ইতালী: প্রবাসীরা “করোনা”র ভয়ে দেশে যাচ্ছেনা, যাচ্ছে বেকারত্বের কারনে

১৫ মার্চ, ২০২০ : ৭:২৯ অপরাহ্ণ ১১৯০
ছবি: লেখক

মইনুল ইসলাম,ইতালী থেকে: সম্প্রতি ইতালী থেকে বাাংলাদেশে যাওয়া প্রবাসীরা অনেকটা তোপের মুখে আছেন। বাংলাদেশে ঢুকা মাত্রই তাদের কোয়ারান্টাইনে রাখা হচ্ছে। সবাই মনে করছেন করোনা ভাইরাস থেকে বাচতে ইতালী প্রবাসীরা বাংলাদেশে যাচ্ছেন। এজন্য নানান জন নানান কথা বলছেন। বাংলাদেশের পররাস্ট্রমন্ত্রী সহ দেশের সাধারণ মানুুষও তাই বলছেন। তারা সবাই বলছেন এই সময় বাংলাদেশে আসার কি দরকার? তাদের কথার যুক্তি আছে। কিন্তু আসলে কি তাই্, করোনা ভাইরাস থেকে বাচতেই কি প্রবাসীরা নিজ দেশে ফিরছে? আমি একজন ইতালী প্রবাসী হিসেবে বলতে পারি ঘটনা মোটেও তা নয়।

বর্তমানে ইতালীসহ গুটা বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামাড়ি আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে ইতালীর অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। প্রতিদিন শত শত মানুষ মৃত্যু বরণ করছেন। আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন যে, ইতালীর এই ভযাবহ পরিস্থিতিতে সেই দেশে জরুরী অবস্থা জারি করেছে সরকার। হোটেল,স্কুল,দোকান পাট সহ সকল ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই প্রবাসীদেরকে অনির্দীষ্টকালের জন্য সকল কাজ-কর্ম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এই অবস্থায় প্রবাসীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। প্রতিমাসে একজন ইতালী প্রবাসীর ৫০০ থেকে ৬০০ ইউরো খরচ হয় সেখানে থাকতে গেলে। বেকার অবস্থায় একজন প্রবাসী এই টাকা কোথায় পাবেন। এই সমস্যার কথা চিন্তা করে অনেক প্রবাসী দেশে যাচ্ছেন যা অনেকেরই পছন্দ হচ্ছেনা। প্রবাসীরা বছরের পর বছর রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। অথচ প্রবাসীরা একটু সমস্যায় পড়লে দেশের মানুষ, এমনকি সরকারও তাদের প্রতি কোন দয়া-মায়া দেখায়না। প্রবাসীদের সাথে এয়ারপোর্টে যাচ্ছে তাই ব্যবহার করা হয়।

প্রবাসীরা কেবল টাকার মেশিন। তাদের প্রতি সম্মান ও দয়া-মায়া দেখানোর প্রয়োজন নেই কারো। প্রবাসীরা এখন দেশে গেলে সরকার যদি এতই ভয় পায় তাহলে বেকার সময় গুলিতে সরকারের পক্ষ থেকে চলার খরচ বাবদ টাকা দেওয়া হোক ইতালী প্রবাসীদের। তাহলেই আর প্রবাসীরা এখন দেশে ফিরবেনা। এমনকি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মরে গেলেও না। এটা কি আমাদের সরকার করবে? জানি করবেনা। কারন প্রবাসীদের কাছ থেকে সবাই শুধু নিতে জানে। প্রবাসীদের দিতে জানেনা কেউ। কারন প্রবাসীরা হলো কলুর বলদ।

লেখক: ইতালী প্রতিনিধি, তেপান্তর

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।