করোনার বন্ধেও কাজ চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডি’তে, ঘুষের বিনিময়ে বিল পাশ

২৭ এপ্রিল, ২০২০ : ৪:৩৬ অপরাহ্ণ ৮১৬

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডি অফিসের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। করোনার মধ্যেও ঘুষের বিনিময়ে ঠিকাদারদের বিল পাশ, করোনায় অফিস বন্ধ থাকাকালীন গোপনে অফিস করা,অফিসের কর্মীরা বাসাই থেকে গোপনে বিলের কাজ সম্পন্ন করা ও গোপনে দেওয়ালের উপর দিয়ে ফাইল আনা নেওয়াসহ আরো অনেক অভিযোগ আছে এলজিইডি’র বিরুদ্ধে। এলজিইডি’র এসব কর্মকান্ডের কিছু ভিডিও, অডিও ও ছবি তেপান্তরের হাতে আছে।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কারনে বাংলাদেশ লকডাউন হয়ে আছে। লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি সকল অফিসও বন্ধ। কিন্তু এরই মধ্যে এলজিইডি গোপনে কাজ করছে বলে তথ্য পাওয়ার পর গত ২২ এপ্রিল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলজিইডি অফিসের কম্পাউন্ডের ভিতর নির্বাহী প্রকৌশলীর যেই বাসভবন আছে সেই ভবনের পিছনের দেওয়ালের উপর দিয়ে গোপনে ফাইল দেওয়া-নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও অফিসের সামনে, সামনের দোকানে, রাস্তার অপর প্রান্তে ও পশ্চিম দিকের রাস্তায় বিভিন্ন ঠিকাদার ও ঠিকাদারদের লোকজন ঘুরঘুর করতে দেখা গেছে। সেই লোকদের সাথে এলজিইডি’র ল্যাব সহকারী আরিফুর রহমান গোপনে দেখা করতে গেছেন এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে তেপান্তরের ক্যামেরায়।

অভিযোগ আছে ঠিকাদারদের বিল থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ২ ভাগ ও তার নিচের কিছু কর্মকর্তার ১ ভাগ, মোট ৩ ভাগ টাকা ঘুষ রেখে ঠিকাদারদের বিল দেওয়া হচ্ছে।

গত ২২ এপ্রিল সরেজমিনে এলজিইডি অফিসের ভিতরে গিয়ে দেখা যায় সেখানে কাজ চলছে। সেখানে গিয়ে কাজ করা অবস্থায় দেখা যায় উচ্চমান সহকারী সিদ্দিকুর রাহমান, ল্যাব সহকারী আরিফুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান, অফিস সহায়ক উৎপল ও মিজান রহমানকে। তবে ওইদিন দুপুরেই অফিস থেকে বের হওয়ার সময় মেইন গেইটের কাছে পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলে ল্যাব সহকারী আরিফুর রহমান বলেন, অফিস বন্ধ আছে, কেউ এখানে কাজ করছেনা ও কোন ঠিকাদার এখানে আসছেনা। তাহলে আপনি এখানে কি করছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে আসা নির্বাহী প্রকৌশলীর একটি চিঠি দিতে তিনি এখানে এসেছেন। একই কথা বলেন দায়ীত্বে থাকা গার্ডও। তিনিও বলেন, অফিস সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ আছে, অফিসে কোন কর্মী ও ঠিকাদার নেই।

কিন্তু এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী শিরাজুল ইসলাম বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি তেপান্তরকে বলেছেন, অফিসে কাজ চলছে, ঠিকাদারদের বিলও দেওয়া হচ্ছে। বিল না দিলে তারা কাজ করবে কিভাবে? তবে সেটা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই করা হচ্ছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ১৫ দিন আগে বা তারও আগে থেকেই অফিস চলছে। তবে বাইরের কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেইনা। সবকিছু ঠিক-ঠাক থাকলে আপনার বাসার পিছনের দেওয়াল ডিঙ্গিয়ে বিলের ফাইল আনা নেওয়া করা হয় কেন এবং ৩ পার্সেন্ট কমিশনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রকৌশলী বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। কিছু ঠিকাদার আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তবে অফিস খোলা নাকি বন্ধ এবিষয়ে অফিসের কর্মচারী ও কর্মকর্তার এমন পরষ্পর বিরুধী বক্তব্য আরো সন্দেহ সৃষ্টি করছে।

তবে ল্যাব সহকারী আরিফুর রহমান আরো বলেন, ঢাকা থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর যেই চিঠি এসেছে তাতে লিখা আছে অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা যার যার অবস্থানে থাকতে, কিন্তু অফিস খোলা রাখতে বলা হয়নি।

২২ এপ্রিল অফিসের প্রধান ফটকে ল্যাব সহকারী আরিফুর রহমান

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ঘুষ দিয়ে বিল পাশ করিয়েছেন এমন একাধিক ঠিকাদার তেপান্তরকে জানিয়েছেন, এলজিইডি অফিসের বিপরীত দিকে অর্থাৎ মহাসড়কের উত্তর দিকে যেই দোকান আছে তার একটি বিল্ডিং পর যেই বিল্ডিং আছে সেখানে বাস করেন এলজিইডি’র হিসাব রক্ষক হাবিবুর রহমান ও বিল লিখার যেই লোক মুদ্রাক্ষরিক জাহাঙ্গীর আলম । তারা বাসাই বসে সমস্ত কাগজপত্র ঠিক করেন। এখান থেকে কাজ সম্পন্ন করার পর সালেহ নামে আরেক কর্মকর্তা থাকেন এই বাসার পিছনে,তিনি নোট দেন। তারপর সেই নোট ও প্রয়োজনীয় কাগজ অফিস সহায়ক উৎপল নির্বাহী প্রকৌশলী শিরাজুল ইসলামের কাছে পৌছান। তারপর তিনি টাকার বিনিময়ে সই দিয়ে দেন। এসব কাজে জরিত আছেন ল্যাব টেকনিশিয়ান এমদাদুল হক ও রোলারের ফোরম্যান।

সূত্রটি আরো বলেছে, এসব অনিয়মের ব্যপারে অফিস সহায়ক উৎপল সব তথ্য জানেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো অনেক গোপন তথ্য বেড়িয়ে আসবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।