দূর্যোগপূর্ণ সময়ে অসহায়দের পাশে দাড়ান: চেয়ারম্যান নাছিমা মুকাই আলী

৮ এপ্রিল, ২০২০ : ১:০৭ অপরাহ্ণ ১১৮০

এস এম টিপু চৌধুরী: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার প্রথম নারী চেয়ারম্যান নাছিমা মুকাই আলী বলেছেন,
সমাজে আপনারা যারা বিত্তবান তাঁরা সকলেই সাধ্য অনুযায়ী সমাজের হতদারিদ্র্য, নিম্ন আয়ের কর্মহারা ও অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাড়ান। আল্লাহ্ আপনাদের সম্পদশালী করেছেন, আপনাদের দেয়া সাহায্যে সহযোগিতা সমাজের অনেক হতদারিদ্র্য জনগোষ্ঠী কিছুটা হলেও উপকৃত হবে। অনাহারি মুখে খাবার জুটবে। তাদের মুখে স্তস্তির হাসি ফুটবে। এতে করে মহান সৃষ্টিকর্তা খুশি হবে।

মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার চেয়ারম্যান নাছিমা মুকাই আলী সাংবাদিক এস এম টিপু চৌধুরী সাথে একান্ত আলাপচারিতা কালে এসব কথা বলেন তিনি।

চেয়ারম্যান বলেন, বৈশ্বিক মহামারি নোভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে সারা বিশ্ব আজ চিন্তিত। এতে করে সারাদেশে নিম্ন আয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এতে করে নিম্ন আয়ের কর্মহারা মানুষ জীবন জীবিকা নিয়ে নানা ধরনের বিপর্যগ্রস্থ দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই প্রত্যেক এলাকার বিত্তশালী ও ধনী ব্যক্তিরা পাড়া প্রতিবেশির প্রতি খোঁজ খবর নিন। তারা কেমন আছেন? কেমন যাচ্ছে তাদের দৈনন্দিক জীবন তা দেখেন। ওদের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য আহবান জানিয়েছেন তিনি ।

সারা দেশের ন্যায় বিজয়নগরেও সরকারি ভাবে বিভিন্ন এলাকায় ত্রান সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌছানো হচ্ছে। আর তারই পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তার অঙ্গ সংগঠন, বিত্তশালী ব্যক্তিগণ, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন সহ আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন ভাবে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ ও জনসচেতনায় কাজ করছেন। যাহা চোখে পড়ার মতো। তাই যারা করোনা ভাইরাসের বিষয়ে বিভিন্ন ভাবে অসহায়দের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। এবং করোনা ভাইরাসের বিষয় সচেতনামূলক কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। আপনাদের প্রতি আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

বিশেষ করে আমার উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারিবৃন্দ উপজেলাবাসিকে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখার জন্য দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপক প্রচার প্রচারণা। আর সরকারি ত্রাণ গুলো বাড়ি বাড়ি পৌছে দিচ্ছেন। আর সাংবাদিক বন্ধুরাও জীবেন ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের প্রতিও আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি আপনাদের সেবাই পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। ইনশাল্লাহ।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে সারা বিশ্ব আজ আতংকিত। তবে করোনা ভাইরাস নিয়ে কেউ আতংকিত হবেন না। সবাই সর্তক থাকুন। সচেতন হোন। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বজায় রাখুন। সামাজিক দূরত্ব ও নিয়ম কানুন মেনে চলুন।

নোভেল করোনা ভাইরাসের একমাত্র অস্ত্র হলো ঘরে থাকা। তাই সবাই ঘরে থাকুন। সর্তকতা অবলম্বন করুন। করোনা থেকে বাঁচতে হলে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার নিকট বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগি ও প্রার্থনা করুন। আল্লাহর দয়া ছাড়া এ ভাইরাস থেকে বাঁচার কোনো উপায় নাই। তাই সকলের প্রতি আমার অনুরোধ সবাই ঘরে থাকুন।

সরকার কর্তক যে নিয়ম কানুন ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা যথাযথ ভাবে পালন করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। আর কেউ অযথা হাট বাজারে বসে আড্ডা,গল্প গুজব করবেন না। গণজমায়েত সৃষ্টি করবেন না। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে কেউ যাবেন না।

আর বিশেষ করে নোভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে কেউ গুজব ছড়াবেন না। গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। তাই সকলকে অনুরোধ করে বলছি কেউ গুজব ছড়াবেন না। গুজবে কান দিবেন না।

তিনি আরো বলেন, নোভেল করোনা ভাইরাস একটি সংক্রামক ব্যাধি এটি একজনের হলে দ্রুত অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই নিজের জন্য নিজের পরিবারের জন্য ও সমাজের জন্য সর্বোপরি প্রিয় মাতৃভূমির জন্য নিজেকে সবসময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং ঘরে থাকার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

তাই সবাই সর্তক ও সচেতন হোন। নিজে বাঁচুন। অন্যেকে বাঁচান। অসহায়দের পাশে দাড়ান।

আপনাদের আমার সকলের মঙ্গল হোক। মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করি। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন যেন সারা বিশ্বকে মহামারি করোনা থেকে হেফাজত করেন। আমিন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।