অপর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ,কাকে রেখে কাকে দিবে এই নিয়ে দ্বিধায় জনপ্রতিনিধিরা

৫ এপ্রিল, ২০২০ : ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ ৩১৬

কাজী আশরাফুল ইসলাম বিপ্লব: প্রানঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার কর্তৃক গৃহীত লক ডাউনের আজ দশম দিন।টানা দশ দিন রোজগার বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।জীবিকার তাগিদে অনেকেই লকডাউন ভেঙে বের হচ্ছেন রাস্তায়। কিন্তু আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়ির কারনে প্রায়ই তাদেরকে বাড়ি ফিরে আসতে হচ্ছে শুন্য হাতে। যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের অভাবে অসহায় জীবন যাপন করছে দিনমজুর শ্রেনীর মানুষ। এদিকে সরকারি ভাবে ত্রাণ দেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

শহরের অটোরিকশা চালক আবুল মিয়া বলেন,”ঘরে বাচ্চাকাচ্চা সহ ৭ জন মানুষের মুখে খাবার দেয়ার কথা চিন্তা করে লকডাউন ভেঙে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি।কিন্তু রাস্তাঘাটে মানুষ না থাকায় সারাদিনে গাড়ির মালিকের ইনকামটাই রুজি করতে পারি নাই,ঘরে বাজার নিমু কি।”সরকারি কোন ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঐটা মেম্বার চেয়ারম্যান আর সরকারি দলের লোক ভাল জানে।”

এছাড়াও কাচারি পুকুরের পাড়ে দাড়ানো রিক্সা চালক জুলহাস মিয়া বলেন,”পেটের দায়ে বাইর হইছি ঠিকই কিন্তু পুলিশ যখন তখন চাকার হাওয়া ছাইড়া দিতাছে।রোজগার না করলে চলুম কেমনে?সবাই খালি গরীবের উপর আইন দেখায় অথচ বড়লোকের অতলা মাইকো আর হুন্ডার টাওনে ঘুরতাছে কেউ হাওয়া ছাড়ে না।”সরকারি কোন ত্রাণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,”মেম্বারের কাছে গেছিলাম কইছে আইলে খবর দিব কিন্তু কুম্বালা দিব কইছে না।”

সরকারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খবর নেয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন,”আমার ওয়ার্ড আর চেয়ারম্যান সাহেবের ওয়ার্ড এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যের ওয়ার্ড একই হওয়াতে তিন জনের প্রাপ্য ত্রাণ সমন্বয় করে পুরো ওয়ার্ডের কিছু সংখ্যক দরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ” সরকার প্রদত্ত ত্রাণ সহায়তা পর্যাপ্ত কিনা জানতে চাইলে একই ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিব মিয়া বলেন,”আমার ওয়ার্ডে প্রায় ১০০০ পরিবারের বসবাস, যার মধ্যে ৫০০ পরিবার নিম্ন আয়ের এবং ২৫০ পরিবার অতি দরিদ্র। অথচ আমি সরকারি বরাদ্দ পেয়েছি ৭ জনের, অর্থাৎ মাত্র ৭০ কেজি চাল।এই অল্পসংখ্যক চাল কাকে রেখে কাকে দিব এ নিয়ে দ্বিধায় রয়েছি।সরকার যদি খুব শীঘ্রই বরাদ্দ বৃদ্ধি না করে তাহলে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে না খেয়ে মরতে হবে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খানের কাছে সরকারি বরাদ্দ এত অল্প কেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধি করার কোন পরিকল্পনা রয়েছে কী না জানতে চাইলে তিনি তেপান্তরকে বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ইউনিয়নে এক টন চাল দিচ্ছি। তবে কোন এলাকা থেকে অতিদরিদ্র পরিবারের তালিকাসহ যোগাযোগ করা হলে তাদেরকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।” এছাড়াও কোন এলাকা অতি দরিদ্রপ্রবণ হলে খোজ খবর নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসন থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

নিম্ন আয়ের মানুষ চায় লকডাউন যাতে আর বৃদ্ধি না হয়। তারা বলছেন লকডাউন যদি বাড়ানো হয় তাহলে পেটের দায়ে তাদেরকে ঠিকই রাস্তায় বেরোতে হবে। কারন পেটের ক্ষুধাতো আর লকডাউন বোঝে না।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।