করুনা ভাইরাস আতঙ্কে বিশ্ব থেমে গেলেও থেমে নেই নবীনগরের ইটভাটার শ্রমিকেরা

২ এপ্রিল, ২০২০ : ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ ৫২৪

মোহাম্মদ সফর মিয়া: নভেল করোনা ভাইরাস আতংকের কারনে নবীনগরসহ সারাবিশ্বের মানুষ যেখানে অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হতে সরকারী নির্দেশনা রয়েছে সেখানে নবীনগরের ইট ভাটার শ্রমিকেরা ইট তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

যেখানে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়াটা বেশ বিপদজনক। এমন মহামারী বিপদের মধ্যেও ভোর থেকে অনায়াসে মাটি আর পানি দিয়ে ইটভাটায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শত শত শ্রমিক। নেই কোন সেফটি।শত শ্রমিকের মাঝে একটি মাস্কও ব্যবহার করতে তাদের কাউকেই দেখা যায়নি।

নবীনগর উপজেলার কিছু ইটভাটায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই মহামারী কে উপেক্ষা করে ভাটার স্তুপ থেকে গুলানো মাটি নিচ্ছেন বেশ কিছু শ্রমিক। সেখান থেকে ট্রলি দিয়ে আবার ইট বানানোর লাইনে মাটি নিচ্ছেন কেউ কেউ। সেখানে ইট বানিয়ে যাচ্ছেন আরও কিছু শ্রমিক।
এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে ইটভাটা শ্রমিকদের।

এসময় শ্রমিকেরা জানান, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করতে হয় ইটভাটায়। আগুনে যারা কাজ করে তারা শিফট পরিবর্তন করে করে আসে।
করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জানতে চাইলে একজন শ্রমিক বলেন, কাজ না করলে খাব কি, আমাদের মালিক পক্ষের কাছ থেকে দাদন নেয়া। আমরা কাজ না করতে পারলে আমাদের ঘরের বাজার হবে না,আমার পরিবার না খেয়ে থাকবে। একদিন কাজে না আসলে ঐদিন আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।

অপরদিকে আরেক শ্রমিক জানান, শুনেছি দেশে নাকি কি রোগ এসেছে কিন্তু আমাদের তো আর কিছুই করার নেই দু’বেলা-দু’মুঠো খাবার জোগাতে আমাদের কাজ করতেই হবে।

তিনি আরো জানান, সারা বছর এলাকাতে ভ্যান চালাই। কার্তিক মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত ইটভাটায় কাজ করি। উপজেলার কনিকাড়া গ্রামের সুমন ব্রিক্স ইটভাটার মিল সরদার প্রদীপ বর্মন জানান, প্রতিটি মিলে ৫০ জন করে শ্রমিক কাজ করেন। ভাটা থেকে গুলানো মাটি নিয়ে ইট বানানো পর্যন্ত তাদের কাজ। এদের অনেককেই কাজের আগে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অনেককেই আবার সপ্তাহ শেষে বেতন দেওয়া হয়। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ টাকার মতো বেতন আসে ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের। তবে যারা ইট বানান তাদের বেতন একটু বেশি। দরিদ্রতার কারণে ইটভাটায় কাজ করেন এসব শ্রমিকেরা। সারা বছর রিকশা ভ্যান বা অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাওয়া এসব শ্রমিকেরা ইটভাটা থেকে আয়ও করেন বেশ ভালো।

তার কাছে করোনাভাইরাস সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমাদেরকে সরকার এখনো পর্যন্ত কোন নোটিশ দেয় নাই আমাদের তো কোন কাজ বন্ধ করতে বলা হয়নি এছাড়া আমরা কাজ বন্ধ করতে পারতেছিনা আমরা কাজ বন্ধ করলে শ্রমিকরা কি খাবেন।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম জানান, বর্তমান অবস্থায় ইটভাটা চালু রাখা দন্ডনীয় অপরাধ। তাদের খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।