সরকারি চাল গরীবদের না দিয়ে স্বজন প্রীতির অভিযোগ বিজয়নগরের ওয়ার্ড মেম্বার নাছিরের বিরুদ্ধে

৮ এপ্রিল, ২০২০ : ২:৪৬ অপরাহ্ণ ৩১৫৫

আসাদুজ্জামান আসাদ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে নাসির নামে এক ওয়ার্ড মেম্বারের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণ বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১০কেজি করে ১০০টি দরিদ্র পরিবারের জন্য ১টন চাল বরাদ্ধ হয় ওই ইউনিয়নে।
ইউনিউনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৯জনের জন্য চাল আসে ৯০কেজি করে।যা ওই ওয়ার্ড মেম্বার এর জমা দেয়া নামের মধ্যে হত দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে পাহাড়পুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড এর নাছির মেম্বার এর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রিতীর অভিযোগ ঊঠেছে পুরো গ্রাম জুরে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়,৬নং ওয়ার্ড এর ভিটিদাউদপুরের ৯ জন হত দরিদ্রের নাম লিখে নেয়া হয়েছিল কিন্ত তাদের কাউকেই না দিয়ে নাছির মেম্বার এই ত্রান তার আন্তীয়-স্বজনদের মাঝে বিতরণ করেছেন।

৬নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্র নূরজাহান বেগম তেপান্তরকে বলেন,১০কেজি চাল দেয়ার কথা বলে আইডি কার্ডের ফটোকপি নেন মেম্বার। কিন্তু ৫ তারিখ বিতরনের দিন আমি চাল নিতে গেলে আজ সরকারি চাল দেয়া হচ্ছে না বলে মেম্বার আমাকে বিদায় করে দেন।

একই ওয়ার্ডের রোকেয়া বেগম, আসেদা বেগম সহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন,আমরা এই গ্রামের মাঝে সব চাইতে খারাপ অবস্থায় আছি। প্রায় দিন না খেয়েই থাকতে হচ্ছে আমাদের।কিন্তু লিষ্টে সবার আগে আমাদের নাম থাকলেও নাছির মেম্বার আমাদের না দিয়ে তার আন্তীয় স্বজন এর মাঝে এই চাল বিতরণ করেছেন।

এ-ব্যাপারে বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুব হোসাইন তেপান্তর কে বলেন,আমি এই ইউনিয়নের সন্তান হওয়ায় এই গ্রামের অসহায় মানুষ গুলো চাল না পেয়ে প্রতিনিয়ত আমার বাড়ি আসছেন অভিযোগ নিয়ে। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি নাসির মেম্বার এই গরীব মানুষদের আগে না দিয়ে উনার আন্তীয়দের মাঝে আগে বিতরণ করেছে। এইটা করা উনার ঠিক হয়নি।আমার কাছে আসা লোকজনকে আমি যতটুকু পারছি ব্যাক্তিগতভাবে সহায়তা করে যাচ্ছি।

এই ব্যাপার নাছির মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি মূল প্রসঙ্গ এড়িয়ে তেপান্তরকে বলেন,আমি এলাকার সাবেক মেম্বার এর মেয়ে সহ মোট ৯জনের মাঝে চাল বিতরণ করেছি।তাদের ছবিও তুলে রেখেছি।যাদের দিয়েছি তাদের আর দিব না বলে দিয়েছি।

পাহাড়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান,আমি ১টন চাল পেয়েছি যা পুরুষ মেম্বারদের ৯০ কেজি করে এবং মহিলা মেম্বারদের ৩০ কেজি করে ভাগ করে দিয়ে দিয়েছি।
তারা নেয়ার পর কাদের মাঝে তা বিতরণ করেছে সে ব্যাপারে আমি অবগত নয়।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।