অবৈধ গ্যাস সিন্ডিকেটের প্রতারণায় কেন্দুবাড়িতে হাহাকার

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ : ৬:৩৯ অপরাহ্ণ ১৩১৮

সীমান্ত খোকন: সংযোগ প্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে গ্যাস সংযোগ নেন গ্রামের লোকজন। সব ঠিক-ঠাকই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন। কাটা পরে সব অবৈধ লাইন। গ্রামে শুরু হয় হাহাকার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সুহিলপুর ইউপির কেন্দুবাড়ি গ্রামের ঘটনা এটি।
গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে বৈধ বলে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকারও বেশি। গ্রামের মানুষ বলছে ১৭০ টিরও বেশি লাইন। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের হিসেবে ৫০০০ ফুটের বেশি অবৈধ গ্যাস লাইন কাটা হয়েছে কেন্দুবাড়ি গ্রামে।
লাইন কেটে ফেলার পর কেন্দুবাড়ি গ্রামের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, লাইন কেটে ফেলার পর ঠিকাদাররা পুনরায় লাইনও দিচ্ছেনা আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেনা।
এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লেখালেখিও হয়েছে। ‘কবির খান’ নামে একটি ফেইসবুক আইডির পোষ্টে সুহিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আঙ্গুর হাজারিকে দায়ী করা হয়েছে। সেই পোষ্টে লিখা হয়েছে, সদর উপজেলা যুবলীগের সিনিয়ন সহ-সভাপতি ও সুহিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আঙ্গুর হাজারি গ্রামের সহজ-সরল লোকদেরকে অবৈধ গ্যাস লাইন দিয়ে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

অবৈধ গ্যাস লাইনের সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে ফেইসবুক স্ট্যাটাস

যদিও এ বিষয়ে একবার প্রতারিত এলাকাবাসী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেওয়ার জন্য গিয়েছিল, কিন্তু কেন্দুবাড়ি গ্রামের সর্দার-মাতব্বরগণ তাদের বুঝিয়ে অভিযোগ না করতে দিয়ে গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। তবে গ্যাস লাইন প্রদানকারি সিন্ডিকেট প্রভাবশালী হওয়ায় ভুক্তভোগীরা সরাসরি তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে কথা বলেছেন কেন্দুবাড়ি গ্রামের বেশ কয়েকজন লোক। তারা জানান, চেয়ারম্যান আঙ্গুর হাজারির সহযোগীতায় কেন্দুবাড়ির মজনু মিয়ার ছেলে প্রভাষক হানিফ মুন্সি,রাহেল ও পাবেলসহ আরো বেশ কয়েকজন ব্যাক্তি এই গ্যাস সংযোগ দিয়েছেন। তারা একটি সিন্ডিকেট।
তারা আরো জানান, সিন্ডিকেটের একজন ব্যাক্তি গ্যাস লাইন প্রার্থীর কাছে একটি স্ট্যাম্প এনে দেখান। সেখানে লিখা ছিল কোন প্রক্রিয়ার কখন কত টাকা দিয়ে গ্যাস লাইন নিতে হবে। এছাড়াও হবিগঞ্জের এক গ্যাস লাইনের বিল বই এখানে দেখিয়েও প্রতারণা করা হয়েছে। এলাকাবাসী যখন তাদের কাছে জানতে চাইলো কার অনুমতিতে গ্যাস লাইন দেওয়া হচ্ছে, তখন আঙ্গুর চেয়ারম্যানকে নিয়ে মিলে-মিশে কাজটি করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। অনেকে সুদে টাকা এনে গ্যাস লাইন এনেছেন। কিন্তু গ্যাস লাইন কেটে দেওয়ায় তারা মহা বিপদে আছেন বলে দাবী ভুক্তভোগীদের। গ্যাস লাইন নিয়ে নিজের পায়ে নিজে কোড়াল মেরেছে ও এর মাধ্যমে নিজেরা প্রতারকের পাল্লায় পরেছেন বলেও বলছেন ভোক্তভোগীরা।

কেন্দুবাড়িতে গ্যাস লাইন কাটার ফাইল ছবি।

এবিষয়ে অভিয্ক্তু রাহেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি শুধু শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। টাকা পয়সা বা কোন প্রকার লেনদেনের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
বক্তব্য জানার জন্য অভিয্ক্তু হানিফ মুন্সির মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে অভিয্ক্তু সুহিলপুর ইউপির চেয়ারম্যান আঙ্গুর হাজারির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। আমার চৌদ্দ গোষ্টির মধ্যে কেউ এই কাজ করেনি, তবে আমি তিতাস গ্যাসের ঠিকাদার।
এবিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিজিএম জাহিদুল রেজা কোন বক্তব্য দেননি। তিনি জানান, তার উপর মহলের নিষেধের কারনে তিনি কোন মিডিয়াতে কথা বলতে পারছেন না।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।