ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনজিওর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের চাপ দিয়ে কিস্তি আদায়ের অভিযোগ

২০ জুন, ২০২০ : ৫:০০ অপরাহ্ণ ১৪০৯

আসাদুজ্জামান আসাদঃ করোনা সংকটে সরকারের নির্দেশে বন্ধ থাকা ক্ষুদ্র ঋনের কিস্তি আদায় কার্যক্রম শুরু করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এনজিও। ঋণ আদায়ের পুনরায় সুস্পস্ট নির্দেশ না পেলেও কর্মী পাঠিয়ে এবং ফোনের মাধ্যমে কিস্তি দেওয়ার জন্য ঋণ গ্রহীতাদের তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। কোন কোন এনজিও ঋণ আদায়ও করছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও স্বভাবিক না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতারা। তারা বলছেন আয় রোজাগার না হলে আমরা কিভাবে কিস্তি দেব।

মাইক্রোক্রেডিট অথরিটির ও সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং সমবায় সমিতির অনুমোদন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ৪৫টি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।এদের ঋণ গ্রহীতারা মূলত রিকশা-ভ্যান চালক, চায়ের দোকানদার, সবজি বিক্রেতা, ফেরিওয়ালা, দিন মজুরের মত একবোরেই নিম্ন আয়ের লোকজন। প্রতিদিনের আয় থেকে কিছুট বাঁচিয়ে সপ্তাহের কিস্তি পরিশোধ করেন।কিন্তু এখনও জনজিবন স্বাভাবিক না হওয়ায় তাদের জন্য কিস্তি পরিশোধ করাটা কষ্টসাধ্য।এ অবস্থায় এনজিওকর্মীদের বিরুদ্ধে ঋণগ্রহীতাদের হুমকি দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মুন্নী আক্তার বলেন, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম বছর খানেক আগে। যার ১২টি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে (মার্চ মাস পর্যন্ত)। কয়েকদিন আগে ব্র্যাকের কিস্তি আদায়কারী কর্মকর্তা ফোন দিয়ে অফিসে গিয়ে কিস্তি পরিশোধ করতে বলেন। আমার স্বামী মালয়েশিয়া থাকেন। সেখানে করোনার কারণে গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন। তার কোনো আয়-ইনকাম নেই। সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি। এমন সময়ে কিভাবে কিস্তির টাকা পরিশোধ করবো?

রিকশাচালক জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, এই ক্রান্তিকালেও প্রতি সপ্তাহে এক হাজার টাকা করে এনজিওর ঋণের কিস্তি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে আয় নেই। তাই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত এনজিওর কিস্তি কীভাবে পরিশোধ করব, তা বুঝতে পারছি না।এনজিওর লোকজন বাড়ি এসে খারাপ ব্যবহার করছে প্রতিনিয়ত।

নাটাই গ্রামের ঝিনুক বেগম বলেন,ঘর তুলার জন্য এনজিও থেকে টাকা তুলে ছিলাম।প্রতিনিয়ত আমরা সেই টাকার কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলাম।আমার স্বামী নেই,করোনার কারনে আমার দুই ছেলে বেকার বাড়িতে বসা ছিল এতদিন।তাই আমাদের ঠিকভাবে খাবার ব্যবস্থা করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে কিস্তির টাকা কিভাবে পরিশোধ করব।কিন্তু এনজিও লোকেরা যেভাবে হুমকি এবং চাপ দিচ্ছে।এখন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় দেখছি না।

তিনি আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতির শুরুতে পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখির পর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে কিছু দিন কিস্তি আদায় বন্ধ রাখলেও জুনের শুরুতে সরকারি ছুটি উঠিয়ে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এনজিওগুলো মরিয়া হয়ে উঠেছে কিস্তি আদায়ের জন্য। তারা তাদের মাঠকর্মীদের ঋণের টাকা আদায়ের জন্য মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। আর মাঠকর্মীরাও চাকরি বাঁচাতে কিস্তির টাকার জন্য গ্রাহকদের নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন এবং নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এনজিওকর্মী বলেন, অফিস খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যানেজার কিস্তির টাকা নেয়ার জন্য বলেছেন। এ কারণে আমরা কিস্তির টাকা পরিশোধ করার জন্য এনজিওর সদস্যদের চাপ দিতে বাধ্য হচ্ছি।

বে-সরকারি এনজিও স্বনির্ভর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী পরিচালক এস এম শাহিন তেপান্তর কে বলেন- আমরা অনুমতি পেয়ে ই মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের কিস্তি আদায় করতে বলেছি।মাইক্রোক্রেডিট অথরিটির নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাউকে কিস্তি প্রদানের জন্য চাপ দিচ্ছি না,যারা দিতে পারছে তাদের থেকেই আদায় করছি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া তেপান্তর কে জানান, তারা মাইক্রোক্রেডিট অথরিটির কাছ থেকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে তবে তারা কাউকে জোর করতে পারে না। অন্যদিকে লকডাউন এলাকায় এনজিও এর সমস্ত ধরণের কার্যক্রম লকডাউন মেয়াদ শেষ না হওয়া অবধি স্থগিত থাকবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।