মাতৃত্বকালীন ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ নবীনগরের ইউপি সদস্য মুক্তা বেগমের বিরুদ্ধে

৬ জুন, ২০২০ : ১২:৫৮ অপরাহ্ণ ৭১০

মোঃ সফর মিয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৪,৫,৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মুক্তা বেগমের বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন অনিয়মের এর অভিযোগ উঠেছে।মাতৃত্বকালিন ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত নয় এমন বেশ কয়েকজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করে সোনালী ব্যাংক নবীনগর শাখা থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ তালিকায় অন্তভুর্ক্ত ব্যাক্তিরা ব্যাংক থেকে টাকা নেননি এবং ওই টাকা সম্পর্কে অবগতই ছিলেন না।

জানা গেছে, গত ২৪ মে শিবপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুপা আক্তারের স্বামী মোজাম্মেল হক লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও স্ত্রীর মাতৃত্বকালীন ভাতার ২২ হাজার টাকা পেয়ে ওই অভিযোগে পুনরায় প্রত্যাহার করেন মোজাম্মেল। ৪, ৫ ও ৬নং সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মুক্তা বেগম এর বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন ভাতা আত্মসাতের এই অভিযোগ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এলাকাবাসীর মুখে মুখে।

মাতৃত্বকালীন ভাতা পাবেন না এইরকম মহিলাদের নাম অন্তভুর্ক্ত করেছেন, অথচ তারা নিজেরাও জানেন না যে, মাতৃত্বকালীন ভাতার ওই তালিকায় তাদের নাম দেয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংক নবীনগর শাখা থেকে ওই মহিলা মেম্বার মুক্তা বেগম স্বাক্ষর জাল করে এই টাকা উত্তোলন করেছেন। এছাড়াও এলাকায় সরকারি ড্রাম বিতরণ নিয়েও মুক্তা বেগম এর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।

এ ব্যাপারে স্থানীয় মোজাম্মেল এর পিতা আব্দুর রব বলেন, আমার ছেলে অভিযোগ করার পর আল্লাহর কুদরতে ওই গায়েবী টাকা মহিলা মেম্বার মুক্তা বেগম আমাদের বাড়িতে এসে ভাতার ২২ হাজার টাকা দিয়ে গেছে এবং পরদিন আমার ছেলেকে সাথে নিয়ে গিয়ে অভিযোগ তুলে আনে। এ ব্যাপারে স্থানীয় শেখ খানের স্ত্রী রিনা বেগম বলেন অভিযোগ করার পর মহিলা মেম্বার মুক্তা বেগম আমাদের বাড়িতে এসে ভাতার ২২ হাজার টাকা দিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে আরেক স্থানীয় জহুর মিয়ার স্ত্রী শাপলা বেগম বলেন, অভিযোগ দেয়ার পর মহিলা মেম্বার ভাতার টাকা নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসে, আমরা এই ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত নই বিধায় আমরা ওই টাকা ফিরিয়ে দেই।

৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক সামসু মিয়া বলেন, এই পর্যন্ত যতজন টাকা উত্তোলন করছে তার কেউ গর্ভবতী না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সকল ভালো কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি কুচক্রীমহল এই ধরনের কাজ করে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে কনিকাড়া গ্রামের সন্তান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সরকার বলেন, করোনায় অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্টকে লাঘব করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মহতি উদ্যোগকে নস্যাৎ করতেই এই রকম কাজ করা হচ্ছে বলে আমার ধারণা। তিনি আরো বলেন, এরকম অভিযোগ নজির বিহীন। এ ঘটনার সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মহিলা মেম্বার মুক্তা বেগম বলেন, ৭জন নয় ৪জনের টাকাই আমি তাদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।