ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় অতিষ্ট সাধারণ মানুষ

১১ মার্চ, ২০২০ : ৫:১১ অপরাহ্ণ ১৫০৮

আসাদুজ্জামান আসাদ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত এক সপ্তাহ যাবত বিদ্যুতের অভাবে জনসাধারনের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। এই দিনগুলিতে প্রায় নিয়মিত ভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় এই দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সরকারি-বেসরকারি ১১টি ইউনিট থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।সেই গ্রীড মেরামতের জন্য গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকবে জানিয়ে গত ৫ই মার্চ থেকে দুইদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সহ ৫টি উপজেলায় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার কিছু এলাকায় দিনের বেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবেনা বলে জানিয়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

এরপর থেকে প্রতিনিয়ত চলছে দিনের বেলা বিদ্যুৎ চলে যাওয়া।সকাল থেকে সন্ধ্যা-রাত অব্দি বিদ্যুৎ থাকছে না বিভিন্ন এলাকায়।
গত ১০ মার্চ থেকে পৌরসভার প্রায় সব এলাকাতে দিনের বেলা থাকছেনা বিদ্যুৎ। একই কারণ উল্লেখ্য করে মাইকিং করেছে পিডিবি।

এ বিষয়ে অভিযোগ করে আজ বোধবার সকালে পৌর এলাকার দিঘীর পাড়ের বাসীন্দা হোসনা আলম জানান, বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়ে মাইকিং করার বিষয়টি জানি না। আমার ছেলের কাছ থেকেই প্রথম শুনেছি গতকাল সকালে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ এ বিষয়ে মাইকিং বা প্রচারণা চালিয়েছে কিনা তা জানা নেই।
আমি বাড়ির কাজে হাত দিয়েছি, লোকজন গতকাল এসে ফিরে গেছে। আজও কাজ শুরু করার পর কারেন্ট চলে গেছে।বড় বিপদে আছি।

শান্তিবাগের বিপ্লব বলেন,বাসায় ছোট বাচ্ছা আছে তাদের জন্য ইখুব কষ্ট হয় কারেন্ট ছাড়া।তাছাড়াও বাসায় রান্না-খাবার-গোসল সহ কারেন্ট ছাড়া দুর্ভোগ বেড়ে যায়।

এ নিয়ে সব চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
শহরের সমবায় মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা জুয়েল হোসেন জানান, মার্কেটে কারেন্ট না থাকায় কাষ্টমারও আসেনি।আর সারাদিন অন্ধকারে ব্যবসা পরিচালনা করাও কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

কাজিপাড়া এলাকার লন্ড্রি দোকানি হায়দার আলী বলেন, ‘আমার দোকান তো রাস্তার উপর। দিন-রাত মিলে ২০ ঘণ্টার মত দোকান খোলা রাখি। বিদ্যুৎ না থাকলে বেকার বসে থাকতে হয়।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মনবাড়িয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আঃ হান্নান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তেপান্তর কে বলেন, গ্রীডে কাজ চলছে তাই আমারা গতকাল থেকে কারেন্ট বন্ধ রাখছি। আজকের ভিতর কাজ শেষ হয়ে যাবে। আগামিকাল থেকে আর এই সমস্যা থাকবে না। তবে ১৭তারিখ অব্দি প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় অল্প সময়ের জন্য যেতে পারে বিদ্যুৎ।

প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান তালুকদার তেপান্তর কে জানান,গ্রীড থেকেই বন্ধ হচ্ছে লাইন।তার হোল্ডার পরিবর্তন হচ্ছে।আগামীকাল থেকে আর এইভাবে দীর্ঘক্ষনের জন্য বিদ্যুৎ যাবেনা।তবে ১৭তারিখ পর্যন্ত লাইনে কাজ চলবে তাই দিনের বেলায় মাঝে মধ্যে সামান্য সময়ের জন্য যাবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।