নবীনগরে নিখোঁজ হওয়া শিশুটি ৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি

১১ এপ্রিল, ২০২০ : ৩:৩৬ অপরাহ্ণ ৯৩০

মোঃ সফর মিয়া,নবীনগর: দেশ যখন করোনা আতংকে অস্থির ঠিক সেই সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামের শেকের পাড়া থেকে উর্মি আক্তার সিনথিয়া নামে ৮ বছরের এক শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়। গত ৬ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলা করার সময় শিশুটি হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটিকে না পাওয়ায় ওই দিন রাতেই নবীনগর থানায় সাধারণ ডায়রী করা হয়। নিখোঁজের ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও শিশুটি উদ্ধারে পুলিশের তেমন কোন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার(১১/৪) সাংবাদিকরা হাজির হয়েছিলেন হারিয়ে যাওয়া শিশুটির বাড়িতে। মেয়ে কে না পাওয়ার শোকে আহাজারি আর আর্তনাদে বাড়ি ও গ্রামের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শিশুটির বাবা আজাহার আহম্মেদ বলেন, গ্রামে আমার কোন শক্র নেই, গ্রামের সামাজিক কাজে সবার পাশেই থাকি। স্ত্রী সন্তান নিয়ে আমি ঢাকায় বসবাস করি । গত দেড় মাস আগে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসি। গত ৬ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির উঠানে আমার স্ত্রী উর্মির মাথা থেকে উকুন আনছিলো, এর পর আমার মেয়ে খেলা করছিলো, এই দূশ্য আমি দেখে গোসল করতে চলে যাই। নামাজের সময় হলে আমার মেয়েকে আর দেখতে পাইনি। পরে আশপাশে অনেক খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পাচ্ছিনা। এখন মনে হচ্ছে আমার মেয়েকে কেউ অপহরন করে নিয়ে গেছে। কাউকে সন্দেহ হয় কিনা প্রশ্নের জবাবে আজাহার বলেন,আমি কাউকে সন্দেহ করছি না, গ্রামের ইকবাল ডাক্তারের সাথে জমি নিয়ে একটি মামলা মোকদ্দমা ছিল সেটা শেষ হয়ে গেছে। গ্রামের এবং সকল আত্বীয় স্বজন আমার পরিবারকে সহানুভূতি জানাতে আসে কিন্ত আমারই সম্পর্কে চাচাতো ভাই, ইদ্রিস আর অপু মিয়া আমাকে কোন সহানুভূতি দেখাতে আসেনি। আমি সব বিষয় পুলিশকে খুলে বলেছি, কিন্তু আমার মেয়েকে খোঁজার বিষয়ে পুলিশের কোন তৎপরতা দেখছি না। এই বলেই আজাহার আহাম্মেদ মেয়ের জন্য হাউ মাউ করে চিৎকার শুরু করেন।
শিশুটি’র মা সাবিনা বেগম বুকফাঁটা আর্তনাদ করে শুধু একটি বাক্যই উচ্চারণ করছিলেন‘ আমার মেয়েকে এনে দাও’। আমার মেয়ে ছাড়া আমি বাঁচবো না।

রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমীন বলেন, মেয়েটি অনেক খুঁজেছি আমরা, এ বিষয়ে পুলিশের কোন তৎপরতা আমরা দেখছি না। দ্রুত শিশুটিকে খোঁজে বের করতে হবে ,নতুবা আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। শিক্ষক ওয়াজেদ উল্লাহ্ জসিম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত পীড়াদায়ক, রতনপুর গ্রামের ইতিহাসে এমন ঘটনা কোনদিন ঘটেনি। দ্রুত শিশুটিকে খুঁজে বের করার দাবী করছি। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ফারুক বলেন,আজাহারের পরিবারের সাথে গ্রামের কোন বিষয়ে কারোর সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই,আমরা বুঝতে পারছি না, কি কারনে শিশুটিকে নিখোঁজ করা হলো। পুলিশেরও কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পারছি না।
এ ব্যাপারে নবীনগর থানা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোকবুল হোসেন বলেন, শিশুটিকে খোঁজার ব্যাপারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য- আজাহার আহম্মেদ তার মেয়ের সন্ধান কেউ দিতে পারলে তাকে ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।