জেলা আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র বিরুধী কর্মকান্ডে ৫ নেতার সাংবাদিক সম্মেলন

৬ অক্টোবর, ২০১৯ : ৩:৫৮ অপরাহ্ণ ৪০৩

তেপান্তর রিপোর্ট:   ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র বিরুধী কর্মকান্ডের অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন জেলা আওয়ামীলীগ ও তার অংগ সংগঠনের ৫ জন নেতা।রোববার দুপুর ১২টায় শহরের মৌলভীপাড়ার প্রয়াত সাংসদ লুৎফল হাই সাচ্চুর বাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ৫ নেতারা হলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শফিকুল আলম এমএসসি, দলের উপদেষ্টা আমানুল হক সেন্টু, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মিনারা আলম ও জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি কাউছার আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে আমানুল হক সেন্টু লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় তিনি বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সদর আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে কর্মীরা যে আমাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রস্তাব দিয়েছে এবং তা গ্রহন করেছে তা সম্পুর্ণ আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রবিরুধী।এবিষয়ে সদর আওয়ামীলীগ বা পৌর আওয়ামীলীগ কেউই কোন ব্যাবস্থা নিতে পারেনা কিংবা সুপারিশ করতে পারেনা।সুতরাং উপজেলা ও শহর আওয়ামীলীগের এরকম কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত অধিকার নেই।তাদের এমন কর্মকান্ড সম্পুর্ণ এখতিয়ার বর্হিভুত।
সেন্টু বলেন, আমিসহ ৫ নেতার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার করা হচ্ছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। প্রতিটি নির্বাচনেই আমরা নৌকার প্রতিকের পক্ষে বা প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছি। লিফলেট বিতরন করেছি, ও প্রার্থীদের পক্ষে পোষ্টার লাগিয়েছি।আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কাছে আমাদের জনপ্রীয়তায় নারাজ হয়ে জেলার সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক আমাদের উপর নৌকার বিরুধীতার অভিযোগ তুলেছেন। আমাদের বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রিয় কমিটির কাছে বহিষ্কারাদেশ অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেন।এবং আমরা কেউ আওয়ামীলীগের না বলেও বলতে থাকে।সুতরাং এসব অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমুলক।
আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রের ৪৭.(ট) ধারা মোতাবেক বহিষ্কারের বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সুপারিশের পর কেন্দ্রীয় কমিটি তদন্ত না করলে কিংবা কার্যনির্বাহী সংসদ তিন মাসের মধ্যে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন না করলে শাস্তি মওকুফ বলে গণ্য হবে। সেই অনুযায়ী জেলার সভাপতি-সম্পাদকের আমাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ নাকচ হয়ে গেছে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় সেখানে ম্যাজিস্ট্র্যাট ও পুলিশ গিয়ে সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে দেন। এসময় তাদের সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন নেতারা। শেষে সংবাদ সম্মেলন তাৎক্ষণিক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।তখন কেন সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হবেনা পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্র্যাটের কাছে তার লিখিত ভাবে কারন জানতে চেয়েছেন নেতারা।
এবিষয়ে হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা যেন কোথাও কোন মিটিং-সমাবেশ না করতে পারি সেজন্য তারা প্রশাসনকে দিয়ে তা বন্ধ করে দিচ্ছেন।গত কিছুদিন আগে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মাহবুবুল আলম হানিফের সাথে দেখা করে অভিযোগ করেছি।তখন তারাই আমাদেরকে বিভিন্ন মিটিং ও সমাবেশে অংশগ্রহন করার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু জেলাতে তারা আমাদেরকে করতে দিচ্ছেনা।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।