ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে ফেসবুকে সোচ্চার ব্যাক্তিকে বেধড়ক মারধোর

১০ মে, ২০২০ : ৭:১১ অপরাহ্ণ ১৭৬৩

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে এম এস কে মাহাবুব (৪০) নামে এক ব্যাক্তিকে বেধড়ক মারধোরের অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের অভিযোগ তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে প্রচন্ড মারধোরের পর ইয়াবা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। থানায় নিয়ে যেতে যেতেও মারা হয় তাকে। এরপর থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে দ্বিতীয় দফা মারধোর করা হয় তাকে। মারধোরকারীদের মধ্যে থানার এক এসআইও রয়েছেন। শনিবার এই ঘটনা ঘটে।

মাহবুব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখিতে সোচ্চার ছিলো। থানার দারোগার ঘুষের বিরুদ্ধেও মুখ খুলে সে।সেকারনে লিটনের গডফাদাররা মাহবুবের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলো। সর্বশেষ মেহেদী হাসান নামে স্থানীয় এক মাওলানার সাথে তার বিরোধ হয়। ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি লেখালেখি চলে এ দু-জনের। মাহবুব মেহেদীর বিরুদ্ধে হত্যা এবং অপপ্রচারের অভিযোগ দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা সেলে।

এরপরই শনিবার তাকে ধরে মারধোর করে ইয়াবা দিয়ে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। এরআগে শুক্রবার মোবাইলে মাহবুবকে হত্যারও হুমকী দেয়া হয়। মাহাবুবের ছোট বোন স্কুল

শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম মিলি জানান- শনিবার বিকেল ৩ টার দিকে একজন ছেলে আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই দেখি তাকে কয়েকজন প্রচন্ডভাবে মারতে মারতে একটি অটো রিক্সায় উঠিয়েছে। তাদের মধ্যে মাওলানা মেহেদীও ছিলেন। পরে থানায় গিয়ে জানতে পারি,মেহেদী ও তার লোকজন আমার ভাইকে ৭ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পুলিশে সোপর্দ করেছে। তারা থানার ভেতরে পুলিশের ডিউটি অফিসারের কক্ষেও আমার ভাইকে প্রচন্ড মারধর করেছে।

মাহবুবের মা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা সালেহা খাতুন জানান, তাঁর ছেলে নবীনগরের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সোচ্চার ছিলো। এতে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি মাহাবুবের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। মাওলানা মেহেদী থানার ওসি রনজিৎত রায়ের ঘনিষ্ট বলে স্থানীয়রা জানান।

তবে ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মাওলানা মেহেদী হাসান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,নূরুল ইসলাম নামের এক ছেলের কাছে মাহাবুব মাদক বিক্রী করার সময় তাকে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দেয়। আমি বরং তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিরাপদে পৌঁছে দেই। ঘটনাস্থলে কিংবা থানায় তাকে আমার মারধর করার প্রশ্নই ওঠে না।

ঘটনাটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে নবীনগরে। নবীনগর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট শিব শংকর দাস বলেন,থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে মাহাবুবকে মারধর করার ঘটনাটি আমি শুনেছি। এর সুষ্টু তদন্ত হওয়া দরকার।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা শেখ হাফিজুর রহমান বলেন,মাহাবুব যদি মাদক বিক্রেতা হয় তাহলে আমরাও তার শাস্তি দাবী করি। কিন্তু তাকে থানার ভেতরে পুলিশের সামনে মারধর করা, কোন আইনে আছে?

নবীনগর থানার ওসি রনোজিত রায় বলেন,৭ পিছ ইয়াবাসহ ২০/২৫ জন মানুষ মাহাবুবকে থানায় ধরে নিয়ে আসে। আমরা ঘটনা তদন্ত করছি। ডিউটি অফিসারের রুমতো থানার গেইটের সামনে। সেখানে নয়,বাইরে তাকে প্রচন্ড মারধোর করা হয়েছে। অনেকে তা দেখছে। থানায় আনতে আনতেও মারা হয়েছে তাকে। থানায় আসার পর আমরা তার মেডিকেল করিয়েছি। এব্যাপারে অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করবো।

এলাকার সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুল সাংবাদিকদের জানান ঘটনাটি তাকে জানানো হয়েছে। ছেলেটি মেধাবী। ভালো লেখে জানিয়ে তিনি বলেন বিষয়টি আমি দেখছি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।