করোনায় কর্মহীন মানুষের পাশে ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম

১৪ মে, ২০২০ : ২:১৬ অপরাহ্ণ ৪৯১

মোঃ সফর মিয়া: তিনি মানুষ নয়, তিনি আমার কাছে ত্রাণ দাতা। ভগবান উনার মঙ্গল করুন। করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে থাকা নবীনগর বাজারের একজন পোষাক তৈরির কারিগর অবনি বর্মণ, এমনটিই বললেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুমকে নিয়ে।

যখন কোথায়ও কোন আশার আলো খুঁজে পাচ্ছিলেন না ঠিক তখনি সেই মানবিকতার দূত হয়ে তার সামনে হাজির হলেন ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম। সামান্য একটু ফোনালাপ, ব্যাস পরদিনই অবনি বমর্ণের হাতে পৌঁছে দিলেন খাদ্য সামগ্রী। যা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে পেটপুরে কিছুদিন কাটাতে পেরেছেন।

এমন অসংখ্য অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম। থেমে নেই তার পথ চলা, করোনায় নবীনগর উপজেলার কর্মহীন অসহায়, দুঃস্থ মানুষের কাছে যিনি এখন মানবিকতার প্রতিমূর্তি।

করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের শুরু থেকেই যিনি স্ব-শরীরে উপজেলার এক প্রান্ত থেকে ছুটে গেছেন অন্য প্রান্তে। একজন ইউএনও ইচ্ছে করলে তার প্রতিনিধির মাধ্যমে এই সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারতেন কিন্তু সেটি না করে মানবতা ও মানবিকতার টানে মোহাম্মদ মাসুম স্ব-শরীরে ছুটে গেছেন কর্মহীন অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে। এর মধ্যে সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত উপজেলার জাফরপুর গ্রামের একই পরিবারের ১০ জনকে দেখতে তিনি ছুটে যান ওই বাড়িতে। তখন তিনি তাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও ফলের একটি ঢালী নিয়ে যান। পাশাপাশি জেলা সিভিল সার্জন ইকরাম উল্লাহসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম রাতের বেলা হাজির হন জাফরপুর গ্রামের করোনায় আক্রান্তদের বাড়িতে।

উপজেলার থানাকান্দি গ্রামে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত মোবারকের পরিবারের নিকটও খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছেন মোহাম্মদ মাসুম। এছাড়াও তিনি এলাকায় মাতৃদুগ্ধপানকারী শিশুদের জন্য বিতরণ করেছেন শিশু খাদ্যসহ তরল দুধ।

শিশুদের খাদ্য দিয়েই থেমে থাকেননি তিনি, নবীনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোহিত, সাংবাদিক, সেলুন ব্যবসায়ী ও কর্মচারী, স্বর্ণ শিল্পী, ক্ষুদ্র তরকারি ব্যবসায়ী, হোটেল কর্মচারী, গণ পরিবহন শ্রমিকসহ মোবাইল ফোনে এবং স্ব-শরীরে যারা সহযোগিতা চেয়েছেন তাদের প্রতিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম।

এছাড়াও ভূমিহীন, ঘরহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। উপজেলার লাউরফতেহপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে নির্মিতব্য গ্রীণ ভিলেজ খ্যাত ওই প্রকল্পটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় দিন গুণছে। সেখানে ঠাঁই মিলবে ৪০টি অসহায় পরিবারের। দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় নাটঘর ঋষিপাড়ায় ২০টি, দোলাবাড়ি ঋষিপাড়ায় ১০টি ভোলাচং ঋষি পাড়ায় ২০টি। জমি আছে ঘর নাই এমন ৬৫১টি পরিবারের মাঝে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দেন ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম।

গত মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদে উপস্থিত হওয়া কর্মহীন অসহায় প্রায় দেড়শতাধিক মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বাক্কার সিদ্দিক, বিআরডিবি এর কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান ভূইয়া, মৎস কর্মকর্তা আবু মাসুদ, সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ, প্রেসক্লাব সভাপতি মাহবুব আলম লিটন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কল্লোল, সাংবাদিক শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তী শ্যামল, গ্লোবাল নেট পত্রিকার সম্পাদক মিঠু ধর চৌধুরী, মো. কাউসার আহমেদ, মো. সফর মিয়া, মো. দেলোয়ার হোসেন, মিঠু সূত্রধর পলাশ, বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম জনিসহ অন্যান্যরা।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আপনাদের আমানত আপনাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি, এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নাই। করোনাভাইরাসের প্রভাবে যারা কর্মহীন হয়ে দিন কাটাচ্ছেন তাদের পাশে আমরা সবসময় আছি ও থাকবো।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।