বাড়লেও অধিকাংশ ঔষধের দোকানে মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কোন ফার্মেসিতেই পাওয়া যাচ্ছে না বর্তমানে এই জিবন রক্ষাকারী মাস্ক।

সরজমিনে শহরের সদর হাসপাতালের আশেপাশের পপুলার,মাহী,মা,আঁখি ড্রাগ,কিসমত,খেয়াম,মুশকিল আসান,আধুনিক ফার্মেসির কোনটাতেই পাওয়া যায়নি ফেইস মাস্ক। এই সুযোগে সংকটের কথা বলে মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ী ও ফার্মেসি মালিকরা।

আধুনিক ফার্মেসির এক বিক্রেতা বলেন,সার্জিক্যাল মাস্ক এর দাম হুট করেই ৫৫টাকা বক্স থেকে ১৪-১৫শ টাকা বক্স হয়ে গেছে।তাই আমরাও কিনতে পারছি না। আশরাফ মেডিক্যাল এর মালিক নাজির বলেন,পেঁয়াজের সিন্ডিকেট এর মত মাস্ক এরও কৃত্তিম সংকট দেখিয়ে সিন্ডিকেট হচ্ছে।দাম ১০-২০গুন বেড়ে গেছে,তাই আমরা পাচ্ছি না।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১৫ দিন আগেও চীন থেকে আমদানিকৃত প্রোমিস্কো ব্র্যান্ডের সার্জিকাল ফেস মাস্কের পাইকারী বাজার দর ছিল ৫৫ টাকা (১ বক্সে ৫০টি)। পাশাপাশি এই সার্জিকাল ফেস মাস্কের প্রতিটির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ছিল ৫ টাকা। কিন্তু সোমবার প্রতি বক্স সার্জিকাল ফেস মাস্ক পাইকারী ৭০০ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ কম থাকায় প্রতিটি মাস্ক খুচরা বাজারে জায়গা বেধে ৩০-৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গেট ওয়েল ব্র্যান্ডের সার্জিকাল ফেস মাস্কের পাইকারী বাজার দর ছিল ৭০ টাকা (১ বক্সে ৫০টি)। প্রতিটি মাস্ক খুচরা ৫ টাকায় বিক্রি হতো। গত ৫ দিন যাবত এই মাস্কও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। সার্জিকাল ফেস মাস্ক ছাড়াও বাজারে ফিল্টার মাস্কের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে প্রত্যেকটি ফিল্টার মাস্কের পাইকারী মূল্য ২০ টাকা ছিল। যা বাজারে খুচরা সর্বোচ্চ ৪০ টাকায় বিক্রি হতো। কিন্তু বর্তমানে ২০০ টাকায়ও ফিল্টার মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না। করোনাভাইরাসের শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশে মাস্কের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে আমদানিকারকরা।

এই ব্যপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডাঃ তাসরিন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশে বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি চীনের অধিকাংশ কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই এখন অর্ডার দিলেও দুই থেকে তিন মাসের আগে এ মাস্ক আসার সম্ভাবনা নাই বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি।

মাস্ক কিনতে আসা মধ্যপাড়ার তাজুল ইসলাম শিপন বলেন,যেখানে দেশের মানুষকে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচানোর জন্য মাস্ক ফ্রি তে বিলি করার কথা। সেই যায়গায় মাস্ক খুঁজেও পাচ্ছি না।কিছু দোকানে মিললেও তা আকাশ ছুয়া দাম। এই ব্যপারে প্রশাসনের নজর দেয়া উচিত।মানুষ বাঁচলে তো দেশ বাঁচবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।