লেখালেখি করায় নাসিরনগরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুই সাংবাদিক গ্রেফতার, জামিন নামঞ্জুর

৪ জুন, ২০২০ : ২:৫৮ অপরাহ্ণ ৯৪৭

আসাদুজ্জামান আসাদ: জেলার নাসিরনগর উপজেলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুই সাংবাদিক গ্রেফতার হয়েছেন। গত ৩১ মে নাসিরনগর সদর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে গত ৩ জুন আদালতে তাদের জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলে দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি মিহির দেব ও ক্রাইম রিপোর্টার নিহারেন্দু চক্রবর্তী। এর মধ্যে করোনা ভাইরাস নিয়ে ফেইসবুকে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মিহিরের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করে। এবং ফেইসবুকে মানহানিকর স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে নিহারেন্দুর বিরুদ্ধে মামলা করেন নাসিরনগরের একটি কলেজের প্রভাষক। মামলা দুটির মধ্যেই পুলিশ সদস্যরা সাক্ষী হয়েছেন। মিহিরের মামলায় ২ জন এএসআই ও দুইজন কনস্টেবল আর নিহারেন্দুর মামলায় দুইজন এএসআই। এই দুই এএসআই হলেন ইমাম হাসান ও মহিউদ্দিন। এই দুই এএসআই আবার একই ভাবে দুটি মামলাতেই সাক্ষী হয়েছেন।
তবে ২ সাংবাদিকের এই গ্রেফতারের বিষয়ে নাসিরনগর প্রেসক্লাব নিরব ভূমিকা পালন করছে। এমনকি পুলিশের এজহারে তারা সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ্য থাকলেও পত্রিকায় প্রকাশিত কোন খবরে গ্রেফতারকৃতদের সাংবাদিক হিসেবে কোথাও বলা হয়নি।মিহির দেব এর মামলার এজহারে সাংবাদিক উল্লেখ্য

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল মিহির তার ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন যে, ” মকবুলপুর গ্রামের মালয়েশিয়া ফেরত প্রবাসী শাহ আলমের করোনার কারনে মৃত্যু হয়নি, তার মৃত্যু হয়েছে অন্য কারনে”।
পুলিশ মামলার এজাহারে লিখেন, এই স্ট্যাটাসের কারনে মানুষ লকডাউন ভেঙ্গে চলাচল শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের সমস্যা হয়। এই স্ট্যাটাসের দ্বাড়া মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ে।
এজন্য নাসিরনগর থানার এস আই রফিকুল ইসলাম এই মামলা করেন।

অপর দিকে ২৩ এপ্রিল নিহারেন্দু চক্রবর্তীর দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নাসিরনগর সরকারি কলেজের প্রভাষক পার্থ প্রিতম সোম’র মানহানি হয়। এজন্য পার্থ নিহারেন্দুর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

নিহারেন্দুর মামলার এজহার

এবিষয়ে গত ২৩ এপ্রিল নিহারেন্দু তার ফেইসবুক আইডিতে লিখেন, ” পার্থ প্রতীম সোমের বিরুদ্ধে ধর্ষন ও চাকুরি দেয়ার নামে ঘুষ গ্রহণের দুইটি অভিযোগ এর ব্যপারে আমি লেখালেখি করায় এবং দুটি ঘটনার স্বাক্ষী প্রমাণ আমার কাছে থাকায় পার্থ বাবু প্রতিশোধ মূলক ভাবে আমার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন”।

এই ব্যপারে নাসিরনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সুজিত চক্রবর্তীর কাছে জানতে চাইলে তিনি তেপান্তর কে জানান,সাংবাদিক শব্দটা অনেক বড় মাপের। তারা দুইজনই সাংবাদিকতায় নতুন এবং তারা প্রেস ক্লাবের সদস্যও নয়।দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার আইডিকার্ডধারী ছিল তারা,তবে তাদের সংবাদ পত্রিকার পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেই বেশি প্রকাশ করত। তারা আমাদের কাছে আসেনি কখনো কাজ শিখার জন্য। তারা বুঝে না বুঝে মানুষের নামে নেতিবাচক নিউজ করত।এ নিয়ে বিভিন্ন সময় ঝামেলায় পড়লেও আমাদের অবগত করেনি।আমাদের জানালে বা আমাদের কাছে আসলে আমরা অবশ্যই তাদের জন্য চেষ্টা করতাম।তারা দুইজনই কাউকে পরয়োয়া করতো না।

  • 797
    Shares