নবীনগরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

৩ জুলাই, ২০২০ : ৩:১৮ অপরাহ্ণ ৫৪৭

মোঃ সফর মিয়া,নবীনগর: জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের দীর্ঘসাইর গ্রামে লকডাউনের মাঝে একটি লীজকৃত দিঘির মাছ উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার কয়েকজন সাক্ষী জানেই না তারা ওই মামলার সাক্ষী।

উক্ত দিঘির সাব লিজকারী ব্যক্তি উপজেলার কনিকাড়া গ্রামের মো. হান্নান মিয়া পূর্ব শত্রুতার জেরে দীর্ঘসাইর গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক সবুজ মিয়া ও নান্টু মিয়াকে বিবাদী করে মাছ উত্তোলনে বাধাঁ,মারধর এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার মিথ্যা গল্প বানিয়ে হয়রানির উদ্দেশ্যে একটি মামলা দায়ের করেন। অথচ এই মামলার দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির হোসেন বাবুল ও মেম্বার মো. মোশারফ মিয়া জানেনই না তাদেরকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হয়েও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে মামলার সাক্ষী করায় বাদীর প্রতি বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্বয়ং চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার(০২.০৭) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় হান্নান মিয়া প্রায় ৩০জন লোক নিয়ে গাড়িসহ মাছ ধরতে দীর্ঘসাইর গ্রামে ঢুকে। লকডাউনের সময় এই বিশাল বহরের লোক দেখে গ্রামের যুবসমাজ তাদের বাধাঁ দেয়। এ সময় সবুজ মিয়া ও নান্টু মিয়া উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এ খবর পেয়ে গ্রামের মেম্বার মোশারফ মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। লিজকারীদের মাছ ধরার প্রয়োজনীয়তা উপলব্দি করে মেম্বার রাতের মধ্যেই মাছ ধরে চলে যাওয়ার শর্তে অনুমতি দিয়ে গ্রামের যুবসমাজকে যার যার বাড়িতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে সকলে যার যার বাড়িতে চলে যায় এবং হান্নান মিয়া রাতের মধ্যে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনার দুইমাস পর গত ১৪জুন ওই দুইজনকে আসামী করে নবীনগর থানায় একটি মামলা করেন হান্নান মিয়া। মামলার বিবরণে বলা হয়, সবুজ ও নান্টু মিয়া তাদের মারধর করে শরীরে নীলা ফুলা জখম ঘটায় এবং সাথে থাকা ১,৮৬,০০০/= টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
গ্রামের মো. আউলাদ মিয়া, মীর জাকারিয়া, মো.স্বপন মিয়া, মীর আবুল কাশেম, আবদুল আজিজ, মোশারফ মেম্বার,কুদ্দুছ মিয়াসহ অনেক মুরব্বীরা জানায়, লকডাউন থাকায় তাদের বাধাঁ দেওয়া হয়েছিল,কিছু কথা কাটাকাটি ছাড়া আর কিছুই হয়নি। শুধু শুধু মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানী করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় মেম্বার মোশারফ মিয়া বলেন, বাধাঁ দেওয়ার ঘটনায় আমার মধ্যস্থতায় তারা মাছ ধরে নিয়ে যায়, সে সময় তারা মারামারি টাকা নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কিছুই বলেনি বা উপস্থিত কারোর কাছ থেকে এ ধরনের কথা শুনিনি। পরে আমাকে মারামারি ও টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনা জানানো হয়। এ বিষয়ে কোন প্রকার সালিশ দরবারের আপোষ মিমাংশার কোন পদক্ষেপ আমি জানি না বা কোন দায়িত্ব আমার ছিল না, মামলা বিষয়ে আমি জানিনা, সাক্ষী করা হয়েছে সেটাও আমি অবগত নই ।

এ ব্যাপারে শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির হোসেন বাবুল বাদীর প্রতি বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন,মাছ ধরার ঘটনার পরেরদিন হান্নান আমাকে আমার বাড়িতে এসে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অবগত করে যায়,কিন্তু টাকা নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা জানায়নি,এতদিন পর মামলা হয়েছে আমাকে মামলার স্বাক্ষী করা হয়েছে আমি অবগত নই।

এ ব্যাপারে কথা বলতে মামলার বাদী মো.হান্নান মিয়া’র ০১৯৫৬৫৫৯৭৭৪ মোবাইল নাম্বারে বার বার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে উক্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই শফিকুল ইসলাম রাজা বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।