অভিনব কায়দায় অপহরণ হওয়া কিশোরকে উদ্ধার করলেন এস আই রফিকুল

১৫ জুন, ২০২০ : ৯:৩১ অপরাহ্ণ ১৫৯৭

মোঃ রেজাউল: চাকরি দেওয়ার কথা বলে অপহরণ করা এক কিশোরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে অভিনব কায়দায় উদ্ধার করলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার এস আই রফিকুল ইসলাম। গত ৩ জুন তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই কিশোরের নাম আব্দুল হাসিম মিয়া (১৪), তিনি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তিনগাও গ্রামের ইসমাঈল মিয়ার ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় চাকরির কথা বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উজেলার সুহিলপুরের তেলীনগর গ্রামের তাসলিমা আক্তার হাসি (২৪) হাসিমকে নিয়ে আসে। কিন্তু হাসি তাকে ঢাকায় না নিয়ে হাসির বাবার বাড়ি তেলীনগরে এনে হাসিমকে আটক করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবী করে। আটক হাসিমকে দিয়ে তার বাবার কাছে ফোন করিয়ে টাকা চাইলে ঘটনা জানাজানি হয়। তখন হাসিম তার বাবাকে বলেন, টাকা না দিলে তাকে খুন করে মাটির নিচে পুতে ফেলার হুমকি দিয়েছে হাসি। তাই দ্রুত অপহরণকারীদের টাকা দেওয়ার জন্য হাসিম তার বাবাকে অনুরোধ করেন। এঘটনায় ওইদিন রাতেই হাসিমের বাবা ইসমাঈল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় এজাহার জমা দেন। ওইদিন রাতেই থানার ওসি সেলিমের নির্দেশনায় এস আই রফিকুল ইসলাম কিশোর উদ্ধারে অভিযানে নামেন।

তখন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা হাসিমকে সাথে নিয়ে সটকে পরে। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘাট এলাকায় মৃত সামসু মিয়ার ছেলে মুহিত ও আনোয়ারা বেগম (৩০) এর শুয়ার ঘরের একটি ছোট্ট রুমে তালাবদ্ধ অবস্থায় আব্দুল হাসিম মিয়াকে পুলিশ উদ্ধার করেন।

আব্দুল হাসিম মিয়া উদ্ধারের পর জানান, ২ জুন সকাল ১০টার সময় ঢাকা যাওয়ার জন্য সরাইল উপজেলার খাটিহাতা বিশ্বরোড মোড়ে এসে পৌঁছলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে উত পেতে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অন্তর্গত সুহিলপুর তেলিপাড়ার মোঃ আব্দুল কাদের মুন্সি, তাসলিমা আক্তার হাসিসহ আরো ৬/৭ জন ক্ষমতা প্রয়োগ করে সুকৌশলে জনসম্মুখে থেকে নিকট আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তাকে অপহরণ করে সুহিলপুর তেলিপাড়ার তাসলিমা আক্তার হাসি তার বাবার বাড়িতে নিয়ে যায়। এবং শারীরিক নির্যাতন করেন। আব্দুল হাসিম মিয়াকে একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করে এবং তার বাবার কাছে থেকে ৫০হাজার টাকা আনতে বলে নতুবা তাকে খুন করে মাটিতে পুতে ফেলবে।

এঘটনায় হাসিসহ সকল আসামীকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এস আই মোঃ রফিকুল ইসলাম তার পূর্ব কর্মস্থল চাঁদপুরের শাহরাস্তি থানায়ও বিভিন্ন জটিল ও কঠিন ৫০ টির অধিক অভিযোগ অবিচক্ষণতার সাথে কাজ করে নিষ্পত্তি করেছেন। গৌরবের সাথে কাজ করে এলাকার জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।