বাংলার শ্রেষ্ঠ মানব

১৯ মার্চ, ২০২০ : ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ ৬১০

উমামা উছমান: সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা ভূখন্ডে জন্ম গ্রহণ করেন এমন একজন মানব যাঁর নাম শুনে বাঙালির হৃদয় গৌরবে ভরে যায়। স্বপ্নের মতো দেখতে জায়গাটি। জায়গাটির নাম টুঙ্গিপাড়ার গোপালগঞ্জ। বর্তমান সাবেক ফরিদপুর জেলার মধুমতী নদীর তীরে অবস্থিত টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন বাংলার শ্রেষ্ঠ মানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যাঁর নাম বাংলার প্রতিটি সন্তাদেন মুখে শুনা যায়। যাঁর স্মৃতি বাংলার প্রতিটি প্রানে অমর হয়ে আছে।

১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ বাঙালি জাতির মুক্তির প্রদীপ জন্মগ্রহন করেন। শেখ লুৎফুর রহমান ও সায়েরা খাতুনের তৃতীয় সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর চার বোন ও দুই ভাই। দুই বোনের পর জন্মগ্রহন করলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তারপর আরও দুই বোন ও এক ভাই। মা-বাবার প্রথম পুত্র সন্তান শেখ মুজিবুর রহমান। মুজিবুর রহমান পরিবারের সকলের চোখের মনি। তাঁর শৈশব কেটেছে পরিবারের প্রত্যেকটি মানুষের গভীর ভালোবাসায়। মা-বাব, ভাই-বোন সবাই তাঁকে ভালোবাসেন। মোহ-মমতা আদরে ভরিয়ে রাখেন। পরিবারের সকল সদস্যরা তাঁকে খোকা বলে ডাকতেন। শৈশবের দিনগুলো কত না আনন্দে কাটতে লাগল! গ্রামের মেঠোপথের ধুলো মেখে, বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজে শীতের কুয়াশায় পায়ে শিশির মেখে, হেমন্তের নীল আকাশের তলায়, ফসলের মাঠে ঘুরে ঘুরে বড় হতে লাগলেন মুজিব। ১৯৩৪ সালে মুজিব যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন তখন ভীষন বাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুজিব বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয় এবং তাঁর হার্ট দূর্বল হয়ে পড়ে। তাকে নিয়ে কলকাতায় যায় এবং বড় বড় ডাক্তার অনেক কেই দেখান এবং চিকিৎসা চলতে থাকে। এভাবেই প্রায় দুই বছর। ১৯৩৬ সালে আক্রান্ত হয় গøুকোমা রোগে। ডাক্তারদের পরামর্শে আবার তাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। ১০ দিনে দুইটি চোখ অপারেশন করা হলো। ১৯৩৬ সাল থেকে শুরু করল চশমা পড়া। চশমায় তাঁর জীবনকে বদলে দিয়েছে। ১৯৩৭ সালে আবার মুজিব লেখাপড়া শুরু করল। অষ্টম শ্রেনিতে থাকা কালিন তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বাংলার মানুষকে মুক্ত করার জন্য মুজিব ১৪টি বছর কারাগারে কাটান। ফজিলাতুন্নেছা জেলগেটে গিয়ে খাতা-কলম দিয়ে আসতেন স্বামীকে (মুজিবকে)। তাঁর জীবনের কথা লিখতে বলতেন। জেলে বসে বসে মুজিব লিখতেন। বাঙালির অধিকার ও স্বতন্ত্র মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এ দেশের গণমানুষের মুক্তির জন্য পরিচালিত সকল আন্দোলন মুজিবই ছিলেন প্রধান চালিকাশক্তি। ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু করে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত সংঘটিত গণঅভ্যুত্থনের জোয়ারে আইউব খানের স্বৈরশাসন টিকে থাকতে পারেনি। ২২শে ফেব্রæয়ারী আইউব খান আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে সব রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হন। কারামুক্ত শেখ মুজিবকে ২৩শে ফেব্রুয়ারী রেসকোর্স ময়দানে বিশাল গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সমাবেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট কতিপয় বিপদগামী সেনাসদস্যের আক্রমনে ও নিষ্ঠুর আঘাতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি এ-জাতির প্রাণপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। তাদের পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়্ মুজিব ছিলেন সাহসী ও স্বাধীনতাপ্রিয়। সকল প্রকার নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এবং অধিকার অর্জনের সংগ্রাম আপোসহীন। মুজিব জাতির মহান নেতা। তাঁর স্মৃতি চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে। তাঁর জীবনী চিরকাল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন বাংলার শ্রেষ্ঠ মানব হয়ে থাকবে এই ভূখন্ডে।

লেখন: উমামা উছমান
শ্রেণীঃ ৮ম
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস্ স্কুল এন্ড কলেজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।