ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সব প্রাইভেট হাসপাতাল খোলা কিন্তু নেই ডাক্তার

১১ এপ্রিল, ২০২০ : ৩:৫৭ অপরাহ্ণ ২০০৪

আসাদুজ্জামান আসাদ: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর বেসরকারি সব হাসপাতাল ২৪ ঘন্টা খোলা থাকলেও চিকিৎসক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে৷ কয়েকটি জায়গায় শুধু রিসেপশনিস্ট আর নার্সদের দেখা মিলছে৷

আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড়,টেংকেরপাড়,পুরাতন জেল রোড এলাকা ঘুরে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলো খোলা পাওয়া গেছে৷ এরমধ্যে জেল রোডের আল-রাজি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও সন্ধানি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সহ ৪টি ক্লিনিকে পাওয়া গেছে শুধু রিসেপশনিস্ট ও কয়েকজন নার্স৷ পাওয়া যায়নি কোন চিকিৎসক৷

তাছাড়া,হলি ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সেন্ট্রাল ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দি ডাচ্ বাংলা ডায়াগনষ্টিক,আল-খলিল হাসপাতাল,পেশেন্ট কেয়ার,লাইফ কেয়ার,দি ল্যাব এইড,আল মদিনা,ন্যাশনাল ডায়াগনস্টিক সহ কয়েকটা হাসপাতাল থেকে তারা জানিয়েছেন রোগী এলে ডাক্তারকে ফোন করা হলে তারা হাসপাতালে আসেন৷ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাইরের ডাক্তাররা আসতে পারেন না লকডাউন এর কারনে।আর যারা লোকাল আছেন অনেকেই চেম্বারে বসেন আবার অনেকেই আসেন না।

ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নাম করা কিছু ডাক্তার এই সময় বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে বসছেন না তাদের প্রাইভেট চেম্বারে।তাদের মাঝে ডাক্তার জাকারিয়া, ডাঃখবির উদ্দিন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিষেশ কারনে আসছেন না।আর সাইবোর্ড ছাড়া অন্যান্যরা হচ্ছেন, ডাঃমনির হোসেন,ডাঃশারমিন হক দীপ্তি,ডাঃতৌহিদুর রহমান, ডাঃফরহাদ,ডাঃমোহাম্মদ আলী সহ অনেকেই।

তিনটি নামকরা বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে গিয়েও একই চিত্র পাওয়া গেছে৷ সেখানে ডিউটি ডাক্তার থাকলেও তারা রোগের লক্ষণ শুনে চিকিৎসক নেই বলে জানিয়ে দেন, পরে যোগাযোগ করতে বলেন৷ কেউ কেউ ফোন নাম্বার রেখে দিয়ে বলেন ডাক্তার আসলে যোগাযোগ করা হবে৷ এসব হাসপাতাল থেকে অনেককেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে৷ একটি ক্লিনিক থেকে একজন হাঁপানির রোগী ফিরে যাওয়ার সময় বলেন, ‘‘আগে হাসপাতালই খোলা থাকতো না, আর এখন খুললেও ডাক্তার নেই৷’’

বাংলাদেশে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতি মায়ের সেবা, দুর্ঘটনায় আহতসহ অন্যান্য নিয়মিত রোগের চিকিৎসা মিলছে না বলে রোগীরা অভিযোগ করছেন৷ সরকারি হাসপতালগুলোর জরুরি বিভাগ খোলা থাকলেও বহির্বিভাগ থাকে আধাবেলা৷ ফলে সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীরা কোথায় যাবেন এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না৷ সাধারণ জ্বর,সর্দির,হাপানি রোগির জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপতালে একটি আলাদা শাখা খোলা হলেও সেখানে সবার পক্ষে সেবা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না৷সদর এ ডাক্তাররা রোগির উপসর্গ জেনে ই অসুধ দিচ্ছেন কিংবা রেফার্ড করছেন ওয়ার্ডে বা অন্য জায়গায়।সরাসরি জ্বর,ঠান্ডা,সর্দির রোগি দেখছেন না তারা বলে জানান হাসপাতালে আসা রুগিরা।

এই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান জান্নাতুল ফেরদৌসি মানু,তিনি একমাস ঘুরে তার বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মায়ের জন্য ভাল ডাক্তার পাচ্ছেন না।সরকারি হাসপাতাল নিয়ে কোনো সমস্যা নেই৷ সমস্যা হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক নিয়ে৷ আর চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধ করে দিয়েছেন৷ আমাদের দেশের লোকজন যে কারণেই হোক প্রথমেই প্রাইভেট ক্লিনিকে যায়৷ আর চিকিৎসা না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে দৌড়ায়৷’’

জ্বর-ঠান্ডা নিয়ে আসা আমিনুল ইসলাম জানান,সদর হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গেলে দেখি ইমার্জেন্সি রুম দড়ি দিয়ে বাধা।আমাকে ডাক্তারের রুমে যেতে দেয় নাই।আমার ভাইয়ের কাছেই রুগের কথা শুনে ঔষধ লিখে দিয়েছেন ডাক্তার।প্রাইভেটে ও কোন ভাল ডাক্তার পাওয়া যায় নাই।বড় বিপাকে আছি।

এব্যাপারে সদর হাসপাতালের একজন ডাক্তার জানান‘‘প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘন্টা (হাসপাতাল) খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে এটা ভালো৷ কিন্তু প্রাইভেট হাসপতালের জন্য এই সময়ে কোনো নীতিমালা করে দেয়া হয়নি, ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর প্রাইভেট হাসপাতালগুলো খুলেছে, কিন্তু চিকিৎসক নেই৷ তাদের একটা গাইডলাইন দিতে হবে তারা কখন কোন রোগী দেখবেন৷

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।