নবীনগরে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার বাদীকে এসিড নিক্ষেপে মেরে ফেলার হুমকি

১৫ জুন, ২০২০ : ৩:৪৭ অপরাহ্ণ ৬১৪

মোঃ সফর মিয়া,নবীনগর: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কথামত কাজ না করলে ধর্ষণ মামলার বাদিকে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে ও তার পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে অপহরণকারিরা। এসব অভিযোগ করে নিজের পরিবার নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অপহরণ হওয়া ওই ছাত্রীর মা মোসাম্মৎ শিল্পী আক্তার।

সোমবার(১৫/০৬) স্থানীয় প্রেসক্লাবে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে এ সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী আক্তার বলেন, অপহরণকারি রসুল্লাবাদ গ্রামের আঃ রউফ মিয়ার ছেলে রিয়াদুল ইসলাম শান্ত আমার নাবালিকা মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আটকিয়ে রাখে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ আমার মেয়েকে উদ্ধার করতে ওই গ্রামে অভিযান চালালে শান্ত আমার মেয়েকে নিয়ে অন্যত্র লুকিয়ে রাখে। পুলিশ আমার মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে এই খবর পেয়ে রিয়াদুল ইসলাম শান্ত ও তার বড় ভাই ফারহান বর্ষণ বাবুল আমার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি ধমকি দিয়ে তাদের ইচ্ছেমতো শিখানো কথা আমার মেয়েকে দিয়ে বলাতে বাধ্য করে। সেই কথার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে। যার ফলে আমার মেয়ে ও আমার পরিবার সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি এবং তাদের কাছে আটক থাকার সময় আমার মেয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন সাদা কাগজসহ কয়েকটি খালি ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে বলে আমার মেয়ে আমাকে জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়েকে উদ্ধারের পর অপহরণকারির ভাই বাবুল ও তার সহযোগীরা আমাকে বলেন তাদের কথামত কাজ না করলে আমাকে ও আমার মেয়েকে এসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দিবে এবং আমার পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় ভীতি দেখালে আমি আতংকিত হয়ে তাদের শিখানো কথা বলতে বাধ্য হই। আমি মামলা করতে চাই না, পুলিশ জোর করে মামলা করিয়েছে এগুলি তাদের শিখানো কথা। আমি ওই সময় এ কথা না বললে আমার ক্ষতি হতো, বাধ্য হয়ে এ কথা বলেছি।

আমার মেয়েকে খুঁজে বের করায় আমি পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অপহৃতার ফুফাতো ভাই নূরে আলম সাংবাদিকদের বলেন, হুমকিদাতা শান্ত’র বড় ভাই বাবুল একজন প্রতারক ও চাদাঁবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। বিগত দিনে সুনামগঞ্জে ভুয়া ডিবি পুলিশ সেঁজে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং প্রতারণা করে চতুর্থ বিয়ে করতে গিয়েও সে গ্রেপ্তার হন। বাবুল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার বাড়িখলা গ্রামের ওই শিক্ষার্থী লাউর ফতেহপুর আর.এন.টি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রী গত ৮জুন সকালে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর শুক্রবার নবীনগর পৌর এলাকার শেখ রাসেল স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ওই স্কুল ছাত্রীসহ শান্তকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিল্পী আক্তার বাদী হয়ে নবীনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে আটক হওয়া শান্ত জেল হাজতে রয়েছে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।