শহরে ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়;চুর পুলিশ খেলায় চলছে ঈদের ব্যবসা

১৭ মে, ২০২০ : ৪:৩২ অপরাহ্ণ ৯৭৮

আসাদুজ্জামান আসাদঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন এর নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী  গত ১০ মে ঈদ উপলক্ষে জেলা সদর এর সব শপিংমল দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সে মোতাবেক মার্কেট ব্যবসায়ী কমিটি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একমত পোষণ করে । কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তা উপেক্ষা করে দোকান খোলা রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

১৭ মে  সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হকার মার্কেট,নিউ মার্কেট, সিটি সেন্টার, এফ এ টাওয়ার, বি.বাড়িয়া টাওয়ার,আশিক প্লাজা,সমবায় মার্কেট,মসজিদ রোড ঘুরে দেখা গেছে প্রায় প্রতিটি বাজারেই কেনা কাটার উপছেপড়া ভিড় । প্রতিটি কসমেটিক্স, কাপড়ের দোকানসহ অধিকাংশ বিপণী বিতানের সামনে দাঁড়াতেই দোকানের ভিতর থেকে আওয়াজ আসছে ‘আইয়ে রে আইয়ে রে’ পুলিশ, সেনাবাহিনী। আর সঙ্গে সঙ্গেই সব দোকানের শাটার নামতে শুরু করে। মুহূর্তেই সব দোকান বন্ধ করে দোকানের ভেতরেই চুপিসারে অবস্থান করে ক্রেতা ও বিক্রেতারা।তাছাড়াও  শহরের  রিস্কার জ্যাম আর তাতে উপস্থিত মানুষের হাতে শপিং ব্যাগ দেখেই বুঝা যাচ্ছে ঈদ শপিং বাদ দিচ্ছেন না তারা।ব্যাংক গুলাতেও মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মত।মসজিদ রোড

হঠাৎ পুলিশ আসছে এমন খবরে সবাই পালালো। আসলে পুলিশ আসেনি। যখন বুঝল এটি মিথ্যা, তখনি আবার দোকানদাররা দোকানের শাটারের এক সাইড টেনে ক্রেতা ডাকতে শুরু করে। এমন লুকোচুরি হকার মার্কেট  সহ আসপাশের মার্কেট গুলার নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দোকানীরা কখনও শাটার খুলে কখনও শাটার নামিয়ে লুকোচুরি করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর প্রতিদিন ভিড় করছে শত শত ক্রেতা। যেখানে নেই কোনো সামাজিক দূরত্বের বালাই। তাছাড়া বেশির ভাগ মানুষের মুখে নেই মাস্ক। শিশুরাও ভিড় করছে। যা অত্যন্ত ভয়ানক।

ভোর রাত থেকে সাটার খোলে শুরু হয় তাদের বেচা কিনা কিন্তু বেলা গড়িয়ে সকাল ৯-১০টা থেকে আস্তে আস্তে নামতে থাকে সাটার কিন্তু বেচা কিনা চলে সারাদিন ই।

মার্কেট কমিটির অনেকেই জানান, আমরা প্রসাশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মার্কেট বন্ধের জন্য মাইকিং করেছি। প্রশাসন এ বিষয়ে নজর রাখছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আমাদেরকে তোয়াক্কা না করে প্রশাসনকে বৃদ্ধা আংগুলি দেখিয়ে দোকানপাট খোলা রাখছে।

এবিষয়ে সমবায় মার্কেট সভাপতি রকিবুল হাসান বলেন, শহরের বিভিন্ন মার্কেটে ম্যাজিস্ট্রেট এসেছে এবং দোকানদারদেরকে দোকান বন্ধ রাখার জন্য বলে গেলেও তারা চলে যাওয়ার পর আবার সকল দোকানে দেদারছেই চলছে বেছাকেনা। ম্যাজিস্ট্রেট যদি প্রতিটি দোকানি ও ক্রেতাকে জেল জরিমানা করতেন তাহলে দোকানি ও ক্রেতা ভয় পেত বলে আমি মনে করি।

ডিসি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইডি থেকে জানান,গতকাল ১৬ মে ২০২০ শনিবার , করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়নে ব্রাক্ষণবাড়িয়া শহরসহ ০৯ টি উপজেলায় সরকারি নির্দেশাবলী ভঙ্গ করে ব‍্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা, বিনা কারণে বাইরে ঘুরে বেড়ানো এবং সামাজিক দূরত্ব না মেনে গণজমায়েত করার অপরাধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ৭৭ জন ব্যক্তিকে সর্বমোট ২,২৪,৫০০/- টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ব্যাপারে সদর  থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, আমাদের পুলিশ প্রতিটি মার্কেটে গিয়ে দোকানপাট বন্ধ রাখার জন্য বলে আসলেও দোকানিরা তা মানছেনা।এই বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী কমিটি ও সচেতন জনগণ জোরালো উদ্দ্যেগ নিলে হয়তো দোকানপাট বন্ধ রাখা সম্ভব হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।