করোনা আতঙ্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, প্রশাসনের পর্যাপ্ত অভিযান নেই

২১ মার্চ, ২০২০ : ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ ৬৩০

আসাদুজ্জামান আসাদ: দেশে করোনা রোগীর মৃত‌্যুর খবর জানার পর হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে নিত‌্যপণ‌্যের দাম। ক্রেতাদের মতে, পাইকারি বাজারে জোগানের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কিনে মজুত করার প্রতিযোগিতার কারণে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার গুলোতে পর্যাপ্ত অভিযান দেওয়া হচ্ছেনা। ফলে দাম কমারও কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনন্দ বাজার,ফারুকী বাজার,বর্ডার বাজার সহ অন্যান্য খুচরা ও পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মিনিকেট চাল কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা, ডিম ডজনে ১০ টাকা, পেঁয়াজ কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, তেল লিটারে ৫ থেকে ১০ টাকা, ডাল ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মশলা ও সবজির দামও বেড়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী ফয়সাল মাহমুদ থাকেন কাজিপাড়া এলাকায়। শুক্রবার (২০মার্চ) সকালে দোকান থেকে ১০ কেজি মিনিকেট চাল কিনেছেন ৬৩ টাকা ধরে। অথচ এই চালই এক সপ্তাহ আগে কিনেছিলেন ৫৩ টাকায়। তিনি বলেন, ‘দোকানি আমাকে বলেছেন, আরও বেশি করে চাল কিনে রাখুন। দাম আরও বাড়বে।’
‘দোকানিকে বললাম, দাম বাড়ছে কেন? জবাবে দোকানি জানালেন, মোকামের আড়তগুলোতে চাল নেই। এজন্য তারাই দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন।’
ফয়সাল বলেন, এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উচিৎ নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা।

প্রায় একই অভিজ্ঞতা বর্ডাবাজার এলাকার এহতেশাম জনির। তিনি বলেন, ‘চাল, ডাল, ডিম, তেল সবকিছুই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ’

সরজমিনে শুক্রবার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নিত্য প্রয়োজনীয় সব দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। যেন ঈদের বাজার চলছে। প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন সবাই। এছাড়া এলাকার বেশ কয়েকটি বড় দোকানেও ভিড় লক্ষ করা গেছে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে আপৎকালীন সঞ্চয়ের জন্য তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে নিচ্ছেন।

জানতে চাইলে রামরাইলের তানজিনা বলেন, ‘বাজারের চাল-ডালের দাম বেড়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় এক মাসের জন্য প্রয়োজনীয় সব খাবার কিনে নিচ্ছি’।

পিমু আক্তার নামে এক গৃহিণী বলেন, ‘দাম বাড়ার আগেই আমরা ৫০ কেজির এক বস্তা চাল কিনে রেখেছি। এখন শোনা যাচ্ছে, দাম বেড়ে গেছে। এ জন্য অন্যান্য জিনিসপত্র কিনছি।’

দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনন্দ বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী বাহার উদ্দিন তেপন্তর কে বলেন, ‘চাহিদা বেশি। জোগান কম। দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে সিন্ডিকেট করে পাইকারি ব্যবসায়ী অনেকেই পণ্য মজুদ করে রেখেছে।

দোকানে ক্রেতাদের ভীর। ছবি: সংগ্রহীত

এদিকে, করোনায় আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য কেনা ও মজুদ না করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

নিত‌্যপণ‌্যের বাজার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান তেপান্তর কে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো অঙ্গতি দেখলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে।’মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।কিন্তু মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনার প্রতিযোগিতা করে ব্যবসায়ীদের দাম বাড়াতে উৎসাহিত করছে।
সবার সচেতন হওয়া উচিত।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।