করোনায় প্রমাদ গুনছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষুদ্র পোশাক, জুতা ও কসমেটিক্স ব্যবসায়ীরা

১৯ এপ্রিল, ২০২০ : ১২:১৫ অপরাহ্ণ ১১১৮

আসাদুজ্জামান আসাদঃ বিশ্বব্যাপী চলছে মহামারি করোনা। দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। তাই এর সংক্রমণ রোধে ২৬ মার্চ থেকে ৪ধাপে ২৫এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যান চলাচল। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ও ওষুধের দোকান ছাড়া বাকি মার্কেট-শপিং মলও বন্ধ। এদিকে প্রায় এসে গেছে রোজা। আসছে রোজার ঈদও। কিন্তু করোনায় সব কিছু বন্ধ থাকায় প্রমাদ(বিপদ) গুনছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষুদ্র পোশাক,জুতা ও কসমেটিক্স ব্যবসায়ীরা। কোন পথে যাবেন—সেই পথও জানা নেই তাদের।

রবিবার  ( ১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিউমার্কেট, হকার মার্কেট, সিটি সেন্টার,এফ এ টাউয়ার,আশিক প্লাজা,বি.বাড়িয়া টাওয়ার এবং সমবায় মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে তাদের আশঙ্কার কথা জানা গেছে।

জানতে চাইলে নিউমার্কেটের শাড়ি-কাপড় বিক্রেতা মোহাম্মদ মুন্না বলেন, ‘করোনার কারণে দেশে এখন খুব খারাপ  সময় যাচ্ছে। ঘর থেকে বের হতে পারছি না। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাসায় অবস্থান করছি। দোকান কবে খুলতে পারবো, তারও কোনো ভরসা  পাচ্ছি না।তাছাড়া বৈশাখ,রোজার ঈদ উপলক্ষে সব পুজি দোকানে লাগানো।এখন বড় বিপদে ধার-দেনা করে চলতে হচ্ছে।

হকার মার্কেট এর রমজান বলেন, ‘সামনেই রোজা। কিছু দিন পরই ঈদ। অন্যান্য বছর এই সময়ে কাপড় বিক্রি ও তৈরির ধুম লেগে যেতো। কিন্তু এবার করোনার কারণে সব বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কর্মীদেরও ছুটি দিয়ে দিয়েছি। কারণ তাদেরও তো জীবনের মায়া আছে। এই দুর্যোগের মধ্যে কর্মীদের দিয়ে তো কাজ করানো ঠিক হবে না।’ তিনি বলেন,  ‘এবারের ঈদে আমাদের ব্যবসা মোটেও ভালো হবে না। আর  যে অবস্থা দেখছি, তাতে মনে হয়, ঈদেও দোকান-মার্কেট বন্ধ থাকতে পারে।

সিটি সেন্টার এর কসমেটিক্স ব্যবসায়ী আরিফ জানান, ‘করোনার কারণে দোকান বন্ধ আছে। জানি না—কবে খুলবে। অনেক বড় লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছি আমরা।সব পুঁজি দোকানে থাকায় এখন খাবার টাকা পয়সা অব্দি নেই হাতে।সবাইকে নিয়ে সরকার বিভিন্ন সংস্থা ভাবলেও আমাদের নিয়ে কেউ ভাবছেনা।

সমবায় মার্কেটের ব্যবসায়ী ইমদাদুল বলেন, ‘প্রত্যেকবারই বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে একটা পরিকল্পনা করি।  কিন্তু এই বছর রোজার ঈদ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করতে পারছি না। করোনার কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ আছে। আমি খুব শঙ্কিত এই অবস্থায়। গত কয়েকদিন মার্কেট বন্ধ থাকায় বড় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। দোকান ভাড়ার টাকা দিতে হবে। কিন্তু পণ্য বিক্রিত করতে না পারলে কিভাবে দেবো?সাড়া বছর লস দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে এসেছি রমজান ঈদের আশায়।এইবার তার ও সুযোগ নেই।খাবার এর টাকার জন্য এখন ভিক্ষা করা ছাড়া উপায় দেখছি না।

এফ এ টাউয়ার এর ব্যবসায়ী সারোয়ার বাবু বলেন, ‘আমার দোকান খুব ছোট। খুব বেশিদিন হয়নি দিয়েছি। মোটামুটি ভালোই চলছিল। কিন্তু করোনার কারণে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। ভেবেছিলাম সামনের ঈদে প্যান্ট, শার্ট বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে আনা যাবে। কিন্তু সব কিছু এখন ধোঁয়াশা লাগছে। দোকান ভাড়াটাও এখন কারো কাছ থেকে এনে দিতে হবে।’কিন্তু আমাদের মত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দিকে কারো খেয়াল নেই।এই রমজান মাস কি ভাবে কাটাব, বউ বাচ্ছাকে কি খাওয়াব তাই ভেবে পাচ্ছি না।আমরা তো কারো কাছে হাত ও পাততে পারব না।

তেপান্তর কে সকল ব্যবসায়ীরা ই বলেন, ‘সরকার এই পরিস্থিতিতে সবার জন্য নাকি প্রণোদনা প্যাকেজ করেছে। কিন্তু আমাদের জন্য কিছুই করবে না?’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে সবাই।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।