নবীনগরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি

১৩ জুলাই, ২০২০ : ৫:৩৯ অপরাহ্ণ ৫৬১

মোঃ সফর মিয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসদর বড় বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশের উপজেলা কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে ফায়ার সার্ভিস এর সদস্যরা আসার আগেই ভয়াবহ সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে স্থানীয় লোকজন।

সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নবীনগর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মনির হোসেন এর তিন তলা ভবনের নিচতলার মোহন হার্ডওয়ারের দোকানে ধুপ বাতির আগুন থেকে ওই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
দোকানের ভিতরে রং ও স্প্রিট জাতীয় দাহ্য পদার্থ থাকায় মুহুর্তের মধ্যে আগুন পুরো দোকান গ্রাস করে ফেলে। ধীরে ধীরে আগুনের লেলিহান শিখা বিরাট আকার ধারণ করে। ফলে আশপাশের কয়েকশ মানুষ জমায়েত হয় এবং দাড়িয়ে দাড়িয়ে শুধু আগুনে পুরে যাওয়ার দৃশ্য অবোলকন করেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনে ধারণ করতে থাকেন। প্রায় ২ ঘন্টা স্থায়ী হওয়া ওই আগুন প্রাথমিক ভাবে নিয়ন্ত্রনে আনতে স্থানীয় কিছু যুবক নিজের জীবন বাজি রেখে ঝাপিয়ে পড়ে। ড্রেজারের পাইপের মাধ্যমে পাশের নদী থেকে পানির ব্যবস্থা করে আগুন নিভাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন তারা এবং পরবর্তীতে সফল হয়েছেন।
পাশের উপজেলা কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আসার আগেই স্থানীয় ওই যুবকদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে।

ভয়াবহ এই অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে পৌরসভার মেয়র এড. শিব শংকর দাস, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম, নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেন, ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর, আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন, ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মাওলানা মেহেদী হাসান সহ অনেকেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থানরত গ্রামীণ ফোনের সত্তাধিকারী শাকিল রেজা বলেন, গতকালের ওই আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে শুধু মাত্র স্থানীয় কিছু যুবক তাদের জীবন বাজি রেখে কাজ করে গেছেন। যা সত্যিই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি সামনে থেকে তাদের সাথে কাজ করেছি এবং দেখেছি।

ভয়াবহ এই অগ্নিকান্ডের বিষয়ে ভবনের মালিক ও বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মো. মনির হোসেন বলেন, আমার বিল্ডিং এর নিচ তলার মোহন হার্ডওয়্যার দোকানটিতে সন্ধ্যায় ধুপ বাতি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে ওই দোকানে থাকা অনেক মালামাল পুরে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশংকা করছি এবং আমার বিল্ডিং এর যে ক্ষতি হয়েছে তাও প্রায় ২৫ লাখ টাকার মতো হবে।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বলেন, আশা করছি আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে আমাদের ফায়ার সার্ভিস এর কার্যক্রম চালু করতে পারবো।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া পৌর মেয়র এড. শিব সংকর দাস বলেন, আজকের এই ঘটনাটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা আমাদের পৌরসভার জনবল দিয়ে চেষ্টা করছি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।