বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সন্ত্রাস পল্লী না হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেন বর্বর জেলা হবে?

২৮ এপ্রিল, ২০২০ : ৫:৩৬ অপরাহ্ণ ১০৭৯

মাহাবুব মোর্শেদ: খুন এবং খুনের রাজনীতি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই একে অন্যের সাথে মায়ের পেটের ভাইয়ের সম্পর্ক। এ থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বুয়েট,ঢাকা মেডিকেল,ঢাবি থেকে শুরু করে দেশ সেরা কোন বিশ্ববিদ্যালয়।

স্বাধীনতার পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১৫১ জন শিক্ষার্থী খুন হয়। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ২ জন করে, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং হজরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন করে শিক্ষার্থী খুন হন। (তথ্যসূত্র : প্রথম আলো: ১২.১০.১৯)।

গত দশ বছরেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে খুন হয়েছে ২৪ জন শিক্ষার্থী।এই ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন, রাজশাহীতে ৫ জন, ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও ৩ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। (তথ্যসূত্র : যুগান্তর: ০৮.১০.১৯)।

এই হত্যাকাণ্ডের শিকার এবং হত্যাকারী কারা? তারা কি দেশ সেরা মেধাবী ছাত্র নয়? তাদের হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেওয়ার তেমন প্রয়োজন মনে করছি না। এই তো সেদিন বুয়েটের আবরার হত্যার ঘটনা আমাদের সবার চোখের সামনে এখনো ভাসছে। তাদের এই বর্বরতার জন্য তো আমরা কখনো এই সকল প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করিনি। হয়তো সংশ্লিষ্ট ঘটনার সমালোচনা করেছি। কখনো বলেছি বুয়েট,ঢামেক,ঢাবি সন্ত্রাস পল্লী? বলিনি। না বলাটা যথেষ্ট যৌক্তিকও বটে। কারণ গুটি কয়েক ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসের জন্য হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাস পল্লী ঘোষণা করা ঠিক না।

এবার আসুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যে সকল এলাকায় সাধারণত সংঘর্ষ হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হলো সরাইল,আশুগঞ্জ, নাসিরনগর এবং নবীনগর উপজেলা। এই উপজেলাগুলোর আবার সব এলাকায় এই সংঘর্ষ হয় না। দেখা যাচ্ছে একটা উপজেলার ২০ টি ইউনিয়নের মধ্যে হয়তো ২/৩ টি ইউনিয়নে এই সংঘর্ষ হচ্ছে। এই ইউনিয়নগুলোর শিক্ষার হার অন্য ইউনিয়ন থেকে অনেক পিছিয়ে। আবার এই ইউনিয়নগুলোর সবাই সংঘর্ষে জড়ায় না। যারা সচেতন এবং শিক্ষিত তারা এই সব ঘটনার বিরুদ্ধে সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তারা ঐ গ্রাম্য মাতব্বরদের সাথে টিকে থাকতে পারে না। কারন এই গ্রাম্য মাতব্বররা সব সময় সব সরকার দলের রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে থাকে।

এভাবেই সংঘর্ষ হয়ে থাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাক্ষের অধিক। আর এই সকল সংঘর্ষে যারা লিপ্ত হচ্ছে তাদের মোট সংখ্যা ৫০ হাজার হবে কি না যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এই অল্প কিছু মানুষকে নিয়েই আমরা ৩০ লক্ষ+ মানুষের একটা জেলাকে বর্বর বা আরো খারাপ গালি দিচ্ছি। অথচ এই আমরাই কিন্তু কতিপয় ছাত্রদের সন্ত্রাসী কাজের জন্য দেশ সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্ত্রাস পল্লী বলছি না।

তাহলে কি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নিয়ে আমাদের মন্তব্য অবিচার নয়???

বিপরীতে এই সকল এলাকার ঘটনায় জড়িত মূল হুতারা সব সময় সব সরকার দলের রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে থাকে। শিক্ষা থেকে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা এই কয়েকটি ইউনিয়নে শিক্ষা বিস্তারে সকল সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এই সকল বিষয় সামনে আসলে চুপ হয়ে যায় সবাই। এর দায় কেউ নিতে ইচ্ছুক না।

এমন সমস্যা না হলেও এই ধরনের সংঘর্ষ সহ নানান অপকর্ম কম বেশি সব জেলায় হয়ে থাকে। কেউ বলতে পারবো আমার জেলা ধর্ষণ, খুন, রাজনৈতিক সহিংসতা,চুরি, ডাকাতি,দূর্নীতি এবং মাদক মুক্ত? যদি উত্তর “না” হয় তাহলে কেন শুধু একটি জেলাকে গালাগালি করবো?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাকি ৬৩ টি জেলার মতোই একটি জেলা। আর এই ৬৪ জেলা নিয়ে ই আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। আমরা কেউ ভিন গ্রহের এলিয়েন না। তাই আসুন জেলা বা আঞ্চলিক বিদ্বেষ না ছড়িয়ে ভালোবাসা ছড়িয়ে সোনার বাংলা গড়তে যার যার জায়গা থেকে ভূমিকা রাখি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 1.4K
    Shares