বিজয়নগরে প্রতিদিন বেচা-কেনা হচ্ছে প্রায় কোটি টাকার লিচু

৫ জুন, ২০২০ : ৬:০১ অপরাহ্ণ ৩৯১

এস এম টিপু চৌধুরী, বিজয়নগর থেকে: ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগরে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন বেচা-কেনা হচ্ছে প্রায় কোটি টাকার লিচু। দেশের অন্যান্য জায়গায় এপ্রিল মাসের মধ্যবর্তী সময়ে লিচুর ফলন হলেও বিজয়নগর উপজেলায় মে-মাসের প্রথম দিকে লিচু বাজারে আসে। এখানকার লিচু মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় সারা দেশেই এর কদরও রয়েছে। করোনা প্রার্দুভাবের ফলে এবার উপজেলায় লিচুর বাম্পার ফলনেও তেমন হাসি নেই চাষি ও বাগান মহাজনদেন মাঝে। তাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন চাষিরা।

উপজেলার আউলিয়া বাজার, সিংগারবিল, হরষপুর, চান্দুরা, বিষ্ণুপুর, ছতরপুর, আজমপুর, চম্পকনগর বাজারে বিক্রি হয় অধিকাংশ লিচু। এসব বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নরসিংদী, ভৈরব, নোয়াখালী, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, ফেনী ও রাজধানীর ব্যবসায়ীরা পায়কারী দরে লিচু কিনে নিয়ে যান। উপজেলার সবচেয়ে বড় লিচু বাজার পাহাড়পুর ইউনিয়নের আউলিয়া বাজার। এলাকাবাসী ও চাষীরা জানান, আউলিয়া বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৮০-৯০ লাখ টাকার লিচু বেচাকেনা হতো। কিন্তু করোনার কারনে এইবার একটু কম হলেও বেচাকেনা ভালই বলছেন তারা। গভীর রাতে চাষিরা ও বাগানের মাহাজনেরা লিচু নিয়ে বাজারে যান। ভোর রাত চারটা থেকে শুরু হয়ে সকাল আটটা থেকে নয়টার মধ্যেই বেচা-কেনা শেষ হয়ে যায়। উপজেলার প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতে একটি করে লিচু গাছ আছে। যাদের বাড়িতেই একটু জায়গা আছে, তারা প্রত্যেকেই বাড়িতে লিচু গাছ লাগান।

উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, কাঞ্চনপুর, খাটিঙ্গা, কাশিমপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর, আদমপুর, কালাছড়া, মেরাশানী, সেজামুড়া, কামাল মোড়া, নুরপুর, হরষপুর, মুকুন্দপুর, নোয়াগাঁও, অলিপুর, চান্দপুর, কাশিনগর, ছতুরপুর, রূপা, শান্তামোড়া, কামালপুর, কচুয়ামোড়া, ভিটিদাউপুর এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক লিচুর বাগান রয়েছে। এসব বাগানে দেশী লিচু, এলাচি লিচু, চায়না লিচু, পাটনাই লিচু ও বোম্বাই লিচু জন্মে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৩ সালের আগে থেকে বিজয়নগর উপজেলায় লিচুর কেনাবেচা শুরু হয়। কম শ্রমে বেশি লাভ হয় বলে ধানি জমিগুলোকেও লিচু বাগানে রূপান্তর করেছেন চাষীরা। লিচুর ফলন হওয়ার পর থেকে কয়েক দফায় বাগান বিক্রি হয়। এর মধ্যে গাছে মুকুল ও গুটি আসে প্রথম দফায় গাছ কিনেন স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলার মহাজনরা। গাছে মুকুল ও গুটি একটু বড় হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় গাছ বিক্রি হয়। লিচু ছোট আকার ধারণ করলে তৃতীয় দফায় বিক্রি হয়। লিচু বড় আকার ধারণ করলে চতুর্থ দফায় বিক্রি হয়।

বিজয়নগর উপজেলার আউলিয়া বাজারে চাষীদের ভিড় রয়েছে লক্ষ্যণীয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাষিদের আগমনও বাড়তে থাকে। ব্যবসায়িরা জানান, এই বাজারে প্রতি হাজার দেশী লিচু দেড় হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা, প্রতি হাজার এলাচি ও চায়না লিচু ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা, পাটনাই ও বোম্বাই লিচু ২ হাজার ২০০ থেকে ২৫০০ শ” টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করোনা না থাকলে দাম আরো একটু বাড়তি থাকতো বলেও জানান তারা। হবিগঞ্জের ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন জানায়, তিনদিন ধরে তিনি এ বাজারে আসছেন। প্রতিদিন তিনি গড়ে প্রায় লাখ টাকার উপরে লিচু কিনেন। করোনার কারনে গাড়ী নিয়ে আসতে সমস্যা হয়। গাড়ী নিয়ে আসতে হলে রাস্তায় পুলিশকে বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিয়ে আসতে হয়। লাভ একটু কম হলেও এখানকার লিচু অনেক ভালো ও মিষ্টি হওয়ায় চাহিদা থাকে বেশি। আউলিয়া বাজারে ইজারার দায়িত্বে থাকা জসিম উদ্দিন মনা বলেন, প্রশাসন থেকে বাজারটি ডেকে নিয়েছি। তাই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় কিন্তু অনান্য বছর থেকে এই বছর করোনার কারনে যে যত দিচ্ছে ততোই নিচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খিজির হোসেন বলেন,এবছর উপজেলাতে ৩৭০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে যা গতবছর থেকে ২০ হেক্টর বেশি। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগীতাসহ সার, কীটনাশক দিচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহের নিগার বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনাবলি দেওয়া আছে যেন কোন ব্যবসায়ীদেরকে হয়রানি না করা হয়। পুলিশ ব্যবসায়ীদের গাড়ী থেকে যদি টাকা নিয়ে থাকে বাজারের ইজিরার দায়ীত্বে থাকা ব্যক্তি বা যারা হয়রানি হয়েছেন তারা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • 905
    Shares