অধ্যক্ষকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে কলেজ থেকে বরখাস্তের ষড়যন্ত্র চেয়ারম্যানের,থানায় জিডি

১৬ জুন, ২০২০ : ২:৫৫ অপরাহ্ণ ১৩৮৮

আসাদুজ্জামান আসাদঃ সরাইল উপজেলার  শাহবাজপুরে প্রতিষ্ঠিত তিতাস মডেল কলেজের সভাপতির বিরুদ্ধে অধ্যক্ষকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে কলেজে গমন হতে বিরত রেখে হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখিয়ে বরখাস্ত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। গত ১১ই জুন এই মর্মে সরাইল থানায় জিডি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত সভাপতি রাজিব আহমেদ রাজ্জি শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও কলেজের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ পন্থায় মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।তাছাও গত ০৭ই জানুয়ারি শাহবাজপুর তিতাস মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ এ.কে.এম রমজান আলীকেই মারধর এর অভিযোগে চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা(জি.আর.নং-১১/২০২০) করা হয়েছিল। যা নিয়ে তেপান্তর সহ জাতীয় সকল পত্র-পত্রিকায় প্রচুর লেখালেখি হয়েছিল।ছবি-অধ্যক্ষকে মারধর নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজ।

জিডি তে উল্লেখ্য আছে যে, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে অধ্যাক্ষ রমজান আলী ও স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় তিতাস মডেল কলেজ। প্রতিষ্ঠায় ব্যয় হয়েছে ৩০-৩৫ লাখ টাকা। ১০ জন শিক্ষক-কর্মচারী ও ৬৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে যাত্রা শুরু করে কলেজটি। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান রাজিব আহমেদ। কলেজের জন্য শাহবাজপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি টাকা অনুদান উত্তোলন করেছেন সভাপতি। কোনো টাকা কলেজের হিসাবে জমা দেননি। উনার হাতেই খরচ করেছেন। গত জানুয়ারিতে এ বিষয়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে পরামর্শ সভা বসে। সভায় অধ্যক্ষ সভাপতির কাছে উত্তোলিত অনুদানের টাকার পরিমাণ ও খরচের বিষয়টির হিসাব-নিকাশের প্রস্তাব দেন। এতে করে তারা দু’জনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে রাজিব আহমেদ, ফায়জুল হক ও রোমান মিলে অধ্যক্ষকে মারধর করতে থাকেন। যার প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ মামলা করেন সভাপতি রাজীব সহ মারধর করা সবার নামে।মামলা করার পর থেকেই চেয়ারম্যান রাজীব তার সন্ত্রাস বাহিনী দিয়ে প্রতিনিয়ত অধ্যাক্ষকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।প্রান নাশের ভয় দেখিয়ে কলেজে গমন করতে না দিয়ে,হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখিয়ে তাকে বহিষ্কার করার ষড়যন্ত্র করছেন বলে জানিয়ে তার প্রতিকার প্রার্থনা করেন।ছবি-তিতাস মডেল কলেজ।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ রমজান আলী তেপান্তর কে জানান, কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমি নগদ ৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা দিয়েছি। রাজিব আহমেদ কলেজ প্রতিষ্ঠার কথা বলে বিভিন্নভাবে এক কোটি তিরিশ লাখ টাকা অনুদান উত্তোলন করেছেন। ওই টাকার আংশিক অংশ নিজের নামে দিয়েই উনি অংশীদার হতে চাচ্ছেন। টাকার হিসাব চাওয়ায় উনার তিনজন ভাড়াটিয়া ও আরও কয়েকজন মিলে দরজা লাগিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে কলেজ থেকে বের করে দিয়েছেল।যার প্রেক্ষিতে আমি একটি মামলাও করেছি,যা এখনো চলমান।এরপর থেকে আমি আর কলেজে যেতে পারছি না।তার সন্ত্রাস বাহিনী প্রতিনিয়ত আমি কলেজে গেলে আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এবং আমার কাছে ১০লাখ টাকাও চাঁদা দাবি করছে।আমরা ৫জন মিলে কলেজের পার্টনার হিসেবে চুক্তি করেছিলাম।এখন আমার বাড়ি সুহিলপুর এবং তাদের বাড়ি শাহবাজপুর হওয়ায় এবং আমি তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাকে কলেজ থেকে বরখাস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে।এমনকি আমাকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রণোদনা থেকে ও বঞ্চিত করেছে।ছবি-অধ্যক্ষ সহ পাঁচজনের কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিপত্র।

এ ব্যপারে সভাপতি রাজিব আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি তেপান্তর কে বলেন,আমরা অধ্যাক্ষকে কলেজ থেকে বের করে দেয়নি।আর ওনাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে বা ১০ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার ব্যাপারটাও মিথ্যা।ওনি কলেজে কেন আসছে না তার জন্য উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।আর ওনি কলেজে আসছেন না বিধায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এর নাম দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রনোদনার জন্য।
তিনি আরো বলেন, অধ্যক্ষ রমজান আলী কলেজের ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন। অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ভালো হয়নি বিদায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য বসেছিলাম। ১কোটি ৩০ লক্ষ টাকা অনুদান সংগ্রহ করেছি এবং এ নিয়ে আলোচনায় বসা হয়েছিল মর্মে ওনার করা অভিযোগটিও মিথ্যা এবং বানোয়াট।

জিডির তদন্তকারী এস আই মোঃজাহাঙ্গীর তেপান্তর কে জানান,অধ্যাক্ষের করা অভিযোগ কোর্টে পাঠানো হয়েছে,কোর্ট থেকে তদন্তের নির্দেশ আসলে তদন্ত করা হবে।

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাজমুল আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের কাজ প্রক্রিয়াধীন। সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নিব।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।