নবীনগরে একটি খুনের ঘটনায় সাহেবনগর গ্রামবাসী আতংকিত

৭ জুলাই, ২০২০ : ১:৩৬ অপরাহ্ণ ৪৯৮

মোঃ সফর মিয়া,নবীনগর: জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামে গত ৩ জুন পুকুরের মাছ ধরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাহেবনগর গ্রামের রিপন মিয়া ও নান্নু মিয়া গ্রুপের লোকজনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ছুড়া গুলির আঘাতে গুরুতর আহত হানিফ মিয়া ৩০ জুন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। হানিফ মিয়ার মৃত্যুর খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে পাল্টে যায় গ্রামের চিত্র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে গ্রামে বসানো হয়েছে পুলিশি পাহারা। এ অবস্থায় সাহেবনগর গ্রামের সাধারণ মানুষজন এখন আতংকে রয়েছে।

গ্রেপ্তার এড়াতে আসামী পক্ষের পুরুষ লোকজন গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই সুযোগে ঘটছে লুটপাট, হুমকি ধামকি ও মারধরের ঘটনা। লুটপাটের ভয়ে কেউ কেউ বাড়িঘর তালা দিয়ে পুলিশের অনুমতি নিয়ে ঘরের মালামালসহ অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

লুটপাটের অভিযোগ এনে বারেক মিয়ার স্ত্রী কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকের বলেন, বি-দলের লোকজন গভীর রাতে আমার ঘরে জোর পূর্বক প্রবেশ করে আমাদের হাত পা বেঁধে ঘরের সকল মালামাল নিয়ে গেছে।

বারেক মিয়ার মা বৃদ্ধা ফজরের নেছা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার পুতের ঘরের সব কিছু লুট করে নিয়া গেছে। ডামের চাইলও নিয়া গেছে। আমাদের গ্রামে আরো বাড়িতে লুটপাট অইছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নারী জানান, প্রতিপক্ষের হামলা ও পুলিশের ভয়ে বাড়িতে পুরুষ লোক না থাকায় আমরা চরম আতংকে আছি, রাত হলে আমাদের চোখে ভয়ে ঘুম আসে না। কখন যে আমাদের উপর আক্রমন হয়ে যায়, সেই ভয় ও আতংকে কাটে প্রতিটা রাত।অস্ত্র দেখিয়ে আমাদের কাছে চাঁদা দাবী করে অশালীন ভাষায় গালমন্দ ও দিনে রাতে বাড়িতে এসে মহরা দিচ্ছে রিপন ও আতিক মেম্বারের লোকজন।

অভিযোগ অস্বীকার করে রিপন মিয়া বলেন, কারও বাড়িতে হামলা, লুটপাট কিংবা কাউকে হুমকি ধামকি দেওয়া হয়নি। হানিফ মিয়া মারা যাওয়ার পর থেকে গ্রামে নতুন করে আর কোন অশান্তি যেন তৈরি না হয় সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। গ্রামে পুলিশ মোতায়েন ও আমাদের নিজস্ব পাহারা রয়েছে। আসামী পক্ষের কিছু লোকজন পুলিশের অনুমতি নিয়ে নিজেরাই তাদের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। মহিলাদের হুমকি ও গালমন্দ করার প্রশ্নেই আসেনা। মহিলাদের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। আমাদের ঘরেও স্ত্রী-কন্যা রয়েছে, তাদের মতোই সবাইকে সম্মান করা হচ্ছে এবং প্রতিপক্ষের প্রতিটি পরিবারের কাছে আমার মোবাইল নাম্বার দিয়ে রেখেছি, দিন হোক আর রাত হোক, কারও বাড়িতে কোন সমস্যা হলে আমাকে জানানোর জন্য। অথচ কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরির চেষ্টা করছে।

ওই গ্রামের ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান বলেন, আমার গ্রামে লুটপাট হওয়ার কোন ঘটনা ঘটেছে বলে আমি শুনি নাই। তবে কিছু লোকজন পুলিশের অনুমতি নিয়ে তাদের বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নিতে চাইছে, পুলিশের সাথে আমি নিজে তাতে সহযোগিতা করছি। ইদন মিয়াকে মারধোরের খবর পেয়ে আমি তাকে দেখতে গিয়ে ছিলাম,তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না।

এ ব্যাপারে নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেন বলেন, সাহেবনগর গ্রামের শান্তি বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।