ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শালিসে ছাত্রলীগের গুলাগুলি

১৬ মার্চ, ২০২০ : ৪:৩২ অপরাহ্ণ ৫১৩৫

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে একটি বিচার-শালিসকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রলীগের মধ্যে গুলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিনগত রাত ১টায় মেড্ডা এলাকায় মেডিনোভা হাসপাতালের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, পূর্ব বিরুধের ঝামেলা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহ সহ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা শালিসে বসে। শালিশের এক পর্যায়ে বর্তমান সভাপতি রুবেল সভাস্থল হতে চলে যান।

কিন্তু সভাপতির কিছু অনুসারী সেখানে এলাকার লোকজনের সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে। তখন সাবেক সভাপতি বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত শোভন কে এই ব্যপারে জানালে শোভন ঘটনা স্থলে উপস্থিত হোন।

তখন কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সভাপতি রুবেলের অনুসারী মেড্ডা এলাকার নামকরা মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ী শাহজাদা ও সজীব কোমর থেকে পিস্তল বের করে শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মিকাইল হোসেল ইমেলের উদ্দেশ্যে ২রাইন্ড গুলি করে এবং তার সাথের লোকজন আরো ৩-৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।তবে এঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহ জানান, শাহজাদা ও সজীব বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির ক্ষমতা দেখিয়ে এলাকায় বিভিন্ন সময় নৈরাজ্য তৈরী করার চেষ্টা করছে। আজও ছোট একটি ঝামেলাকে কেন্দ্র করে তারা এলাকায় গুলাগুলি করেছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত শোভন জানান, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খাইরুলের সাথে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেলের ঝামেলা মিটাতে মাসুম ভাই শালিসে বসেন। পরে আমি শহর ছাত্রলীগের সভাপতি হিমেল সহ আরো অনেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কথাবার্তার একপর্যায়ে হঠাৎ সজীব ও শাহজাদা পিস্তল হাতে নিয়ে গুলি ছুড়তে থাকে।তারা শহরের অস্ত্রবাজ,সন্ত্রাসী।তাদের সাথে ছাত্রলীগের কোন সম্পর্ক নেই।তাদের কোন পদ পদবীও নেই। তারা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির আশ্রয়ে এইসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

মেড্ডা এলাকার বাসিন্দা ও বিশিষ্ট মুরুব্বি আলমগীর মিয়া জানান,এলাকার ঝামেলা নিয়ে শালিশ বিচার চলাকালীন এই গুলাগুলির ঘটনা ঘটায়।এই ছেলে গুলা নেশা করে নষ্ট হয়ে গেছে।আল্লাহর রহমত গুলি কারো গায়ে লাগেনি।

এব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, এটা বড় কোন বিষয় না। এটা সামান্য ভুল বুঝাবুঝি। মাসুম ভাই,শোভন আমরা সবাই ভাই ভাই। তবে গুলাগুলির প্রশ্ন আসলে বলতে হবে শোভন ও হিমেল গুলি চালিয়েছে। ওই সালিশে আমি ছিলাম না।

এবিষয়ে ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর থানার ওসি মোঃ সেলিম জানান, আমারা এই ব্যাপারে শুনেছি।কিন্তু সরাসরি দেখেনি এবং আমাদের কাছে কোন অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে।আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।