ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় সড়কে সড়কে ব্যারিকেড, নির্বিকার প্রশাসন

৯ এপ্রিল, ২০২০ : ৮:৪১ অপরাহ্ণ ১৩৩৪

কাজী আশরাফুল ইসলাম বিপ্লব: দেশে চলমান করোনাভাইরাস সংকটে ভাইরাসের বিস্তার রোধে সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।দোকানপাট খোলা ও বন্ধ করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেধে দেয়া হয়েছে।জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় পর্যন্ত প্রশাসনিক কড়াকড়ি নিশ্চিতে আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনির ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে।ইতিমধ্যে জেলায় যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। তবে জরুরি কার্যক্রমের সাথে জড়িত যানবাহনসমুহ এধরনের নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলাকে প্রশাসনিকভাবে লকডাউন করার দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই সোচ্চার হচ্ছেন।

তবে চলমান এই সংকটে অতিউৎসাহী হয়ে অনেকেই নিজ নিজ গ্রামের প্রবেশপথ ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছেন যাতে করে বহিরাগত কেউ গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে।অনেকেই আবার আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মাঝখানে অস্থায়ী প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন। এতে করে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে জরুরি সেবা কার্যক্রম এবং বিঘ্নিত হচ্ছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল, অন্যদিকে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর লোক জুয়া খেলা ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও এই ধরনের অস্থায়ী ব্যারিকেড পাহাড়া দিচ্ছেন স্থানীয় কতিপয় যুবক যারা প্রায়ই জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হওয়া জনসাধারণের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন।

বিজয়নগরের চান্দুরা-আখাউড়া সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়া স্বত্বেও সড়কের বিজয়নগর থানা অংশের সিঙ্গারবিল বাজারে দেয়া হয়েছে বাশের বেড়া, অথচ এধরণের প্রতিবন্ধকতা তৈরিতে মানা হচ্ছে না প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন।

সদর উপজেলার চিলিকুট,সরাইল উপজেলার শান্তিনগর, বাঞ্চারামপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামসহ ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার অনেক গ্রামে এই ধরনের অস্থায়ী ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। যদিও এব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে গত দুইদিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই লিখছেন,এই ধরনের অতি উৎসাহে বিঘ্নিত হতে পারে এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, ঔষধ পরিবন,পন্য পরিবহন সহ জরুরি কার্যক্রম। এছাড়াও এই সুযোগে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে অনেকে।

বিষয়টি আইনসিদ্ধ কিনা জানার জন্য যোগাযোগ করলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসাইন তেপান্তরকে বলেন,”সারাবিশ্বেই এখন জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন করাটা একটু কঠিন হয়ে পড়েছে।এটাকে বলে “ডক্ট্রিন অব স্টেইট নেসেসিটি”। তবে জনসাধারণের সাথে সমন্বয় করে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার সর্বোচ্চ চেস্টা করা হচ্ছে।”

সড়কে ব্যারিকেড দেয়ার ব্যাপারে প্রশাসনিক কোন অনুমতি দেয়া হয়েছে কিনা বা বিষয়টি বৈধ কিনা জানতে চাইলে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান তেপান্তরকে বলেন,”ব্যাপারটি অবশ্যই আইনের লঙ্ঘন।কারন সড়ক ব্লক করার দায়িত্ব প্রশাসনের। প্রয়োজনে সাধারণ জনগনকে সহায়তাকারী হিসেবে রাখা যায়। সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে।”

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।