নামমাত্র কংক্রিট ও বালির সাথে মাটি মিশিয়ে রাস্তা নির্মান আর এস কনস্ট্রাকশনের

১৪ জুলাই, ২০২০ : ৪:৩৭ অপরাহ্ণ ৫৮৪

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উজেলার চান্দিয়ারা-ফিশিং ফার্ম” রাস্তাটি নির্মানের কাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকার সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধি এই অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ, প্রথমে রাস্তা তৈরির জন্য রাস্তার মাটি কেটে যে বক্স তৈরি করা হয়েছে পরবর্তীতে সেই মাটি বালির সাথে মিশিয়ে রাস্তাতেই দেওয়া হয়েছে। শুধু অভিযোগ নয়, রাস্তায় বালির সাথে মাটি মিশানোর একটি ভিডিও তেপান্তরের হাতে আছে। এছাড়াও এক নম্বর ইটের কংক্রিটের বদলে দুই নম্বর ও তিন নম্বর ইটের কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে। এলাকাবাসী আরো বলেছেন, রাস্তায় দুই ও তিন নম্বর ইটের কংক্রিট ব্যবহার করলেও রাস্তার পাশে লোক দেখানোর জন্য কিছু এক নম্বর ইট রেখে দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে মজলিশপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ হারেজ জানান, অর্ধেক-অর্ধেক পরিমানে কংক্রিট ও বালি দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে নামমাত্র কংক্রিট দেওয়া হয়েছে। এই রাস্তা নির্মানে ব্যপক অনিয়ম হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে এর সুষ্ঠু সুরাহা চান এই মেম্বার।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী এই প্রতিবেদককে জানান, কাজের ঠিকাদারের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে হওয়ায় তিনি আমাদের ভয়-ভীতি দেখায় যেন আমরা এই অনিয়মের প্রতিবাদ না করি। তারা বলেন, বক্স কেটে যেই মাটি গুলো তোলা হয়েছে সেই মাটিগুলো কোথায়? প্রশ্ন এলাকাবাসীর।

মৈন্দ গ্রামের তাজুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তার তদারকির দায়ীত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার কখনো রাস্তার কাজ পরিদর্শন করার জন্য আসেনি।

মৈন্দ পশ্চিম পাড়া এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে রহমত খা জানান, রাস্তার বক্স খোড়ার সময় দেড় ফুট গভীর করে খোড়ে সেই মাটি আবার বালির সাথে মিশিয়ে রাস্তায় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানেও রাস্তা খোড়লে মাটি পাওয়া যাবে।

এবিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আর এস কনস্ট্রাকশনের স্বত্তাধিকারী সোহেল তেপান্তরকে জানান, কাজে কোন অনিয়ম হয়নি। এছাড়া বালির সাথে মাটি মিশানোর কোন প্রশ্নই আসেনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন তেপান্তরকে বলেন, অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে আমরা ঠিকাদারকে চিঠি পাঠিয়েছি এবং মৌখিক ভাবে বলে দিয়েছি রাস্তার কাজের ত্রুটি সংশোধন করার জন্য।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।