যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু,স্ত্রীর অভিযোগ হত্যা,মামলা নেয়নি পুলিশ

২৪ এপ্রিল, ২০২০ : ১২:৩৬ অপরাহ্ণ ৫৯৫

কাজী আশরাফুল ইসলাম বিপ্লব: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের বড়বাকাইল গ্রামে আবু বকর মিয়া(২৩) নামে এক যুবকের ফাসিতে ঝুলানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের পরিবার এটিকে আত্নহত্যা বলে দাবী করলেও মৃতের স্ত্রী ও তার পরিবার দাবী করছেন ছেলের পরিবারের সদস্যরা তাকে হত্যা করেছে। গত ২১ এপ্রিল এই ঘটনা ঘটে।

মৃতের স্ত্রী লিমা আক্তার(১৯) বলেন, সামাজিকভাবে গত আট মাস তাদের বিয়ে হয়েছে তাদের। গত কয়েকমাস আগে লিমার শশুর শাশুড়ি তার স্বামীকে শশুরবাড়ি থেকে ব্যবসা করার জন্য পাচঁ লক্ষ টাকা এনে দিতে বলে।কিন্তু শশুরবাড়ির আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় সে শশুরবাড়িতে টাকা চাইতে অস্বীকৃতি জানায়। এব্যাপারে প্রায়ই মৃতের বাবা-মা তাদের ছেলেকে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতো।

মেয়ের বাবা সমশের আলী বলেন,বিয়েতে ছেলে পক্ষের চাওয়া অনুযায়ী নগদ অর্থসহ যাবতীয় মালামাল দেয়া হয়েছিল।তবুও কেন তারা ছেলের কাছে আরও টাকা চাইতো তা আমি বুঝে উঠতে পারিনি।মঙ্গলবার বিকেলে আমাদেরকে ফোনে জানানো হয় জামাই স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছে।কিন্তু ছেলের বাড়িতে গিয়ে দেখি গলায় দড়ি দেয়া লাশ।আমরা ছেলের পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিতে গিয়েছিলাম কিন্তু রহস্যজনক কারনে থানায় মামলা নেয়নি পুলিশ।স্থানীয় চেয়ারম্যান আমাদেরকে আমার মেয়ের নামে দুইশতক জমি লিখে দেয়ার বিনিময়ে ব্যাপারটিকে মীমাংসা করতে চাপ দেন। কিন্তু আমরা তা মানিনি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে বিচার চাই।

জায়গা সম্পত্তির বিনিময়ে আপোষ মীমাংসার বিষয়ে জানতে চাইলে মজলিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন,ফাসির কিংবা বিষের দ্বারা কারও মৃত্যু হলে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারের কোন মীমাংসা করার এখতিয়ার নেই।তিনি সামাজিকতার খাতিরে ইসলামি শরীয়াহ আইনে মেয়ের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন।মেয়ে পক্ষকে মামলা করতে নিরুৎসাহিত করার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

মৃতের স্ত্রী লিমা বেগম ছয় মাসের অন্তসত্বা।তার দাবি, বিয়ের পর সে তার স্বামীর কোন অস্বাভাবিক আচরণ ও মানসিক অসুস্থতা প্রত্যক্ষ করেনি। বরং তার স্বামীকে স্বামীর পরিবারের সবাই আত্নহত্যায় প্ররোচনা করতো বিভিন্ন সময়।

মৃতের বাবা লোকমান মিয়া বলেন, গত ২১শে এপ্রিল বিকেলে নিজ কক্ষ থেকে আবু বকর মিয়ার ফাসিতে ঝুলানো মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি দাবী করেন, ছেলে দীর্ঘদিন যাবত মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল এবং তার মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অপমৃত্যুর ডায়েরি করা হয়েছে।মেয়ে পক্ষ থেকে যৌতুকের ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ সম্পূর্ন অস্বীকার করেন তিনি।

কেন মামলা নেওয়া হয়নি জানতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম উদ্দীনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।