নবীনগরে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই সাংবাদিককে মারধোর করলো ইউপি চেয়ারম্যান

৪ এপ্রিল, ২০২০ : ৭:৫৯ অপরাহ্ণ ১৪২৯

ছবি: সাংবাদিক আক্তারুজ্জামান

মোঃ সফর মিয়া: করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ফেইসবুকে সামাজিক জনসচেতনতামূলক পোস্ট দেওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতার হাতে প্রশাসনের কর্মকতার্দের সামনে স্থানীয় এক সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানাযায়, শনিবার সকালে উপজেলার সলিমগঞ্জ বাজারে সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জমজমাট তরমুজের বাজার লোকে লোকারন্য হয়ে যায় ওই স্থান। এ নিয়ে ফেইসবুকে দেশ সংবাদ অনলাইন পোর্টাল ও পল্লী টিভির (আইপি টিভি)স্থানীয় সাংবাদিক মো. আক্তারুজ্জামান লাইভে এসে বলেন, সারা দেশ যখন করোনায় আতংক নিয়ে প্রতিটি দিন পার করছে, সরকারের নির্দেশ রয়েছে আপনারা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করুন, অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবেন না, তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় করুন। সেই অবস্থায় সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তরমুজের জম জমাট বাজার বসেছে। অতিরিক্ত জনসমাগম ঘটিয়ে তারা সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে ব্যবসা বানিজ্য করছেন। এই দৃশ্য কি চেয়ারম্যান সাহেবের নজরে আসেনা? তিনি করোনা সচেতনতায় কি দায়িত্ব পালন করছেন?

এই লাইভ দেখে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. খোরশেদ আলম।

আক্তারুজ্জামান বলেন, দুপুরে সহকারী কমিশনার(ভূমি) ইকবাল হাসান, নবীনগর থানার ওসি (তদন্ত)রুহুল আমিন সাহেব সলিমগঞ্জ বাজারে আসেন বাজার মনিটরিং করতে, একটি দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে, এই সংবাদ পেয়ে নিউজ সংগ্রহ করতে গেলে ওই স্থানে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলম। আমাকে দেখতে পেয়েই গালমন্দ ও কিল ঘুষি মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি আমাকে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন । এ ঘটনা দেখে উপস্থিত সকলেই অবাক হয়ে যায়। এ সময় ওসি রুহুল আমিন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আপনি এই রকম একটি কাজ করতে পারেন না। আমাদের সামনে আপনি একজন সাংবাদিকের গায়ে হাত দিতে পারেন না। সে অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন।

এ বিষয়ে ওসি (তদন্ত)রুহুল আমিন বলেন, ঘটনার সময় আমরা দোকানের ভিতর ছিলাম, পরে বিষয়টি জানতে পেরে চেয়ারম্যান সাহেবকে কঠিন ভাষায় জবাব দিয়েছি।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, আমি রাত দিন কাজ করে যাচ্ছি। তার লাইভে আমার সম্মানহানী হয়েছে, সে কারনে রাগে তাকে মারতে গিয়েছিলাম। তরজুম বিক্রেতাদের আমিও নিষেধ করেছিলাম। তারা আমার কথা শুনে নাই।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিন্দার ঝড় উঠেছে গোটা নবীনগরে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।