স্বাস্থবিধি উপেক্ষা করে প্রশিক্ষণ কর্মশালা,সমালোচনার ঝড়

১৬ জুন, ২০২০ : ৯:৪৮ অপরাহ্ণ ১৪৪৬

কাজী আশরাফুল ইসলাম: করোনা মহামারিতে সকল প্রকার সভা সমাবেশ সরকারিভাবে নিষেদ হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে সাংবাদিকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নামক এক কর্মশালা হয়েছে। যেখানে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখা হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে। কর্মশালার আয়োজকদের এমন কান্ডজ্ঞানহীন কার্যকলাপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনেক সাংবাদিক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সোমবার পথিক টিভি নামক একটি অনলাইন টিভির উদ্যোগে শহরের গ্র‍্যান্ড এ মালেক চাইনিজ রেষ্টুরেন্টের কনভেনশন হলে এই প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী চলা এ কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারী নবাগত সাংবাদিকদেরকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। একটি অনলাইন চ্যানেল কর্তৃক প্রদত্ত এই সার্টিফিকেটের গুরুত্ব, কার্যকারিতা ও মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সময়ে সামাজিক দুরুত্ব না মেনে মাস্কবিহীন অবস্থায় ছবি তুলতেও দেখা গেছে অনেককে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

দৈনিক দেশ রুপান্তরের জেলা প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক মনির হোসেন তার ফেইসবুক ওয়ালে লিখেন,”গণমাধ্যম নাম দিলেই কী সামাজিক দুরুত্ব লঙ্ঘন করা যাবে? সম্মানী ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা কী এধরণের আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পারেন?ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে কী সভা সমাবেশ করার নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়া হয়েছে?”

আরেক সিনিয়র সাংবাদিক মোশারফ হোসেন বেলাল তার ফেইসবুক ওয়ালে লিখেন, “সাংবাদিক তৈরির কারখানার প্রোপাইটর কে? সারাদিন শুধু হলুদ আর হলুদ সাংবাদিক বললাম।” এনিয়ে সমালোচনা মুখর হয়েছেন সব সাংবাদিকরা।

জেলার সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশিষ্ট শিশু সংগঠক নিয়াজ মুহম্মদ খান বিটু এবিষয়ে ফেসবুকে দেয়া এক পোষ্টে লিখেছেন,হলুদ সাংবাদিক বানানোর প্রোপ্রাইটার হচ্ছে জাতিরজনকের খুনি ফারুক রশিদের ফ্রিডম পার্টির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির কো-অর্ডিনেটর। হালে তিনি সাংবাদিক। তিনিই হচ্ছেন হলুদ সাংবাদিক তৈরীর মূলহোতা । নতুনপ্রজন্ম ও হোটেল ব্যবসায়ী মালেককে দোষ দিয়ে লাভ নেই। মালেকের টাকা আছে, হাতে উঠার জন্য চেষ্টাতো করবেই? কিন্ত কিছুু সিনিয়র সাংবাদিক যারা হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কথা বলেন,তিনি কিভাবে গেলেন, এই সময়ে করোনাভাইরাসে দেশ, সেখানে ওনার যাওয়াটা ঠিক হয় ? এভাবেই হলুদ সাংবাদিক তৈরী হয়। আসলে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষন ব্যবস্হা যে প্রতিষ্টান করেছেন ,তারাতো ফ্রিডম পার্টির নেতা কে জানেন না ?

এদিকে পথিক টিভির নির্বাহী সম্পাদক বানানো হয়েছে এ মালেক গ্রুপের মালিক আব্দুল মালেককে। একজন ব্যবসায়ী যার কিনা অতীতে সাংবাদিকতার কোন অভিজ্ঞতা নেই এমন একজন লোককে কিভাবে একটি সংবাদ মাধ্যমের নির্বাহী সম্পাদক বানানো হয়েছে এনিয়েও প্রশ্ন অনেকের। অনেকে মনে করছেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্যই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে নির্বাহী সম্পাদক বানানো হয়েছে। তাই পথিক টিভির মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেন অনেকে।

মেড্ডা এলাকার মাঈনুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বলেন,পথিক টিভিতে প্রকৃত সংবাদ বলতে কিছু দেখা যায়না। এখানে শুধু রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নিউজ বেশি প্রাধান্য পায়। এছাড়াও তারা কিছুদিন পর পর শহরের বিভিন্ন কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠান করেন। একটি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে কয়দিন পর পর এমন অনুষ্ঠান আমাদের সমাজে কতটুকু প্রয়োজন আছে তা আমার বোধগম্য নয়। এই অনুষ্ঠানের পিছনে অন্য কোন উদ্যেশ্য আছে কিনা প্রশাসনের উচিৎ তা খতিয়ে দেখা।

করোনাকালে এধরণের জনসমাগম করা উচিত কিনা এবং প্রশিক্ষণ পরবর্তী প্রদত্ত সার্টিফিকেট কতটা বৈধ জানতে চাইলে কর্মশালার আয়োজক, সঞ্চালক ও পথিক টিভির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক লিটন হোসাইন জিহাদ তেপান্তরকে বলেন,” এই অনুষ্ঠানটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থবিধি মেনেই অনুষ্ঠান পরিচালনা হয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ ট্রেনিং প্রোগ্রামের জন্য অনুমতি লাগে না। যারা ছিল সবাই বিভিন্নভাবে পথিক টিভির সাথে যুক্ত।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।