ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের কারনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এখন যানজটের শহর

১৫ মার্চ, ২০২০ : ৩:৩৬ অপরাহ্ণ ১০৪২

আসাদুজ্জামান আসাদ: ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক অতিরিক্তি মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে দিনের বেলা ও সন্ধ্যায় নিয়মিত যানজট লেগে থাকছে। ফলে ভুগান্তিতে পড়তে হচ্ছে হাসপাতালে আসা রোগীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের। আপরদিকে বেশ কয়েকবছর আগেই বিদ্যুৎ অপচয় রোধে এসব ইজিবাইক সরকার থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তা বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। অনেকে মনে করছেন, বিশেষ কিছু গেষ্ঠির স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব ইজিবাইক টিকিয়ে রাখা হয়েছে। প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ কেউই এর বিরুদ্ধে জোরালো কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছেনা।

ট্রাফিক আইনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নির্বিঘ্নে চলছে এসব ইজিবাই। মাত্রাতিরিক্ত বিকট শব্দে প্রতিনিয়ত শব্দদুষণ হওয়া ও বেশি গতির কারনে ঘটছে দুর্ঘটনা। এই সব ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক বা রিক্সা আসার পর পরিবেশবান্ধব পা-চালিত রিকশা এখন সম্পূর্ণভাবে উঠে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে। এসব রিস্কা/অটোরিকশা চালাতে কোনো ধরনের কায়িক শ্রম করতে হয় না, চালকের লাইসেন্স লাগে না, এমনকি পৌরসভা বা সিটির্কপোরেশনের কোনো ধরনের অনুমতিপত্রেরও প্রয়োজন হয় না। ফলে ছোট্ট শিশুরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এইসব গাড়ি চালাচ্ছে। অনভিজ্ঞ চালকের কারণে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা তেমনি বাড়ছে জ্যাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতুলি-কলেজপাড়া রেলক্রসিং-টিএরোড-মডেরগোড়া মোড় ও কুমারশিল মোড়ের রিস্কা চালকদের কাছ থেকে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন রোডে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার এর উপর গাড়ি আসা-যাওয়া করে। ছোট এ শহরে এত গাড়ি তা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে।

সাংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া কালের প্ররিক্রমায় পরিণত হয়েছে অভিশপ্ত ইজি-বাইকের জ্যামের নগরিতে। শহরে এসব গাড়ির চলাচলের উল্লেখযোগ্য সড়কগুলো হলো- মঠের গোড়া-বর্ডারবাজার, বর্ডারবাজার-কালিশীমা, কালিবাড়ীমোড়-গোকর্ণঘাট, কালিবাড়িমোড়-বিজেশ্বর, কাচারী পাড়-পীরবাড়ি, টেংকেরপাড়-অষ্টগ্রাম, রেওয়েস্টেশন-কাউতলি, ফকিরাপুল-কাউতলিসহ বিভিন্ন এলাকা।

জরিপ করে জানা যায়, এসব এলাকার গাড়ি থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে একটি চক্র। এই টাকার একাংশ চাঁদা আদায়কারী ব্যক্তি, থানাপুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, মালিকপক্ষ ও রোডের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পকেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মঠের গোড়া এলাকার ইজিবাইক চালক নাঈম জানায়, লাইসেন্স লাগে কিনা জানিনা,গ্যারেজ মালিক থেকে ভাড়া এনে চালায়।পুলিশ ধরলে মালিকই ছুটায় নেয় বা আমিও টাকা দিয়ে ছুটে যায়। সদর হাসপাতালের সামনে এক রিস্কা যাত্রী মুন্নি আক্তার জানান, মধ্যপাড়া থেকে হাসপাতালে আসতে প্রায় ৪৫ মিনিট এর মত লাগছে।যেইখানে ১০ মিনিটের ভিতর আসার কথা।ডাক্তার দেখাতে পারব কিনা তাও জানিনা এখন।

আরেক যাত্রী দাতিয়ারার রাশেদ জানান,মাঝে মাধ্যেই কিছু প্রাইভেটকার,বিভিন্ন কোম্পানি গাড়ি এবং অনেক সময় ট্রাক ঢুকে শহরে যানজটের সৃষ্টি করে।দিনের বেলা এইগুলা শহরের রাস্তায় প্রবেশ সম্পূর্ন রুপে বন্ধ করা উচিত।তাছাড়া ফ্লাইওভার হওয়ায় তার নীচের রাস্তা সংকোচিত হয়ে জ্যামটা আরো বেড়ে গেছে। তাছাড়া শহরে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা খুবই কম।

কাউতুলির আরমান বলেন,সরকার অনেক প্রচেষ্টা করে ও অটোরিস্কা বন্ধ করতে পারে নাই।২০১৭ সালে সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদকও জানিয়েছিল এব্যাপারে নিজেদের অসহায়ত্ত্বের কথা। তাহলে কি সরকারের ব্যর্থতার জন্যে আমাদের মতো সাধারণ নাগরিকদের এই নরক-যন্ত্রণা আজীবন ভোগ করতেই হবে? প্রশ্ন আরমানের।

শহরের তিতাস পাড়ার মাইনুদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত ইজিবাইক ও ফুটপাতের বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান, এই দুই কারনে শহরের সড়ক গুলো ছোট হয়ে গেছে। এটাও যানজটের বড় একটি কারন। এবিষয়ে কর্তৃৃৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিৎ।

এ ব্যাপারে সদর থানার সামনে পুলের গোড়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নাম না প্রকাশের শর্তে এক ট্রাফিক পুলিশ জানান, নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে শহরের প্রতিটি মোড় ঘোরানো ও ওভারটেকিং করার সময় প্রতি দিনই প্রায় ২০/২৫ টি গাড়ি দুঘর্টনায় পতিত হচ্ছে। আমরা যথাসাধ্য কাজ করে যাচ্ছি।

এই ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ-আলম সরকার ফোনে তেপান্তর কে বলেন, প্রায় ৩-৪ বছর আগেই সরকার বিদ্যুৎ অপচয় ও ট্রাফিক জ্যাম দূর করার জন্যে অটো-রিকশা, ইজিবাইক, ভটভটি, লেগুনা, নসিমন-করিমন প্রভৃতি বাহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু প্রভাবশালী মহল, গাড়ির মালিক-সমিতি ও চালক-শ্রমিক সংগঠনের দাপটের কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

এব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ নূর এর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে এই ব্যাপারে কিছু বলতে না চাইলেও এক পর্যায়ে জানান,অটোরিকশা, ইজি বাইক এগুলা পৌর সভার দায়িত্ব। ট্রাফিক পুলিশের সাথে এইগুলার কোন সম্পর্ক নেই।

এদিকে জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়র এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।