শাহ মোহাম্মদ ইউসুফের ছিলো বর্নাঢ্য জীবন

৬ এপ্রিল, ২০২০ : ৯:৫০ অপরাহ্ণ ২০৬

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউর এস এম(শাহ মোহাম্মদ) ইউসুফ আর নেই। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। রোববার সকাল ৮ টার দিকে সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহে…রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো প্রায় ৭৪বছর।

এস এম ইউসুফ ছিলেন মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক। জেলা আওয়ামীলীগ উপদেষ্টা, বর্নাঢ্য জীবনের অধিকারী ইউসুফের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে আইনজীবিসহ সকল মহলে। শোক জানিয়েছে জেলা আওয়ামীলীগ।গতকাল বাদ আছর শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা মসজিদে তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় । এরপরই রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করা হয়। পরে শিমরাইলকান্দি গোরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।
এস এম ইউসুফ নবীনগরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারী। আর আইন পেশায় নিয়োজিত হন ১৯৭৯ সালের ৩ রা ফেব্রুয়ারী। এরআগে ১৯৬৭ সালে ডিগ্রী পাশ করার পর তিনি বর্তমানে বিজয়নগর উপজেলার মেরাশানী স্কুলে শিক্ষকতায় নিয়োজিত হন। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের এক তুখোর নেতা ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নির্বাচিত জিএস ছিলেন তিনি। আওয়ামী রাজনীতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর আওয়ামীলীগে সাধারণ সম্পাদক,জেলা আওয়ামীলীগে আইন সম্পাদক ও সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘসময় । আদালত অঙ্গনে আইনজীবিদেরও প্রিয়মুখ ছিলেন তিনি। শিল্প-সাহিত্যের অঙ্গনেও ছিলো তার পদচারনা। একসময় সাংবাদিকতাও করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্ষীয়ান নেতা,মুক্তিযোদ্ধে গেরিলা উপদেষ্টা,সদর আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য এডভোকেট লুৎফুল হাই সাচ্চু এস এম ইউসুফের আপন খালাতো ভাই। ইউসুফের আরেক ভাই এস এম ইসহাক সেলিমও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধের শেষ সময়ে পাকহানাদারদের হাতে নিহত হন তিনি। তার নামে নবীনগরে একটি গ্রাম ‘সেলিমনগর’ নামকরন করা হয়।
এসএম ইউসুফের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি,বীর মুক্তিযোদ্ধা উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন এস এম ইউসুফ চরম দু:সময়েও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও আওয়ামী রাজনীতির প্রতি খুবই নিবেদিতপ্রান ছিলেন। তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আওয়ামীলীগ একজন অভিভাবককে হারিয়েছে। প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তারা। এস এম ইউসুফ মুত্যুকালে স্ত্রী,এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।