ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লকডাউনের নামে চলছে চোর-পুলিশ খেলা

২০ এপ্রিল, ২০২০ : ৫:৪৭ অপরাহ্ণ ৬৫২

আসাদুজ্জামান আসাদঃ সামাজিক দূরত্বটুকুও মেনে চলছেন না অনেকেই। সকাল থেকে দুপুর অব্দি বাজারে, ব্যাংকে, হাসপাতালে, টিসিবির পণ্য কেনার নামে মানুষের ভীর তাও পুলিশের নজর দারীতে। আর বিকেলের পর থেকে চোর-পুলিশ খেলা শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন মহল্লা ও গ্রাম এলাকায়।তখন পুলিশ কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখলেই সটকে পড়ছেন সবাই। প্রশাসন চলে গেলে আবার ফিরে আসছেন আড্ডায়।

অনেকেই সড়ক ও মহাসড়ক দিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতও করছেন। মাছ বাজার, কাঁচাবাজার,টিএসবিপণ্য বিক্রয়,ব্যাংক,ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলায় ৩ ফুটের সামাজিক দূরত্ব কর্মসূচি না মেনে ব্যাপক জনসমাগম হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া মনিটরিং থাকা সত্ত্বেও উপজেলা সদরসহ গ্রাম-গঞ্জে, সাপ্তাহিক হাটসহ দৈনিক বাজারে অধিকাংশ মানুষ মানছেন না মরণঘাতী করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব কর্মসূচি। আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনী সড়কে দিয়ে যাওয়ার পরপরই লোকজন ঘর থেকে দল বেধে সড়কে চলাচল করছে। আড্ডা দিচ্ছে চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে। আবার আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের দেখলে আঁড়ালে একটু সরে যাচ্ছে। একইভাবে শহরে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসও চলছে অবাধে। এই অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েও বজায় রাখতে পারছেন না সামাজিক দূরত্ব।

গত ২৬ মার্চ থেকে সামাজিত দূরত্বে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। পাশাপাশি বন্ধ করে দেয়া হয় সব ধরনের গণপরিবহন ও জনসমাগম। একইসঙ্গে প্রবেশ ও বাহিরের পথ আটকে দেয়া হয়েছে বেশকিছু স্থানে। অবশ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসিয়ে চেক করা হলেও থামছে না ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মানুষের ঢল। প্রতিদিন আইনশৃঙ্খলা বাহীনির চোখে ধুলো দিয়ে প্রবেশ করছে এসব মানুষ। ফলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায় জনমনে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুপুর ২টার পর ফার্মেসি ব্যতীত সকল দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তা কার্যকর হলেও পাড়া-মহল্লায় কিছু কিছু দোকান খোলা রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলে দোকানের সাটার নামিয়ে রাখেন বিক্রেতারা। কৌশলে চলে কেনাবেচা। নদীর পাড়ে, বড় বড় ব্রিজের আশপাশে চলে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা। সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় তার আশপাশেও অপ্রয়োজনে সমাগম করছে তরুণ ও যুবকরা।এছাড়াও বিভিন্ন দলের মিটিং,ঝগড়াঝাঁটি তো চলছেই ।

সরেজমিনে আজ পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়,শহরের মঠেরগোড়া ও টেংকের পার টিএসবির পণ্য ন্যায্য দামে কেনার জন্য শতশত মানুষের ভীর..একজনের সাথে একজন কোন প্রকার গ্যাপ রা রেখেই চলছে ক্রয় বিক্রয়।ব্যাংক গুলার সামনে ও ভিতরেও একি চিত্র।ডাঃ ডিউক এর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সেবাকর্মী সবাই পিপিই পড়া থাকলে গর্বভতী মহিলা,বাচ্চা,পুরুষ সবাই এক সাথে জমাট বেঁধে বসে আছেন।ডাক্তার দেখানোর জন্য। তাছাওবেশ ক’টি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দেয় তখন মুহূর্তেই রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা চলে গেলে অনেকেই অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি করেন। বিশেষ করে হাটবাজারগুলোতে গাদাগাদি করে কেনাকাটা করছে নানা বয়সের মানুষ। সামাজিক দূরত্বটুকুও মানছেন না অনেকেই।

অপরদিকে কিছু কিছু গ্রামে ও শহর এলাকায় স্বেচ্ছায় লকডাউনের নামে রাস্তায় বাঁশ ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওইসব গ্রামে/এলাকায় ঢুকে দেখা যায়, প্রতিটি চায়ের দোকানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে আড্ডাবাজি।এ সুযোগ নিয়ে চলেছে মাদক ব্যবসার ধুম।

আরাফাত হোটেল ও মিষ্টির দোকানের মালিক আরমান বলেন,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিস্থিতি দেখে বুঝার উপায় নেই লক ডাউন চলছে কিনা। দেখা যাচ্ছে শুধুমাত্র মসজিদ,শপিংমল ও হোটেল গুলাতেই লক ডাউন কার্যকর করা হয়েছে।

আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডঃ মাহবুবুল আলম খোকন জানান, রাস্তায় বাঁশ ফেলে স্বেচ্ছায় লকডাউন করা হয়েছে। বগিরাগত লোক প্রবেশসহ যানচলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করলেও চায়ের দোকানে নিজেদের আড্ডা কমেনি। পুলিশ যেন লকডাউন দেখে এলাকায়/গ্রামের ভেতরে ঢুকতে না পারে এজন্য লুকোচুরি করা হচ্ছে প্রসাশেনের সঙ্গে। আর পুলিশ না আসাতে নিশ্চিন্তে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে ব্যবসা করতে পারছেন এবং যুবক বৃদ্ধসহ সকলে একসঙ্গে আড্ডা দিতে পারে এজন্যই স্বেচ্ছায় লকডাউন দেয়া হয়েছে।আর বিষেশ করে মাদক সেবীদের হয়েছে সু-ব্যবস্থা।

জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত বলেন, করোনা মোকাবেলায় সকলকে সচেতন হতে হবে। অপ্রয়োজনে আড্ডাবাজি বন্ধ করার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। তা না হলে সবার জন্য বড় ধরনের বিপদ অপেক্ষা করছে।আমরা নিজেরা সচেতন না হলে প্রশাসন তো সারাক্ষণ আমাদের পাহাড়ায় রাখতে পারবে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাজারে নিয়মিত টহল দেয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা মতে করোনা প্রতিরোধে এখনও জনগণকে ঘরে থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। জনসাধারণকে বাইরে অহেতুক ঘোরাফেরা বা আড্ডা না দিয়ে থাকার জন্য বলা হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পুলিশ বিভিন্নভাবে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। এরপরও কিছু লোক অযথা ঘর থেকে বের হচ্ছে। আড্ডা দিচ্ছে। পুলিশ ওই স্থানে গেলেই সবাই পালিয়ে যাচ্ছে,পুলিশ চলে আসার পর আবার আড্ডা জমাচ্ছে। মানুষ নিজে সচেতন না হলে পুলিশ কতক্ষন মানুষকে ঘরে বন্ধি করে রাখতে পারবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।