ঘুড়ির সুতা বেধেঁ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফ্লাইওভারে মরণ ফাঁদ পেতে অভিনব কায়দায় চলছে ছিনতাই

১১ মে, ২০২০ : ১২:৩৭ অপরাহ্ণ ৪৯৫৩

আসাদুজ্জামান আসাদঃ করোনা ভাইরাসের কারনে বর্তমানে সীমিত আকারে চলা লকডাউনে সন্ধ্যার পর ই ফাঁকা হয়ে যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর।এ সুযোগ নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ বিচ্ছিন্ন কিছু ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও মরণ ফাঁদ পেতে প্রতিনিয়ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফ্লাইওভারে চলছে ছিনতাই।ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার রেল ক্রসিং এর উপর  টিএরোড হতে ডিসি বাংলা মোড় পর্যন্ত নির্মিত ফ্লাইওভারটি বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্ধ্যার পর  ই হয়ে পড়ে নিরব,ফ্লাইওভার এর উপর দিয়ে তখন খুব একটা যাতায়াত করে না কেউ।এর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখানে সক্রিয় হয়ে  উঠেছে একটি ছিনতাইকারী চক্র।

ফ্লাইওভার এর দুই পাশে থাকা সোডিয়াম লাইটের খুঁটিতে ঘুড়ি উড়ানোর সুতা বেঁধে রাখে তারা।তখন কোনো বাইক বা রিক্সা ফ্লাইওভার এর উপর উঠতে বা নামতে গিয়ে সুতায় আগাত পেয়ে আহত হয়ে  পড়ে গেলে ছিনতাইকারি চক্র পরে যাওয়া চালককে সাহায্য করার নামে এগিয়ে আসে আর সুযোগ বুঝে চালকের কাছে থাকা মোবাইলফোন বা টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।কিন্তু সুতায় লেগে গলা কেটে  মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে যার পরোয়া করে না তারা।

গত পহেলা মে সন্ধ্যায় এই সুতায় লেগে মুখ,গাল ও কান কেটে ২১৩টি সেলাই লাগে  মধ্যপাড়ার সাইম নামের এক বাইক চালকের।পার পরের দিন আবার ও সুতায় লেগে ঠোঁট কেটে যায় এক রিস্কা চালাকের। গতকাল মোরসালিন আহমেদ নামের এক তরুনের গলা কেটে (১০ই মে) যায় এই সুতায়।ছবি -আহত মোরসালিনছবি-গতকাল সুতায় আহত মোরসালিন

এ ব্যাপারে মোরসালিন এর বন্ধু নাঈম জানান,এতবড় মহামারীতেও থেমে নেই চুরি ছিন্তাইকারীদের চক্রান্ত, কয়েকজন ছিন্তায়কারী মিলে ফ্লাইওভারের সোডিয়াম লাইটের দুপাশের খুঁটিতে ঘুড়ি উড়ানোর সুতা বেঁধে রাখে, কোনো বাইক যানচলাচলকারী এতে করে আগাত পেয়ে বাইক নিয়ে পরে যাবে, এমতাবস্থায় চক্রান্তকারীরা মোবাইলফোন বা টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যেতে পারবে সেই  মনোভাব নিয়ে তারা এসব করেছে আজ এর প্রমাণ।আজ আমার বন্ধু নাঈম এর সাথে ও এই ঘটনা ঘটেছে। অল্পের জন্য বেঁচে গেছে সে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।ঘটনাটি হয়েছে আনুমানিক রাত ৯ঃ৩০ মিনিটের দিকে।ছবি- পহেলা মে সুতায় আঘাত পাওয়া সাইম

সাইম তেপান্তরকে জানান,ইফতার শেষে কাউতুলি থেকে ফেরার পথে তার মুখে এসে ঘুড়ির সুতা লাগলে সে হোন্ডা সহ পড়ে যায়।এতে তার মুখ, গাল ও কান কেটে যায়। যাতে মোট ২১৩ টি সেলাই দেয়া হয়েছে।সে প্রথমে উড়ন্ত ঘুড়ি ভেবেছিল।কিন্তু অতিরিক্ত ব্যাথা পাওয়ায় এত খেয়াল করা হয় নাই।তার সাথে থাকা বন্ধু নিলয় সামান্য আহত হয়েছিল তাই সে ই তাকে প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তবে তখন ৪-৫ জন ছেলে ব্রিজে উপস্থিত ছিল বলে তেপান্তরকে জানায় সাইম।

রিক্সা চালক জামাল তেপান্তর কে বলেন,আমি কাউতুলি থেকে রিক্সা নিয়ে প্রতিদিন অনেকবার শহরে যায়। ডাইরেক্ট মঠের গোড়া বা কুমারশীল মোড় এর কাষ্টমার পেলে ব্রীজের উপর দিয়ে ই যাতায়াত করি।৪-৫দিন আগে ব্রীজ থেইকা নামতে গিয়ে একটা সুতা লাগে আমার মুখে তখন হঠাৎ ব্রেক চাপায় রিস্কা নিয়ে ঊল্টে পড়ে যায়।তখন ৪-৫টা ১৫-১৬ বছরের ছেলে এসে আমার রিক্সা উঠায় দেয় এবং আমার কাছে আইসা আমার পকেটে থেইকা টাকা গুলা নিয়া নেয় এবং আমাকে চইলা যাইতে বলে।আরো কয়েকজন রিক্সা চালকের সাথেও এই ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যপারে কলেজ পাড়ার সানি জানান,আমাদের বিল্ডিং  ব্রীজের পাশে। এখানে সন্ধ্যার পর আগেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটত তবে গতকিছুদিন যাবত দেখছি দুই একদিন পর পর ব্রীজে দুর্ঘটনা ঘটছে।খোঁজ নিয়ে দেখি প্রায় সবাই ঘুড়ির সুতায় আহত হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকেই কয়েকটা ছেলেকে দেখা যায় ব্রীজের উপর বসে থাকতে।তারা সেখানে বসে নেশা করে বলেও শুনেছি অনেকের কাছে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি সেলিম উদ্দিন এর সাথে কথা হলে তিনি তেপান্তর কে বলেন, এইসব ঘটনা আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম।এর আগে কারো কাছে শুনি নাই বা এই ব্যপারে ভিক্টিম কেউ অভিযোগ নিয়েও আসে নাই থানায়।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।