সূর্যমূখী কিন্ডারগার্টেন স্কুলে বেতন চেয়ে নোটিশ দেয়ায় অভিভাবকদের ক্ষোভ প্রকাশ

৮ মে, ২০২০ : ৫:৫৪ অপরাহ্ণ ১৩২৭

আসাদুজ্জামান আসাদঃ গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এ হিসাবে দুই মাস গড়িয়ে গেছে, দিন দিন পরিস্থিতিও অস্বাভাবিক হচ্ছে। দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে।তবে করোনা পরিস্থিতি এখনও নিশ্চিত বোঝা যাচ্ছে না যে, কবে নাগাদ সবকিছু স্বাভাবিক হবে, চালু হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ক্লাস বন্ধ, সাময়িক পরীক্ষা বন্ধ। সরকারি অর্থে সরকারি স্কুল পরিচালিত হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বেতনের অর্থে পরিচালিত হয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ। কিছু কিছু স্কুল ফেব্রুয়ারির বেতন নিতে পারলেও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিলের বেতন আদায় নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

অন্যদিকে করোনার ছুটিতে দেশজুড়ে অচলাবস্থায় জীবনযাত্রার সঙ্গে সব পেশার মানুষের কমবেশি আয়-রোজগারে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। শিক্ষায় ব্যয়ের চেয়ে এই মুহূর্তে নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। অনেক অভিভাবকদের দাবি করোনা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন মওকুফ করা হোক। তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বেতনের অর্থে পরিচালিত হয়, তারাও বিপাকে তাদের প্রাত্যহিক খরচ মেটানোয়। স্কুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের কোনো উপায় নেই।

আজ শুক্রবার (৮মে) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সূর্যমূখী কিন্ডারগার্টেন স্কুল এর প্রধান শিক্ষক নোটিশ প্রকাশ করেন।যাতে বকেয়া সহ মে/২০২০ এর বেতন পরিশোধের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু এই নোটিশ পেয়ে সরাসরি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তাদের কয়েকজনের বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হল, শবনম আক্তার তেপান্তর কে বলেন,আমার ছেলে এই স্কুলের ২য় শ্রেণীর ছাত্র।এই মূহুর্তে নিজেদের ই চলতে কষ্ট হচ্ছে স্কুলের বেতন কিভাবে পরিশোধ করব?এইটা অনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি।

আরিফুল ইসলাম বলেন, মহামারী করোনায় যেখানে সারাপৃথিবী স্থবির,বিশ্ব অর্থনীতি যখন থমকে গেছে,খেটে খাওয়া দিনমজুর থেকে শুরু করে যখন কোটিপতি পর্যন্ত যখন কালকের আহার কি হবে তা নিয়ে নির্ঘুম রাত্র পার করছে তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বনামধন্য একটি স্কুলের নোটিশ..!!! যেখানে মানুষ বাসা ভাড়া দিতে পারছে না বলে বাসা ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে,ঈদ উপলক্ষে কোটি কোটি টাকার গার্মেন্টস স্টকে রেখেও জননিরাপত্তায় মার্কেট বন্ধ রাখছে সেখানে কবে স্কুল খুলবে তারই কোন নিশ্চিয়তা নেই সেখানে সূর্যমুখী স্কুল কমিটির এমন অবিবেচক নোটিশ..!!

রঞ্জন সরকার বলেন,এটা রসিকতা নাকি নিষ্ঠুরতা! এটা প্রত্যাহার করা উচিত।

রাফিনুল হক বলেন,এই মুহূর্তে স্কুলের লভ্যাংশ থেকে শিক্ষকদের বেতন দেয়া হোক।

আকরাম হোসেন বলেন,যেখানে কিন্ডার গার্ডেন বন্ধ সেখানে আবার বেতন কিসের?

এ ব্যাপারে সূর্যমূখী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সালমা বারী তেপান্তর কে বলেন,আমাদের কাছে অনেক অভিভাবক বেতন দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় আমি এই নোটিশ দিয়েছে। যারা পারবে তারা পরিশোধ করবে,যারা পারবেনা তাদের উপর কোন বাধ্যবাধকতা নেই।নোটিশে এখন বাধ্যতামূলক বেতন দিতেই হবে এমন কিছুই লিখা হয় নাই।তাছাড়া এখন বেতন না দিতে পারলেও কোন প্রকার বিলম্ব ফি বা জরিমানা নেয়া হবে না বলেও তেপান্তরকে জানান তিনি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।