করোনা সন্দেহে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসকের লাঞ্ছনা

২০ এপ্রিল, ২০২০ : ৬:৫৮ অপরাহ্ণ ১২৪৭

তেপান্তর রিপোর্ট: করোনা সন্দেহে এক গভবর্তী নারীকে লাঞ্চিত করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি প্রশমন করতে জেলা প্রশাসক দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের শহীদ ডাক্তার মিলনায়তন সভাকক্ষে বিএমএ, স্বাচিপ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রোগীর স্বজনদের সাথে রুদ্ধদ্ধার বৈঠক করে। ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে চিকিৎসক ফৌজিয়া আক্তার তার ভূল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খাঁন জানান, সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এখন থেকে তিনি এই রোগীর সকল চিকিৎসা করবেন বলে দায়িত্ব নিয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন সকল রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। বৈঠকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শামসুজ্জামান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, দারুল আরকাম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সাজিদুর রহমান, জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা আব্দুর রহিম কাসেমী, মুফতি ইউসুফ ভূইয়া, সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার শওকত হোসেন, বিএমএর সভাপতি ডাক্তার আবু সাইদসহ চিকিৎসকসহ রোগীর স্বামী মাওলানা জুনাইদ আহমেদ সহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, রবিবার নবীনগর উপজেলার কুড়িঘর গ্রামের মাওলানা জুনায়েদ আহমদ তার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে শহরের কুমারশীল মোড়ে হলিল্যাব হসপিটালে চিকিৎসার জন্য এলে চিকিৎসক ফৌজিয়া আক্তার ওই গর্ভবতী নারীকে করোনা রোগী সন্দেহ করে তীর্যক মন্তব্য করেন।

একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা মেরে চেম্বার থেকে বের করে দেয়। তখন তিনি চিকিৎসা ছাড়াই বাড়ি ফিরে যান। এ ঘটনার জানাজানি হলে শহরে সমালোচনার ঝড় উঠে। দেখা দেয় চরম উত্তেজনা। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মণাবাড়িয়া জেলা প্রশাসক তড়িৎ হস্তক্ষেপ করে সোমবার বৈঠক করে উত্তেজনা প্রশমন করেন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।