ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের ক্লিনিক প্রীতি

৯ জুলাই, ২০২০ : ১:২২ অপরাহ্ণ ১৫১৪

আসাদুজ্জামান আসাদ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে কিছুসংখ্যক অর্থলোভী চিকিৎসক ও প্রাইভেট হাসপাতালের দালালদের কারনে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, এমন অভিযোগ উঠেছে সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু দিনের পর দিন এভাবে চলার পরও এর কোন সুরাহা কেন হচ্ছেনা এই প্রশ্ন এখন মানুষের মনে।

সরকারি হাসপাতালে নাম মাত্র খরচে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছে সরকার। কিন্তু কিছু চিকিৎসক আছেন, যারা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে সরকারি ডিউটির সময় বেসরকারি হাসপাতালে ছুটে বেড়ান। এর সত্যতা পাওয়া গেল ২৫০শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে।

গত তিনদিন সরকারি ডিউটির সময় হাসপাতালের দুতলায় ২১২নং কক্ষে গিয়ে পাওয়া যায়নি নবজাতক ও শিশু রোগ চিকিৎসক আক্তার হোসাইনকে। দুপুর পৌনে একটার দিকে কক্ষে থাকা তার সহযোগী টিপু জানান, ডা. আক্তার হোসেইন শিশু ওয়ার্ড রাউন্ডে গেছেন এক ঘন্টা আগে। সহযোগীর দেওয়া তথ্য মতে হাসপাতালের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে গিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওই ওয়ার্ডের নার্স ও রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসক আক্তার হোসেইন বেলা ১১টার দিকে ওয়ার্ড পরিদর্শন করে চলে গেছেন।এর আগে বেলা ১২টার দিকে শিশু চিকিৎসক ডাঃ আক্তার হোসেইনকে সরকারি হাসপাতালে ডিউটি ফেলে হাসপাতালের সামনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঢুকতে দেখা যায়।
এর আধা ঘন্টা পর ওই হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে তিনি কুমারশীল মোড়ে আরও একটি হাসপাতালে ঢুকে রোগী দেখা শুরু করেন। অথচ এই সময় সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ২১২নং কক্ষের সামনে চিকিৎসকের জন্য সাধারণ রোগীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা যায় মঙ্গলবার (৭জুন) দুপুরেও।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে বহিঃবিভাগের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও। হাসপাতালের বহিঃবিভাগের ১০৯/এ কক্ষের দুই অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক ডাঃ খান রিয়াজ মাহমুদ জিকো ও ডাঃ মোঃ সোলাইমানের বিরুদ্ধে রোগীদের রয়েছে একাধিক অভিযোগ। একজন দালালের মাধ্যমে রোগী প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠান। অন্যজন নিজের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন৷

সুলতানপুর গ্রামের সালমা আক্তার সহ কয়েকজন রোগী অভিযোগ করে বলেন, সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে ডাঃ মোঃ সোলাইমান ভিজিটিং কার্ড দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ব্যবস্থাপনা দিবেন বলেন এবং পরিক্ষা-নিরিক্ষা জন্য দালাল দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

এদিকে ডাঃ খান রিয়াজ মাহমুদ জিকো সদর হাসপাতালে আসা রোগীকে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে ভুল চিকিৎসা দেয়ার কারনে রোগীর ক্ষতি হয়েছে দাবি করেছেন এক রোগীর অভিভাবক আব্দুল কালাম। গত ২৫-০৬-২০২০ইং ওই ব্যক্তি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে চিকিৎসক আক্তার হোসেইন বলেন, আমি ওয়ার্ড রাউন্ড দিয়ে এই মাত্র বের হয়েছি। আছি হাসপাতালের আশেপাশেই আছি। আবার হাসপাতালে আসব, আমার একটা কাজ আছে। তিনি বলেন, গত ৬জুলাই সিরিয়াস রোগী ছিল তাই বের হয়েছিলাম। মাঠে আমি একাই আছি। অনেক চিকিৎসক নেই, সদরে ও বাইরে আমিই দেখছি রোগী। এটা অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তবে অফিস টাইমে বাইরে যাওয়া উচিৎ না।

ডাঃ মোঃ সোলাইমান তেপান্তর কে বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলা মিথ্যা।কেউ সরাসরি এসে অভিযোগ করতে বলুন।যদি প্রমাণ থাকে তবে তত্ত্বাবধায়ক স্যারের অভিযোগ জানাতে বলেন।সদরে আমি আসার পর থেকে প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছি।প্রতিদিন ২টা অব্দি ডিউটি করছি।আমাকে বদনাম করার জন্যই একটি চক্র প্রতিনিয়ত মিথ্যা অভিযোগ রটিয়ে যাচ্ছে।ডাক্তার রিয়াজ মাহমুদ জিকোর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ এর ব্যপারটি সত্য বলে তিনি বলেন,ওনার বিরুদ্ধে এছাড়াও আরো অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

ডাঃ খান রিয়াজ মাহমুদ জিকোর কাছে অভিযোগ এর ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি তেপান্তর কে জানান,লিখিত অভিযোগ এর ব্যপারে আমি কিছুই জানিনা।যদি এমন হয়ে থাকে তবে এইটা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট অভিযোগ।

২৫০শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শওকত হোসেন বলেন, আমরা সরকারি অফিস সময়ে চিকিৎসকদের হাসপাতালে বাইরে চিকিৎসা দিতে নিষেধ করেছি। যদি কেউ ডিউটি ফেলে বাইরে রোগী দেখেন, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরোও বলেন, ডাঃ খান রিয়াজ মাহমুদ জিকো ও ডাঃ মোঃ সোলাইমান এর ব্যাপারটি আমরা দেখবো।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।