“করোনা”মানুষের তৈরী ভাইরাস,বহু বছর আগেই লিখা ছিল দুইটি বইয়ে

১৪ মার্চ, ২০২০ : ১০:০১ পূর্বাহ্ণ ৫৩৭

আসাদুজ্জামান আসাদ: এ পৃথিবীতে ঘটা বহু কিছুরই ব্যাখ্যা নাকি দিতে পারে না বিজ্ঞান। সে সমস্ত ঘটনা কিছু মানুষের কাছে অলৌকিক বলে গৃহীত হয়, কেউ আবার সমাপতন বলে মেনে নেন। কিন্তু এই দুইয়ের মিশেলে একটি জিনিস আজও বহু মানুষকে বিস্মিত ও স্তম্ভিত করে তোলে। তা হল, ভবিষ্যদ্বাণী। পৃথিবীতে এমন বহু ঘটনার উদাহরণ আছে, যা সম্পর্কে অনেক দিন আগেই কেউ বলে দিয়েছিলেন সবিস্তারে। পরবর্তী কালে সে ঘটনা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাওয়ার পরে, ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি যুক্তি বা বিজ্ঞানের পথে।

সাম্প্রতিক বিশ্বের ভয়াবহ ত্রাস করোনাভাইরাস নিয়েও এখন এমনই একটি বিস্ময়ের মুখে এসে দাঁড়িয়েছেন নেটিজেনরা। কারণ হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়া গেছে, এক বার নয়, অন্তত দু’-দু’বার করোনাভাইরাস সম্পর্কে আগেই লিখে রেখেছেন দুই লেখক। প্রথমটা আজ থেকে ৩৯ বছর আগে ১৯৮১ সালে, দ্বিতীয়টা ১২ বছর আগে ২০০৮ সালে।

গত বছর ডিসেম্বর মাসে চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে শুরু হয় নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ। করোনাভাইরাসের এই নতুন প্রজাতিটির কারণে প্রাণঘাতী নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হন একের পর এক মানুষ। মাস দুয়েকের মধ্যেই চিনে প্রায় হাজার তিনেক মানুষকে মেরে ফেলে এই অসুখ। চিনের বাইরেও ক্রমে ছড়াতে শুরু করে ভাইরাস। বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে প্রায় ১ লক্ষ মানুষ এই মুহূর্তে সংক্রমিত এই ঘাতক ভাইরাসে। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা পেরিয়েছে চার হাজার।

এমনই সময়ে চার দশক আগে লেখা একটি উপন্যাস ‘‌দ্য আইজ অফ ডার্কনেস’‌-এর একটি পাতা দেখে শিউরে উঠলেন নেটিজেনরা। তাতে এই করোনাভাইরাসের মতোই একটি ভাইরাসের কথা লেখা রয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই ভাইরাসের উৎপত্তিকেন্দ্র ছিল চিনের উহান শহর! বইয়ে ভাইরাসটির নাম দেওয়া হয়েছিল উহান-৪০০। কারণ সেখানে উহান শহরের ঠিক অদূরে আরডিএনএ গবেষণাগারে এটি তৈরি করা হয়েছিল এবং এটি ছিল মানুষের তৈরি অণুজীবের ৪০০তম কার্যক্রম।

১৯৮১ সালে ডিন কুনৎজের লেখা এই রহস্য উপন্যাসে বলা আছে, এই ভাইরাসটিকে তৈরি করেছে মানুষ। জৈবিক অস্ত্র হিসেবে ল্যাবরেটরিতে বানানো হয়েছিল। এই বইয়ের কথা সামনে আসার পরে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে কি সত্যিই ৪০ বছর আগে চিনাদেরই বানানো জৈবিক অস্ত্র এই করোনাভাইরাস?‌

এই প্রশ্নকে আরও ধারালো করেছে সম্প্রতি সামনে আসা ইজরায়েলি সেনা-গোয়েন্দা এবং মাইক্রোবায়োলজিস্টদের মতামত। তাঁদের দাবি, এই ভাইরাসের জন্মদাতা উহানের জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরির কারখানা বায়ো-সেফটি লেভেল ৪ (BSL-4) ল্যাবোরেটরি। মনে করা হচ্ছে, অসাবধানতাবশত এই গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়েছে ভাইরাসের সংক্রমণ। ঠিক যেভাবে একটা সময় সার্স এবং ইবোলা প্রাণঘাতী হয়ে উঠলে আঙুল উঠেছিল এই ল্যাবোরেটরির দিকেই। ‌

ওই থ্রিলার উপন্যাসটিও যেন হুবহু এমনই বলছে। উপন্যাসে লেখা আছে, ‘বায়োলজিক্যাল উইপন প্রোগ্রামের’ আওতায় চিনের সামরিক গবেষণাগারে বায়োলজিক্যাল যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে উহান-৪০০ ভাইরাস৷ বায়োলজিক্যাল যুদ্ধে শত্রুপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্যই মূলত এসব ভাইরাস তৈরি করা হয়। প্রাণঘাতী কোনও ভাইরাসের মাধ্যমে জৈবিক পবিষাক্ত পদার্থ কিংবা ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস-ছত্রাকের মতো সংক্রামক অণুজীবের মাধ্যমে এসব অস্ত্র তৈরি করা হয় অস্ত্র ছাড়াই মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে।

তবে এখানে একটা খটকা রয়েছে। একটি সূত্র দাবি করছে, ১৮৯১ সালে যখন এই বইটি প্রকাশিত হয়, তখন এই ভাইরাসের নাম লেখা ছিল গোর্কি ৪০০। পরে অন্য কোনও সংস্করণে নামটি বদলে উহান করা হয়। ঠিক কোন সংস্করণে কেন নাম বদলানো হল, তারও কোনও যুক্তি বা প্রমাণ মেলেনি।

বায়োলজিক্যাল যুদ্ধ হল, মারণ ভাইরাস প্রয়োগ করে একটি দেশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া কোনও রকম আগ্নেয়াস্ত্র বা পরমাণু বোমা ছাড়াই৷ বায়োলজিক্যাল অস্ত্র তৈরির ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বেশ পুরনো৷ অ্যানথ্রাক্স, ব্রুসেলোসিস, কলেরা, নিউমনিক প্লেগ, টুলারেমিয়া, স্মলক্স, গ্ল্যান্ডার্সের মতো মারণ ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া একাধিক বার ব্যবহৃত হয়েছে বড় বড় সব যুদ্ধে৷

সূত্রঃ News18.com
The yeshIva world

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।