ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা পরিষদ থেকে দেয়া সুহিলপুর কবরস্থান সংস্কার এর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

২ জুন, ২০২০ : ৯:০৪ অপরাহ্ণ ১৭২৫

আসাদুজ্জামান আসাদঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ থেকে সুহিলপুর মুসলিমপাড়া (পূর্বপাড়া) কবরস্থান সংস্কার জন্য দেয়া টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে আমির হোসেন নামে এক ব্যাক্তির উপর ।

জানু বেগম নামে এক নারী এই অভিযোগ করে তেপান্তর কে জানান,আমার শুশুর এর দান করা কবরস্থান সংস্কার এর জন্য জেলা পরিষদ থেকে ২লাখ টাকা অনুদান এনে মাত্র ৯৭হাজার টাকার কাজ করে এই এলাকার আমির হোসেন।কিন্তু প্রথমে এই তথ্য গোপন করে আমির হোসেন আমাদের জানান তিনি ৯০হাজার টাকা অনুদান পেয়ে কবর সংস্কার এর কাজ শুরু করেন। কাজ শেষে আমাদের কাছে আরো ৭হাজার টাকা দাবী করে।কাজ শেষ করতে তার ৯৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এই কথা বলে।
কিন্তু এখন কবর স্থানে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে যে ২লাখ টাকা জেলা পরিষদ থেকে এনে কাজ করেছে।সে প্রতারণা করে এই টাকাআত্মসাতের চেষ্টা করেছে।

মোঃজহিরুল ইসলাম এই ব্যপারে তার ফেইবুক ওয়ালে লিখেন,সুহিলপুর মুসলিম পারা(পূর্বপাড়া) ঢুকতেই ছোট একটা গোরস্থান। এই গোরস্থান মেরামতের জন্য ২লাখ টাকা বরাদ্ধ আসে জেলা পরিষদ হতে কিন্তু ৯০হাজার টাকার ও কাজ হয় নাই।

এই ব্যপারে সুহিলপুরের স্থানীয় বাসিন্দা টিপু খান তেপান্তর কে জানান,আমি এই কবরস্থান এর জায়গা দান করা চাঁন মিয়ার নাতি জহিরুল থেকে এই ব্যপারে জানতে পেরে খুঁজ খবর নিয়ে দেখেছি। আমির হোসেন প্রতারণা করে গোরস্থানের মেরামতের টাকা আত্মসাত করেছে।আবার গোরস্থানের জায়গা দান করা পরিবারকে অতিরিক্ত ৭হাজার টাকা দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।আমির হোসেন এবং জেলা পরিষদে কাজ করা তার ভাগিনা রহিম এই প্রতারণায় ভাগিদার।তারা জেলা পরিষদ থেকে ২লাখ টাকা তুলে নিজেরাই আত্মসাত করেছে।এবং এলাকাবাসী থেকে টাকা নিয়ে তাদের ভাষ্যমতে ৯৭হাজার টাকার কাজ করেছে।

ছবি অভিযুক্ত আমির হোসেন

এই ব্যাপারে আমির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,এই কাজ জেলা পরিষদ থেকে ওই কবরস্থানের মালিক হোসেন মিয়া এনেছে।আমি তার কাছ থেকে নিয়ে কাজ করছি।আমি এখনও কাজের বিল জমা দেয় নাই।টাকা চাওয়া বা ৯৭হাজার টাকার কাজ করেছি ব্যপারটি ভূয়া।আমি প্রায় দেড় লাখ টাকার কাজ করেছি।আমি কারো কাছে টাকা চেয়েছি তার প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না।

এই ব্যাপারে হোসেন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,আমি কাজ আনি নাই।এই কাজ রহিম এনেছে।তারা গোরস্তানের নামে একাউন্ট করে সেই একাউন্টে ৯৬ হাজার টাকা জমা রাখে এবং তার থেকে কাজ করে।এই ব্যাপারে আমি আর কিছুই জানি না।

এই ব্যাপার সরজমিনে খোঁজ নিতে গেলে উত্তর সুহিলপুরের নজরুল ইসলাম তেপান্তর কে জানান,আমাদের উত্তর সুহিলপুর গোরস্হানে জেলা পরিষদ থেকে যে ২ লাখ টাকা দিয়েছে।২ লাখ এর মাঝে ২১০০০টাকা সরকারি ভ্যাট আর কিছু টাকা খরচ দিতে হয়েছে ,। আমাদের কমিটি ১লাখ ৭৯ হাজার টাকা পেয়েছে,এবং এই টাকার সাথে আরো কিছু টাকা এলাকা থেকে তুলে সুন্দর ভাবে কাজ সম্পাদন করতেছে।কিন্তু এই কবরস্থান তো অনেক ছোট এখানে এত টাকার কাজ হয়নি তা দেখেই বুঝা যায়।
এলাকাবাসী থেকে আরো জানা যায়,আমির হোসেন আগে পুলিশের সোর্স ছিল এখন র‍্যাবের সোর্স হিসেবে পরিচিত।এলাকায় বিভিন্ন সময় মানুষকে এই নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকে।তার ভাগিনা রহিম জেলা পরিষদে চাকরি করে।সেই সুবাদে কবরস্থান মেরামতের জন্য জেলা পরিষদ থেকে টাকা তুলে নিজেরাই আত্মসাত করেছে।করবস্থানটি খুব ছোট এখানে বর্তমানে এত টাকার কাজ হয়নি বলেও জানান তারা।

জেলা পরিষদে কাজ করা রহিম মিয়ার সাথে অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।