আখাউড়ায় পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় প্রবাসীর ঠোঁট কেঁটে নিল দেনাদার

৯ মার্চ, ২০২০ : ২:১৩ অপরাহ্ণ ৬৪৪০

আসাদুজ্জামান আসাদ: আখাউড়ায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে নিজের ঠোট হারালেন এক প্রবাসী। উপজেলার চান্দপুর এলাকায় গ ৪ মার্চ রাতে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। এসময় মারধরও করা হয় মালশিয়া প্রবাসী সাইফুল ইসলাম নামের এই ব্যক্তিকে। আহত সাইফুল ইসলাম চান্দপুর গ্রামের হাজী আফতাব মিয়ার ছেলে। এঘটনায় আখাউড়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর অভিযু্ক্ত একই গ্রামের আলমগীর পলাতক রয়েছে।

জানা গেছে, আলমগীর হোসাইন এর বাড়িতে পাওনা টাকা দেয়ার ব্যাপারে কথা বলার জন্য ডেকে নিয়ে আলমগীর ও তার সহযোগিরা আতর্কিত হামলা চালায় পাওনাদার সাইফুলের উপর। প্রানে মারার উদ্দেশ্য ছুড়িঁ দিয়ে গলায় আঘাত করলে সাইফুল ইসলাম এর ঠোঁট কেটে নিচে পড়ে যায়।

এ ব্যাপারে আহত সাইফুল ইসলাম তেপান্তর কে বলেন,আমার বড় ভাই, আমি এবং আলমগীর তিনজনই মালয়েশিয়া প্রবাসী। এবং আমাদের একই গ্রামে পাশাপাশি বাড়ি। এই সূত্রে মালশিয়ায় আমার বড় ভাই এবং আলমগীর এক সাথে ব্যবসা শুরু করে কিন্তু সে ব্যবসায় ছল-চাতুরী করে আমাদের টাকা পয়সা মেরে দেয়। তখন মালশিয়া পুলিশ তাকে আটক করে। এই বিষয় তার বাড়ির মানুষ জানতে পেরে দেশে আমাদের পরিবারকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিতে থাকে। কয়েক মাস আগে আমার ভাই মালশিয়া হতে একবারে দেশে চলে আসে।তখন গ্রাম্য শালিশ এর মাধ্যমে আলমগীর আমাদের ১০লক্ষ টাকা প্রদান করার রায় হয়। তখন সে ও তার পরিবার এই রায় মেনে নিয়ে কিছুদিন সময় চায়। কিন্তু আলমগীর দেশে আসার পর টাকা না দিয়ে আমাদের আবার হুমকি -ধমকি দিতে থাকে।

অভিযুক্ত আলমগীর

গত মাসের শেষের দিকে আমি ছুটিতে দেশে আসি এবং এই বিষয় নিয়ে আবার শালিস ডাকা হয়। গত ৪ই মার্চ শালিস বসলে আমাদের খবর দিলে আমরা যাই।শালিস চলা কালিন সময়ে হঠাৎ আলমগীর আমার বড় ভাই হারুনুর রশিদকে মারধর শুরু করে। তাকে বাচাঁতে গেলে আলমগীর এর ছোট ভাই আমাকে ঝাপটে ধরে এবং আলমগীর তার কোমর থেকে কিরিজ বাহির করে আমাকে মারার উদ্দেশ্য গলা বরাবর ছুড়ি চালায়। তখন আমি ছুটার চেষ্টা করলে কিরিজ এর আঘাত আমার ঠোঁটে লেগে আমার ঠোঁট কেটে নিচে পড়ে যায়।তবু তারা আমাকে সহ আমার দুই ভাই কে মারধর করতে থাকে।

আমাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার সদর হাসপাতালে নিলে ডাক্তার আমাকে ঢাকা পাঠায় এবং আমার ভাই হারিজ মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা। সে এখনো হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছে। এ ঘটনায় আখাউড়া থানায় মামলা হয়েছে গত ০৫/০৩/২০২০ ইং।

মামলার ব্যপারে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা(আইও) এস আই মাসুদ আলম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তেপান্তরকে জানান, ঘটনার তদন্ত করে আমরা ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। মামলার পর আমরা কয়েবার অভিযান চালিয়েছি আসামির বাড়িতে, তবে কাউকে খুঁজে পাইনি। ঘটনার পর থেকে আসামিরা বাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছে।তাদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চলছে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।