করোনায় ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, দোষ স্বীকার কর্তৃপক্ষের

১৯ জুন, ২০২০ : ৪:১৭ অপরাহ্ণ ৫১৪১

আসাদুজ্জামান আসাদঃ করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক।তবে অভিযোগের বিষয়টি শিকার করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকরা কয়েক মাসের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। গত কয়েক মাসের তুলনায় গত মে মাসের বিদ্যুৎ বিলে টাকার পরিমাণ অনেক বেশি বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকার আলমগীর মিয়া অভিযোগ করে বলেন, এবার বিদ্যুৎ বিলের মিটার রিডিং না দেখেই বিল করা হয়েছে। এতে অনুমান নির্ভর বিল করে আমাদের পূর্বের বিলের হিসেবে বিল দেয়া হয়েছে। আবার মিটারের ইউনিট হিসেব করে দেখা যায়, আমাদের প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল আসে ১১-১৩০০ এমন কিছু কিন্তু এবার বিল আসলো ৩০০০+ টাকা। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যা পরিশোধ করা আমাদের জন্য এখন কষ্টদায়ক।

মেড্ডা এলাকার আরেকজন গ্রাহক প্রবির দেব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, কারেন্ট বিল এপ্রিল মাস ৫৪২ এবং মার্চ ৩১৭ টাকা। মে মাসের সহ এখন তিন মাসের বিল ১০৩৬৫ টাকা। করোনাতে মনে হয় বিদ্যুৎ বিভাগ পজিটিভ আসছে।ছবি-প্রবির দেব এর বিদ্যুৎ বিল

মধ্যপাড়ার আনোয়ার হোসেন তেপান্তর কে জানান,আমার নতুন বাড়ির জন্য বিদ্যুৎ বিলের সংযোগ এনে রেখেছিলাম কিন্তু বাড়ি প্রস্তুত না হওয়ায় মিটার লাগানো হয় নাই।তবু আমার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২২হাজার টাকা।যা পরে ৬হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে কুমিল্লা থেকে কমিয়ে এনেছি।

পাইকপাড়ার শামসুন্নাহার অভিযোগ করে তেপান্তর কে বলেন,গত মার্চ মাসে ৩৭০ টাকা,এপ্রিল মাসে ৪৪০ কিন্তু মে মাস সহ তিন মাসের বিল এসেছে ৪৬০০টাকা।করোনার কারণে যেখানে খাবার সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য হচ্ছে সেখানে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেয়া কিভাবে সম্ভব।এইটাতো আমাদের মতো মধ্যভিত্তদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে।

আশুগঞ্জ উপজেলার সাথী আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান,আমার বাড়িতে প্রতি মাসে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে।কিন্তু এইবার গত মে মাসের বিল সহ একত্রে ৩মাসের বিদ্যুৎ বিল ৪২০০ টাকা এসেছে।শুধু আমার ই না আমাদের আশেপাশের সবার ই মোটামুটি একি অবস্থা। এই ভৌতিক বিল পেয়ে আমরা অভাক।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী হেফজুল বারী তেপান্তর কে জানান,করোনাভাইরাসের কারণে এবার এমনটা হতে পারে।আগামী জুন মাসে বিল স্বাভাবিক আসবে। যে মাসের বিল বেশি আসছে সেই মাসের বিল পরের মাসের সাথে সামঞ্জপূর্ণ করে সমান করা হবে। এতে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সব আগের মতই চলবে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আঃহান্নান তেপান্তর কে বলেন, আমাদের সিষ্টেম অনলাইন ভিত্তিক করা হয়েছে।এ ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।কেউ যদি মিটার না দেখে বিল করে থাকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব।তবে করোনার কারনে গত ৩মাসের বিল একসাথে হওয়ায় কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে।যাদের মিটার এর সাথে বিদ্যুৎ বিলের সামঞ্জস্যতা নেই তারা সরাসরি অফিসে চলে এলে সমস্যার সমাধান করে দেয়া হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।