অর্থের লোভে অনুমোদনহীন করোনা টেষ্ট করিয়ে ফেঁসে গেলেন ডাঃ আবু সাঈদ

১৫ জুলাই, ২০২০ : ৩:০৯ অপরাহ্ণ ৩৩৬১

আসাদুজ্জামান আসাদঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা টেষ্টের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার একটি লাইসেন্স বিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার কতৃক সংগ্রহ করা কিছু নমুনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ এর মাধ্যমে টেষ্ট করানো হয়।টেষ্টের সেই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে প্রশ্ন উঠে।এ বিষয়টি কেন্দ্র করে পাবনার রূপপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তোলপাড় শুরু হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে অবস্থিত মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো অনুমোদন নেই। তা সত্ত্বেও পাবনা সিভিল সার্জন অফিসের অনুমতি না নিয়েই কিংবা ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে না জানিয়েই  করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য মেডিকেয়ারকে ‘নমুনা’ সংগ্রহের অনুমতি দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। গত ১৭ জুন কলেজটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্রে এ অনুমতি দেওয়া হয়।সরকারি অনুমোদন না নিয়ে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করার অভিযোগে মেডিকেয়ারের মালিক আবদুল ওহাব রানাকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য বেরিয়ে আসে।

গত বুধবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাঈদ ও রানার সহযোগী সুজন আহমেদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মামলা হয়।

মামলার বাদী ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফিরোজ হোসেন মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে গত ৬ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজে জমা দেওয়া হয়। মেডিকেয়ারের মালিক রানা করোনা পরীক্ষা করাতে জনপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা নিতেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের শ্রমিক-কর্মকর্তাদের নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রকল্প এলাকার পাশেই একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার মাঠে তাঁবু টানিয়ে বুথ স্থাপন করেন তিনি।

নমুনা দানকারীদের মেডিকেয়ার ক্লিনিকের পক্ষ থেকে জানানো হতো, সংগ্রহ করা নমুনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা হবে। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসত অনলাইনে। সেই কপি প্রিন্ট করে দেওয়া হতো। রিপোর্টগুলোতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে চেয়ারম্যান ডা. আবু সাইদের স্বাক্ষর আছে।

নিয়ম অনুযায়ী, নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট দেওয়ার কথা সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর। সিভিল সার্জনের অনুমতি সাপেক্ষে নমুনা নির্ধারিত পিসিআর ল্যাবে যাবে। রিপোর্টও সিভিল সার্জন কার্যালয় কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু এসব নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করেই রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের পরিচালক অবৈধভাবে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে  জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. মো. আবু সাঈদ তেপান্তর কে বলেন,আমাদের কাছে বিভিন্ন জায়গায় থেকে রুগি আসে যাদের করোনা পরীক্ষা আমরা করছি।তেমনিভাবে ওইখান থেকে নমুনা আসার পর পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিয়েছি যথাযথ প্রসিডিউর এর মাধ্যমে। পাবনার মেডি কেয়ার এর অনুমোদন নেই এবং তাদের অনৈতিক কাজের জন্য আমরা দায়ী না।
তিনি আরো বলেন,আমার কাছে ঈশ্বরদি থানা থেকে ফোন এসেছে এবং ওনারা আমার কাছে জানতে চেয়েছে আমরা পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিয়েছি কিনা।
এরপর থেকে ওনারা আমার সাথে আর কোন যোগাযোগ করেননি।আমি আমার মেডিকেলেই আছি,যদি আমাদের কোন ভূল-ত্রুটি থাকে ওনারা যোগাযোগ করলে আমরা তার উত্তর দিতে প্রস্তুত।
তাছাড়া পিসিআর ল্যাবের প্রধান প্রফেসর জাকিউর রহমান এবং সমন্বয়কারী ডা. মো. আতিকুর রহমান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।